আলী আহসান রবি : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়া সত্ত্বেও বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ায় ‘সমালোচনার’ জবাব দিয়েছেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি, শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এর আগেও ২২ জন মন্ত্রী বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন, আমি আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করিনি।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তবর্তী সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে গেল বছরের ২৬ অগাস্ট বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়, এরপর বিষয়টি নানারকম আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়, তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বেও রয়েছেন।
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিমানকে ‘লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার’ দাবি করে বশিরউদ্দীন বলেন, “এর আগে ২২ জন মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন, ষআমি ২৩তম, প্রধানমন্ত্রীও বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন, এখানে তো আইনের কোনো বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘিত হয়নি। সো আপনি যদি এই একটা জায়গায় নেইল ডাউন করেন আমাকে, তাহলে আমরা ফ্যাসাদ তৈরি করার জন্য অনেক আলোচনা করতে পারি।
“কিন্তু আপনি যদি এইটা বলেন যে, এর বিনিময়ে বিমানে কী অর্জিত হয়েছে। বিমান একটা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে এবং আমরা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রূটে ২০ হাজার টাকায় টিকেট বিক্রি করছি, এর ফলে বিমান অতিরিক্ত ১২০ কোটি টাকার মুনাফা করল, এটা কি সেলিব্রেশনের পয়েন্ট হতে পারে না?”
সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ প্রকাশিত ‘দ্য লর্ড অব উইংস’ নামে একটি প্রতিবেদন নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “আমাকে নাম দিয়েছে ‘দ্য লর্ড অব উইংস’, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওনারা জানেন না হেলিকপ্টারের কোনো উইংস হয় না। আমার একটা হেলিকপ্টার আছে। আর আমার হেলিকপ্টার আমি কালকে কিনি নাই, আমি হেলিকপ্টার কিনেছি ১৪ বছর আগে। ১৪ বছর ধরে আমি এই হেলিকপ্টারটা ফ্লাই করি।”
নিয়ম মেনেই তিনি হেলিকপ্টার পরিচালনার ‘সনদ পেয়েছেন’ মন্তব্য করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠান আকিজ বশির এভিয়েশন মার্চ মাসে যখন হাসান আরিফ স্যার এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, আমি তো জানতাম না যে উনি ইন্তেকাল করবেন। আমি তো এটাও জানতাম না যে সরকার আমাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিবে, একটা ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে আমি মেজরিটি শেয়ার হোল্ডার হিসেবে। আমি এই কোম্পানির বোর্ডে না আমি এই কোম্পানির ম্যানেজমেন্টে না এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি একটি ইন্ডিপেনডেন্ট সংস্থা, মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের অনুমোদন তাদের লাগে না একটা লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে।”
সনদ পেতে কোনো ‘প্রভাব বিস্তার করেননি’ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি যদি এখানে প্রভাব বিস্তার করতাম, আজ ১১ মাসে আমার লাইসেন্সটা কেন হল না? আমার কী নেই? আমার পাইলট আছে, আমার ইঞ্জিনিয়ার আছে, আমার অফিস আছে আমার হ্যাঙ্গার আছে, আমার হেলিকপ্টার আছে। আই হ্যাভ এভরিথিং।
১১ মাসে একটা লাইসেন্স হয়নি। এর মাধ্যমে আমি এতোই প্রভাব বিস্তার করে ফেললাম?
“আর হেলিকপ্টার নিয়ে তো সৌদি আরব যাওয়া যায় না, হেলিকপ্টার নিয়ে তো কুয়েত যাওয়া যায় না দুবাই যাওয়া যায় না; এটা তো সম্ভব না। তো আমি কীভাবে কমপিটিশন করব? আমি তো বুঝতে পারছি না। আমার জ্ঞানে আটকাচ্ছে না।”
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান তিনি বিমানবন্দরে প্রতিষ্ঠান ইজারা, বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ এবং এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
সম্পাদক : মোঃ কবির নেওয়াজ রাজ, মোবাইল : ০১৬৪৩৫৬৫০৮৭, ০১৭১১৪৪৭৫২২, অফিস : ৪/এ, প্রধান সড়ক, আটি মডেল সোসাইটি, আটি, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১২, ইমেইল : somoyerbuletin@gmail.com
© All rights reserved © SomoyerBulletin