মোঃ আরাফাত আলী : নওগাঁর বালুডাঙ্গা ও সদর উপজেলার চকরামচন্দ্র মৌজায় জাল দলিল তৈরি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় আদালত চার আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করে অসহায় ও সাধারণ মানুষের জমি অবৈধভাবে দখল করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন ১ নম্বর আসামি মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক (নান্টু), যিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তিনি তার অপর তিন সহোদর ভাইসহ রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমির প্রকৃত মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও নিজেদের নামে দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
গত ১৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নওগাঁ জেলা অ্যাডভোকেট বার ভবনের আব্দুল জব্বার হলরুমে উভয় পক্ষ আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসেন। এ সময় বিবাদীপক্ষ একটি দলিল উপস্থাপন করে জমির মালিকানা দাবি করলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, উপস্থাপিত দলিলটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং সংশ্লিষ্ট জমির সঙ্গে কোনো মিল নেই।
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই, নওগাঁ। তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দালিলিক প্রমাণ যাচাই করে নিশ্চিত হন যে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে জাল দলিল প্রস্তুত করে তা ব্যবহার করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে জমি অবৈধভাবে দখলে রাখার চেষ্টা করেছে বলেও তদন্তে উঠে আসে।
তদন্তে আরও প্রমাণিত হয়, আসামিরা মূল মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও জমি নিজেদের বলে প্রচার করে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিল বিভিন্ন স্থানে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪(ক), ৫(২) ও ১৬ ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মামলার প্রেক্ষিতে আসামি মোঃ মতিউর রহমান, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও মোঃ মশিউর রহমান আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জাল দলিল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক : মোঃ কবির নেওয়াজ রাজ, মোবাইল : ০১৬৪৩৫৬৫০৮৭, ০১৭১১৪৪৭৫২২, অফিস : ৪/এ, প্রধান সড়ক, আটি মডেল সোসাইটি, আটি, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১২, ইমেইল : somoyerbuletin@gmail.com
© All rights reserved © SomoyerBulletin