
স্বার্থপরতা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।সীমাহীন ছুটে চলায় মানুষ যেন থামছে না। বাস্তবতার নিরিখে এই ছুটে চলা মূলত স্বার্থ ও স্বার্থপরতার খেলা। স্বার্থের টানে মানুষ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল গন্তব্যের দিকে ছুটতে থাকে, এরই মধ্যে কেউ-বা নিজ স্বার্থ ও স্বার্থপরতার তফাত ভুলে সহমর্মিতা তুচ্ছ করে অন্যায়ের পথে চলে। স্বার্থ মানে নিজেকে ভালোবাসা, নিজের যত্ন নেওয়া এবং নিজের সুখকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যা তার প্রয়োজন। স্বার্থ নিয়ে মানুষ বাঁচে, কথাটি চরম ও চিরন্তন সত্য। তবে স্বার্থপরতা হলো কেবল নিজেকে নিয়ে ভাবা, নিজের লাভ ও ক্ষতির বিষয় চিন্তা করা; কিন্তু অন্যদের উপেক্ষা করা, অবহেলা করা এবং তাদের স্বার্থকে তুচ্ছ ভাবা। স্বার্থ ও স্বার্থপরতার শাব্দিক অর্থ প্রায় কাছাকাছি হলেও স্বার্থপরতা একটি নেতিবাচক শব্দ।
স্বার্থপরতা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নার্সিসিসটিক পারসোনালিটির কথা আমরা অনেকেই হয়তো শুনে থাকবো। এরা মূলত স্বার্থপর। শুধু নিজেকে ভালোবাসে, অন্যের চাওয়া পাওয়ার থেকে সর্বদা নিজের চাওয়া পাওয়াকে গুরুত্ব দেয়। আপনি যদি ক্রমাগতভাবে এরকম স্বার্থপর, আত্নকেন্দ্রিক মানুষের সাথে ওঠাবসা করতে থাকেন তবে আপনার জীবন হয়ে উঠবে শোচনীয়। কিন্তু যদি এমন হয় তীর আপনার দিকেই এসে পড়ছে? অর্থাৎ স্বার্থপর মানুষ হিসেবে যদি নিজেই অভিযুক্ত হন তখন কি করবেন?
আসলে কোন বৈশিষ্ট্য থাকলে একজন মানুষকে স্বার্থপর বলা যেতে পারে? স্বার্থপর তারাই যারা সর্বদা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং অন্যের চাহিদা, অনুভূতির কথা যারা বিবেচনা করেনা। স্বার্থপর মানুষের ভিড়ে বাঁচতে ইচ্ছে হয় না। মরতেও ইচ্ছে হয় না। স্বার্থপর এই পৃথিবীতে সময়ের সাথে সাথে সবাই স্বার্থপর হয়ে যায়।
সমাজে নানা শ্রেণীর মানুষ বসবাস করে, বিভিন্ন ধরণের মানুষের উদ্ভব ঘটে। সমাজে চলারপথে বিভিন্ন মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় হয়। সবার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে না কিছু সংখ্যক মানুষের সাথে আমাদের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ যারা সবর্দা সবার স্বার্থ নিয়ে কাজ করে বা চিন্তা করে আর অধিকাংশ মানুষ নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় তাদেরকে মানুষ বিভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে। তারা বিভিন্ন সামাজিকমূলক কাজে নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় । সমাজে কেউ মানুষের কাছে শ্রদ্ধা পাত্র আবার কাউকে মানুষ ঘৃণা করে। তার ব্যবহার আচার আচরনে কারনে অন্য মানুষের কাছে তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়। মানুষ যদি সর্বজন কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে তাহাকে যে বিষয়টি তার কাছে থাকা অত্যন্ত জরুরী তা হল ন্যায়পরায়নতা আর মানুষের ন্যায়নিষ্ঠতা। তখনিও বুঝা যাবে যখন সে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত থাকলে সে যদি ন্যায়নীতি তার মধ্যে কাজ করে তখন সে মানুষ সমাজে গ্রহণযোগ্যতা উর্ধে উঠে। মানুষের নিজের স্বার্থের আঘাত হলে, আপনজন পর হয়ে যায়, দেখে না সে ন্যায়নীতি, তখন তার কাছে মানুষ্যত্ব বলতে কিছু থাকে না। সে নিজের আপনজন ও কাছের মানুষ কে কিছু বলতে দ্বিধাবোধ করবে না! সমাজে মানুষের কল্যাণমুলক কর্মকান্ড বা কাজ নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত থাকলে বা আঘাত আসলে বাধা দেয়। নিজের স্বার্থ থাকলে সমাজে মানুষের কল্যাণে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করলে সেই মানুষ সর্বজন কৃত সকলে কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধা পেয়ে থাকে।
সমাজে কারো সম্পর্কে অবগত না হয়ে মানুষকে ভাল স্বীকৃতি দেয়া আমার মতে সন্তোষজনক নয়। চেহারা ও পোশাকে যদি তাঁকে সূফীসাধক, ধার্মিক আর বুজুর্গ দেখালেও বাহ্যিক তার যথার্থ ব্যবহার কতটুকু হচ্ছে তা দেখবে তার আশে পাশে প্রতিবেশী ও পরিবার! একজন মানুষ তার পরিবারে কেমন আচরণ করে আর বাহ্যিক ভাবে কেমন আচরন করে তা দেখতে হলে তার সাথে কয়দিন চলাফেরা আচার ব্যবহার করার মধ্যেমে ফুটে উঠবে তার লেনদেন, স্বার্থেপরতা, ইনশাফ, ন্যায়নিষ্ঠতা, সবেই সম্পর্কে জানতে পারবে তার আপনজনও কাজের মানুষ তখন এটা অনুভব করা যাবে সেই মানুষ ভাল না মন্দ । মানুষ বাহ্যিক যে আচরণ করে তা দেখলে মানুষকে খুব ভাল মনে হয়, এটা দিয়ে মানুষের ভাল মন্দ বিচার করা যাবে না। চলাফেরা অনেক কাজকর্মে মানুষের চারিত্রিক সনদ দরকার পরে তখন আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে গেলে একজন লোক তাঁর চারিত্রিক সাটিফেকট সংগ্রহ করতে পারবে? এই সনদের মূল্য কতটুকু তা সবাই জানে এই সাটিফেকট দিয়ে মানুষ কে সমাজে কেউ বিচার করে না। এই সনদের মূল্য অর্থহীন। মানুষ কে বিচার করলে ভাল মন্দ সাটিফেকট দিলে তার আপনজন ও প্রতিবেশী দের সাথে ব্যবহার অন্যতম।আমি কবির নেওয়াজ রাজ নিজের নিরাপত্তার চেয়েও অন্যের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে প্রস্তুত থাকি।আমাদের অনেকেই অন্যের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে পারেন, আর এটা আমাদের জন্য ভালোও। এই কারণেই আমরা অন্য প্রাণীদের থেকে আলাদা আর সফল হয়েছি। অন্যের খেয়াল রাখা ভালো, তবে নিজের প্রতিও যত্নবান হতে হবে।
নিঃস্বার্থ” মানুষ গুলোকে আদর করে “বোকা” বলে ডাকা হয়।
পৃথিবীর সব “কষ্ট”, “শূন্যতা” আর “একাকীত্ব” নামের অনুভূতি গুলো বোকাদের জন্যই বরাদ্দ। বোকারা এগুলো প্রথমে নিতে চায় না, তাও এগুলো তাদের জোর করে গছিয়ে দেয়া হয়। এগুলোই তাদের উপহার, “নিঃস্বার্থ” হওয়ার উপহার। উপহার ফেরত দিতে হয় না, উপহার ফেরত দেয়া যায় না,বরং উপহার জমা রাখতে হয়।
লেখক : কবির নেওয়াজ রাজ
এমএসএস”রাষ্ট্রবিজ্ঞান,সিসি”জার্নালিজম,এলএলবি।
নিজস্ব সংবাদ : 























