আলী আহসান রবি : গতকাল ( ৪ জানুয়ারি) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চিলা ইউনিয়নের শোরকির খাল সংলগ্ন এলাকা হতে আধা কিলোমিটার বনের অভ্যন্তরে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে বন বিভাগের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত পরশু বিকাল চারটার দিকে স্থানীয় জেলে বাওয়ালি মারফত জানা যায়, উল্লিখিত এলাকায় বাঘটি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিল। একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম এবং বন বিভাগের স্টাফসহ সকলকে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ হতে নির্দেশনা দেয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেও বাঘটি স্থান ত্যাগ না করায় উক্ত স্থানের পাহারা জোরদার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বন অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি অফিসারের নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা থেকে আসে। আজ সকালে ভেটেরিনারি টিমসহ বন সংরক্ষক, খুলনা অঞ্চল, খুলনা; বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রাথমিকভাবে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় যে এটি কোন ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। এই অবস্থায় বাঘটিকে অবচেতন করে চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘন বন ও মাংসাশী বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে অবচেতন করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় সফলভাবে বাঘটিকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত না করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাঘটিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং রেসকিউ সেন্টারে ভেটেরিনারি অফিসার জনাব হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইন এর তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাঘটি সুস্থ হলে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেয়া হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আহত বন্য প্রাণীটিকে উদ্ধারের সময় স্থানীয় উৎসুক জনতার উশৃংখল আচরণের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত ও বিলম্বিত হয় এবং সংকটাপন্ন প্রাণীটির জীবন আরো বিপন্ন হয়ে যায়। বহু মানুষের ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বাঘটিকে উদ্ধার করতে গেলে তারা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা বন বিভাগের লোকজনের উপর চড়াও হয় বলে জানা যায়।
বন বিভাগে চট্টগ্রাম ও গাজীপুর এই দুটি সাফারি পার্কে মাত্র দুজন ভেটেরিনারি অফিসার কর্মরত রয়েছেন। সুন্দরবনের জন্য খুলনা অঞ্চলে বন্যপ্রাণী রেসকিউ সেন্টারে ভেটেরিনারি ডাক্তারের পদটিও শূন্য রয়েছে। এছাড়া এখানে অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসাকর্মী প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
সম্পাদক : মোঃ কবির নেওয়াজ রাজ, মোবাইল : ০১৬৪৩৫৬৫০৮৭, ০১৭১১৪৪৭৫২২, অফিস : ৪/এ, প্রধান সড়ক, আটি মডেল সোসাইটি, আটি, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১২, ইমেইল : somoyerbuletin@gmail.com
© All rights reserved © SomoyerBulletin