ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জয়পুরহাট ও দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪৫ লক্ষাধিক টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপসহ একজন আটক Logo দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক সার্ক বৈঠকে বাংলাদেশ কর্তৃক সার্ক পুনরুজ্জীবনের ওপর জোর Logo রুশ বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মরণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকাস্থ রুশ হাউসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Logo ফ্যাসিবাদ, নতুন স্বৈরতন্ত্র, পুরোনো স্বৈরতন্ত্র টিকিয়ে রাখার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে: নাহিদ ইসলাম Logo কামরাঙ্গীরচরে চাঞ্চল্যকর ম্যাটাডোর কর্মচারী ইয়াকুব হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার Logo একটি সিএনজিসহ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি Logo ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী Logo উপসাগরীয় সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ওমান Logo ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী Logo সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকর করার পথে বাংলাদেশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ

রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের শিকারদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের পথে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৬ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশন (Convention against Torture and Other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment—CAT)–এর অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্লেয়ারেশন প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয় এবং বর্তমানে ১৭৩টি রাষ্ট্র এটি অনুসমর্থন করে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে CAT চুক্তিতে অনুসমর্থন প্রদান করে।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচটি রাষ্ট্র—বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র—চুক্তিতে যোগদানের সময় রিজার্ভেশন প্রদান করেছিল। সেই রিজার্ভেশনের ফলে এতদিন যাবৎ রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না।

রিজার্ভেশন প্রত্যাহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ সুগম হলো। এর ফলে নির্যাতনে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এতে করে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এটি বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাবি ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়পুরহাট ও দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪৫ লক্ষাধিক টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপসহ একজন আটক

নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকর করার পথে বাংলাদেশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ

রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের শিকারদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের পথে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

আপডেট সময় ১২:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশন (Convention against Torture and Other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment—CAT)–এর অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্লেয়ারেশন প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয় এবং বর্তমানে ১৭৩টি রাষ্ট্র এটি অনুসমর্থন করে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে CAT চুক্তিতে অনুসমর্থন প্রদান করে।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচটি রাষ্ট্র—বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র—চুক্তিতে যোগদানের সময় রিজার্ভেশন প্রদান করেছিল। সেই রিজার্ভেশনের ফলে এতদিন যাবৎ রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না।

রিজার্ভেশন প্রত্যাহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ সুগম হলো। এর ফলে নির্যাতনে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এতে করে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এটি বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাবি ছিল।