
আলী আহসান রবি : সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত “সচিবালয়ে হবে ২১ তলা ভবন, প্রতি বর্গমিটারে খরচ ৫৩ হাজার টাকা” শীর্ষক প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রতিবেদনটিতে বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত প্রতিবাদটি আপনার পত্রিকায় প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বর্তমানে সচিবালয়ে ১২টি ভবন রয়েছে, যা ১৯৩৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নির্মিত। মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে পার্কিং সংকট ও অফিস স্পেসের ঘাটতি নিরসনের লক্ষ্যে নতুন মাস্টারপ্লানের আওতায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৯ সালে নির্মিত ৮৭ বছরের পুরাতন ভূমিকম্প ঝুঁকিপুর্ণ ১নং ভবনের স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ভবনটি রিকটার স্কেলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় নয়। প্রস্তাবিত এ ভবনটি নির্মিত হলে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ সংকট নিরসন হবে।
প্রকল্প ব্যয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য হলো, প্রস্তাবিত ২১ তলা ভবনের সঙ্গে ৪টি বেইজমেন্ট ও একটি ভূগর্ভস্থ জলাধার থাকবে। বেইজমেন্ট, ভ্যাট, আয়কর ও লভ্যাংশ বাদে নির্মাণ ব্যয় প্রতি বর্গফুটে ৩,৫০০.৮৬ টাকা যেখানে বেইজমেন্ট অংশের জন্যই নির্মাণ ব্যয় হবে প্রতি বর্গফুটে ৭৫৯.৬৫ টাকা। প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্মাণ খরচ বর্গমিটারে দেখানো হয়েছে। ভবনটি একটি সুউচ্চ স্থাপনা, যেখানে প্রতিটি তলার উচ্চতা ১৩.৫ ফুট নির্ধারিত। এতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সোলার প্যানেল, সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম, তাপ নিরোধক লো-ই গ্লাস, রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং ব্যবস্থা, আধুনিক ফ্যাসাদ লাইটিং (Facade Lighting), গাড়ি পার্কিং, প্রতিটি তলায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সংযোজিত রয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় ভবনটির ব্যয় যৌক্তিক রয়েছে বলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রতীয়মান হয়।
এ ধরনের প্রতিবেদন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অসম্পূর্ণ তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদ : 




















