ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিলো ডিএনসিসি Logo মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু Logo ৪২৫ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ Logo নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রোডম্যাপ  তৈরিতে ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ বিষয়ে রূপরেখা পর্যালোচনা Logo যশোরের তারাগঞ্জ থেকে ৯০০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বিজিবি Logo মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসা….স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত Logo চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৫০০  হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছে ১০ জন করে আনসার….স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মাহবুবুর রহমানের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক
বোরো মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান ও ১২ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য খাদ্য পরিকল্পনা কমিটির সভায় সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ

মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:২০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : সরকার চলতি ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান, ১২ লক্ষ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লক্ষ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আগামী ৩ মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে, যা ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি’র (FPMC) সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ধান, চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে: বোরো ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা; সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা; আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা; গম প্রতি কেজি ৩৬ টাকা।

সভা শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন চাল মজুত আছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ১৩ লক্ষ মেট্রিক টন চালের ‘নিরাপত্তা মজুত’ (Security Stock) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। তবে সরকার প্রয়োজনে এই মজুত ২৪-২৫ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সক্ষমতা রাখে এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকিউরমেন্ট লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তনের ফ্লেক্সিবিলিটি রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে বার্ষিক চালের চাহিদা প্রায় ৪ কোটি ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে আবহওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। ফলে চাল আমদানির আপাতত কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে গমের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (৮-১০ লক্ষ মেট্রিক টন) চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় এটি মূলত আমদানিনির্ভর। দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গমের চাহিদা মেটাতে সরকার জি-টু-জি (G2G) এবং ওপেন টেন্ডার মেথডে (OTM) ৮ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) সাথে প্রায় ৭ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিকারকরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম আমদানি করতে পারবেন।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে আতপ চালের চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে অন্য অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে সরবরাহ চেইন সচল রাখা হবে। দেশের কোথাও যাতে খাদ্যের ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মোঃ আবদুল বারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিলো ডিএনসিসি

বোরো মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান ও ১২ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য খাদ্য পরিকল্পনা কমিটির সভায় সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ

মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু

আপডেট সময় ০৭:২০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : সরকার চলতি ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান, ১২ লক্ষ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লক্ষ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আগামী ৩ মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে, যা ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি’র (FPMC) সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ধান, চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে: বোরো ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা; সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা; আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা; গম প্রতি কেজি ৩৬ টাকা।

সভা শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন চাল মজুত আছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ১৩ লক্ষ মেট্রিক টন চালের ‘নিরাপত্তা মজুত’ (Security Stock) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। তবে সরকার প্রয়োজনে এই মজুত ২৪-২৫ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সক্ষমতা রাখে এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকিউরমেন্ট লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তনের ফ্লেক্সিবিলিটি রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে বার্ষিক চালের চাহিদা প্রায় ৪ কোটি ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে আবহওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। ফলে চাল আমদানির আপাতত কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে গমের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (৮-১০ লক্ষ মেট্রিক টন) চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় এটি মূলত আমদানিনির্ভর। দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গমের চাহিদা মেটাতে সরকার জি-টু-জি (G2G) এবং ওপেন টেন্ডার মেথডে (OTM) ৮ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) সাথে প্রায় ৭ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিকারকরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম আমদানি করতে পারবেন।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে আতপ চালের চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে অন্য অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে সরবরাহ চেইন সচল রাখা হবে। দেশের কোথাও যাতে খাদ্যের ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মোঃ আবদুল বারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।