ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৭ জন গ্রেফতার Logo রাজধানীর খেলার মাঠ উন্নয়নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম Logo পাট খাতের উন্নয়নে জেডিপিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে- বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম Logo মানবিকতার পথে রাণীনগর ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ৭০০ ব্যাগ রক্তদান ও ১০০০ ডোনারের মাইলফলক স্পর্শ Logo মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ম্যানচেস্টার টেমসাইড কাউন্সিলের সিভিক মেয়রের সাক্ষাৎ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী Logo প্রবাসীদের জ্ঞান ও বিনিয়োগে শক্তিশালী হচ্ছে অর্থনীতি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন Logo বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের বৈঠক : এফবিসিসিআইকে কার্যকর, শক্তিশালী ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর জোর Logo কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিক অর্থনীতি মজবুত হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী Logo জলবদ্ধতা দূরীকরণ, চাষাবাদ বৃদ্ধি ও প্রকৃতি বাঁচাতে খাল খনন অব্যাহত রাখা হবে। – পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে মুগদা থানা পুলিশ
জলবায়ু সংকট এখন আর পরিবেশগত নয়, এটি একটি মানবাধিকার সংকট—ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যাসেম্বলিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার মন্তব্য।

জলবায়ু ন্যায্যতা নয়, প্রয়োজন জলবায়ু সুবিচার – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৩ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জলবায়ু সংকটের ক্ষেত্রে “ন্যায্যতা” শব্দটি আর যথেষ্ট নয়—এখন প্রয়োজন জলবায়ু সুবিচার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা এখন আর শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি একটি মানবাধিকার ইস্যু।

আজ সকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ২১টি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত Climate Justice Assembly -2025 সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের শুরুতে পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ঘোষণা দেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন , জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যে ক্লাইমেট ফাইন্যান্স দেওয়ার কথা বলা হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, যা একটি স্পষ্ট অবিচার। “আমরা যে ক্ষতির শিকার, তা আমাদের দোষে নয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের কেন ঋণ নিতে হবে?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর পরিবর্তন নয়, এটি একটি দুর্যোগ। শিল্পায়নকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা এই দুর্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে। অথচ বাংলাদেশ বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্র প্রায় ০.৪ শতাংশের জন্য দায়ী, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অবস্থান করছে।

উপদেষ্টা বলেন, কিছু কিছু শব্দ ব্যবহার করে আমাদের অনেক সময় বিভ্রান্ত ও নিয়ন্ত্রিত করা হয়। খুব সহজভাবে ‘নেট জিরো’ বলা হয়, কিন্তু ‘নেট জিরো’ বলে আসলে কিছু নেই। ‘জিরো’-এর আগে ‘নেট’ বসার অর্থ হলো একটি প্লাস ও একটি মাইনাসের সমন্বয়, যেখানে কার্বন নিঃসরণ একদিকে বাড়তে পারে এবং অন্যদিকে কিছু প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন প্রকৃত অর্থে জিরো কার্বন, কোনো বিভ্রান্তিকর শব্দ নয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ধোঁকা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘নেচার বেইজড সল্যুশন’ শব্দটিও আজ বিভিন্ন কর্পোরেট স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে যুগ যুগ ধরে বসবাস ও সমাধান খোঁজার যে অভিজ্ঞতা জনগণের ছিল, সেটিকে এখন নানা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম ধারণার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা প্রকৃত অর্থে নেচার বেইজড নয়।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের হাওড়, বাওড়, ওয়েটল্যান্ড ও বিভিন্ন জলাশয় আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে এসব জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “বাজারে ইলিশের দাম বাড়লে আমরা প্রতিবাদ করি, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল—সমুদ্র থেকে নদীতে আসা এবং নদী থেকে সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার পথে যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে—সে বিষয়ে আমরা খুব কমই কথা বলি।”

সম্মেলনের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী জনগোষ্ঠী ফোরাম–এর সাধারণ সম্পাদক ও ধরা (DHORA)–এর সদস্য সঞ্জীব দ্রং। মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (APMDD)–এর সমন্বয়ক এবং এশিয়ান এনার্জি নেটওয়ার্ক (AEN)–এর আহ্বায়ক লিডি নাকপিল (Lidy Nacpil)। মূল প্রবন্ধের ওপর প্রতিক্রিয়ায় ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ (FOE) যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী আসাদ রেহমান (Asad Rehman)। সংহতি বক্তব্যে রাখেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিস দামলে (Ashish Damle) এবং টারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের ডেপুটি রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাইনান হটন (Cynan Houghton)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্মলন ও ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল।

সম্মেলনে বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ১৪টি দেশের পরিবেশবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতারা অংশ গ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৭ জন গ্রেফতার

জলবায়ু সংকট এখন আর পরিবেশগত নয়, এটি একটি মানবাধিকার সংকট—ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যাসেম্বলিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার মন্তব্য।

জলবায়ু ন্যায্যতা নয়, প্রয়োজন জলবায়ু সুবিচার – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৪:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আলী আহসান রবি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জলবায়ু সংকটের ক্ষেত্রে “ন্যায্যতা” শব্দটি আর যথেষ্ট নয়—এখন প্রয়োজন জলবায়ু সুবিচার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা এখন আর শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি একটি মানবাধিকার ইস্যু।

আজ সকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ২১টি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত Climate Justice Assembly -2025 সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের শুরুতে পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ঘোষণা দেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন , জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যে ক্লাইমেট ফাইন্যান্স দেওয়ার কথা বলা হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, যা একটি স্পষ্ট অবিচার। “আমরা যে ক্ষতির শিকার, তা আমাদের দোষে নয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের কেন ঋণ নিতে হবে?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর পরিবর্তন নয়, এটি একটি দুর্যোগ। শিল্পায়নকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা এই দুর্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে। অথচ বাংলাদেশ বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্র প্রায় ০.৪ শতাংশের জন্য দায়ী, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অবস্থান করছে।

উপদেষ্টা বলেন, কিছু কিছু শব্দ ব্যবহার করে আমাদের অনেক সময় বিভ্রান্ত ও নিয়ন্ত্রিত করা হয়। খুব সহজভাবে ‘নেট জিরো’ বলা হয়, কিন্তু ‘নেট জিরো’ বলে আসলে কিছু নেই। ‘জিরো’-এর আগে ‘নেট’ বসার অর্থ হলো একটি প্লাস ও একটি মাইনাসের সমন্বয়, যেখানে কার্বন নিঃসরণ একদিকে বাড়তে পারে এবং অন্যদিকে কিছু প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন প্রকৃত অর্থে জিরো কার্বন, কোনো বিভ্রান্তিকর শব্দ নয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ধোঁকা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘নেচার বেইজড সল্যুশন’ শব্দটিও আজ বিভিন্ন কর্পোরেট স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে যুগ যুগ ধরে বসবাস ও সমাধান খোঁজার যে অভিজ্ঞতা জনগণের ছিল, সেটিকে এখন নানা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম ধারণার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা প্রকৃত অর্থে নেচার বেইজড নয়।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের হাওড়, বাওড়, ওয়েটল্যান্ড ও বিভিন্ন জলাশয় আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে এসব জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “বাজারে ইলিশের দাম বাড়লে আমরা প্রতিবাদ করি, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল—সমুদ্র থেকে নদীতে আসা এবং নদী থেকে সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার পথে যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে—সে বিষয়ে আমরা খুব কমই কথা বলি।”

সম্মেলনের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী জনগোষ্ঠী ফোরাম–এর সাধারণ সম্পাদক ও ধরা (DHORA)–এর সদস্য সঞ্জীব দ্রং। মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (APMDD)–এর সমন্বয়ক এবং এশিয়ান এনার্জি নেটওয়ার্ক (AEN)–এর আহ্বায়ক লিডি নাকপিল (Lidy Nacpil)। মূল প্রবন্ধের ওপর প্রতিক্রিয়ায় ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ (FOE) যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী আসাদ রেহমান (Asad Rehman)। সংহতি বক্তব্যে রাখেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিস দামলে (Ashish Damle) এবং টারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের ডেপুটি রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাইনান হটন (Cynan Houghton)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্মলন ও ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল।

সম্মেলনে বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ১৪টি দেশের পরিবেশবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতারা অংশ গ্রহণ করেন।