ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
১৫২তম জন্মবার্ষিকীতে নলতা শরীফে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন—আধুনিক শিক্ষা ও মানবচেতনায় তাঁর অবদান আজও প্রাসঙ্গিক।

হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) এর জন্মবার্ষিকীতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৯ বার পড়া হয়েছে

হাফিজুর রহমান শিমুল : হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) ছিলেন বাঙালি মুসলিম সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক জাগরণ, শিক্ষাপুনর্গঠন ও আধ্যাত্মিক মানবচেতনার এক উজ্জ্বল দিগন্তপ্রসারী ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশ- ভারতের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পশ্চাদপদ মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষার আলোকভুবনে পৌঁছে দিতে তিনি যে নিরলস সাধনা ও কর্মনিষ্ঠ সংগ্রাম করেছেন, তা ইতিহাসে এক অনন্য পুনর্জাগরণের দৃষ্টান্ত।

খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা(র.) এর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরার নলতা শরীফে পাক রওজা প্রাঙ্গনে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো: রেজাউল করিম এসব কথা বলেন।

নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের নব নির্বাচিত সভাপতি এ.এইচ.এম মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো: মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশিষ্ট আহ্ছানউল্লা গবেষক প্রবন্ধকার এ.এফ.এম এনামুল হক। মূল আলোচক ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আহসানুল হাদি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ড. কাজী আলী আজম। প্রধান অতিথি আরো বলেন, নারীশিক্ষা বিস্তার, গ্রামীণ সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষক- প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ব্যবস্থা, এবং শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিসহ সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল যুগান্তকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ গঠন, রাজশাহীতে ফুলার হোস্টেল নির্মাণ থেকে শুরু করে ‘আহছানিয়া মিশন’-এর প্রতিষ্ঠা প্রতিটি উদ্যোগেই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর মানবকল্যাণমুখী দৃষ্টি ও সমাজরূপান্তরমুখী মনন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং উদার আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রচারে তিনি ছিলেন এক শান্তকণ্ঠ সত্যদ্রষ্টা। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর প্রয়াণ বাঙালির মননভুবনে এক যুগের অবসান ঘটায়, তবে তাঁর কর্ম, দর্শন ও প্রজ্ঞা আজও জাতির নৈতিক পুনর্জাগরণের চিরন্তন আলো হয়ে বিরাজমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, যে মুসলমানদের হাতে থাকার কথা তরবারি তাদের হাত আজ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

যে যুবসমাজকে দেশের সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার কথা, তারা এখন রাজনৈতিক নেতাদের পিছনে বেকার ঘুরে বেড়ায়। আমাদের আজকের দিনে একজন খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এর খুবই দরকার। যদি তিনি থাকতেন তাহলে আমাদের মুসলমানদের আজকের এই অবস্থা হতো না।

সেমিনারে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খুলনা খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. আনিসুর রহমান, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, কবি ও সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান প্রমূখ। সেমিনারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশিষ্ট গবেষক ড. একরাম হোসেন এ বছর খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা পুরস্কার পেয়েছেন। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর জীবন ও কর্ম, শিক্ষাদর্শন, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারাকে আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক, এক লক্ষ টাকা, সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

১৫২তম জন্মবার্ষিকীতে নলতা শরীফে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন—আধুনিক শিক্ষা ও মানবচেতনায় তাঁর অবদান আজও প্রাসঙ্গিক।

হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) এর জন্মবার্ষিকীতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

হাফিজুর রহমান শিমুল : হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) ছিলেন বাঙালি মুসলিম সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক জাগরণ, শিক্ষাপুনর্গঠন ও আধ্যাত্মিক মানবচেতনার এক উজ্জ্বল দিগন্তপ্রসারী ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশ- ভারতের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পশ্চাদপদ মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষার আলোকভুবনে পৌঁছে দিতে তিনি যে নিরলস সাধনা ও কর্মনিষ্ঠ সংগ্রাম করেছেন, তা ইতিহাসে এক অনন্য পুনর্জাগরণের দৃষ্টান্ত।

খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা(র.) এর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরার নলতা শরীফে পাক রওজা প্রাঙ্গনে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো: রেজাউল করিম এসব কথা বলেন।

নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের নব নির্বাচিত সভাপতি এ.এইচ.এম মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো: মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশিষ্ট আহ্ছানউল্লা গবেষক প্রবন্ধকার এ.এফ.এম এনামুল হক। মূল আলোচক ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আহসানুল হাদি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ড. কাজী আলী আজম। প্রধান অতিথি আরো বলেন, নারীশিক্ষা বিস্তার, গ্রামীণ সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষক- প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ব্যবস্থা, এবং শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিসহ সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল যুগান্তকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ গঠন, রাজশাহীতে ফুলার হোস্টেল নির্মাণ থেকে শুরু করে ‘আহছানিয়া মিশন’-এর প্রতিষ্ঠা প্রতিটি উদ্যোগেই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর মানবকল্যাণমুখী দৃষ্টি ও সমাজরূপান্তরমুখী মনন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং উদার আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রচারে তিনি ছিলেন এক শান্তকণ্ঠ সত্যদ্রষ্টা। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর প্রয়াণ বাঙালির মননভুবনে এক যুগের অবসান ঘটায়, তবে তাঁর কর্ম, দর্শন ও প্রজ্ঞা আজও জাতির নৈতিক পুনর্জাগরণের চিরন্তন আলো হয়ে বিরাজমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, যে মুসলমানদের হাতে থাকার কথা তরবারি তাদের হাত আজ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

যে যুবসমাজকে দেশের সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার কথা, তারা এখন রাজনৈতিক নেতাদের পিছনে বেকার ঘুরে বেড়ায়। আমাদের আজকের দিনে একজন খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এর খুবই দরকার। যদি তিনি থাকতেন তাহলে আমাদের মুসলমানদের আজকের এই অবস্থা হতো না।

সেমিনারে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খুলনা খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. আনিসুর রহমান, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, কবি ও সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান প্রমূখ। সেমিনারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশিষ্ট গবেষক ড. একরাম হোসেন এ বছর খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা পুরস্কার পেয়েছেন। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর জীবন ও কর্ম, শিক্ষাদর্শন, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারাকে আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক, এক লক্ষ টাকা, সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়।