ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সৌদি মানবসম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রীর সাথে মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠকে Logo মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান। Logo যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় নয়: কৃষি মন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সংহতিপত্র হস্তান্তর ও কাতারের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক Logo প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরবিইউ মডেল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করেছে বিপিসিএল Logo দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন Logo নির্বাহী প্রকৌশলীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে চলমান সব কাজ যাচাই করার নির্দেশ ডিএনসিসি প্রশাসকের Logo রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রশাসন ও  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি-নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি তৈরি করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এক প্রতারক গ্রেফতার Logo সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রীর সাথে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত: বাংলাদেশীদের জন্য হজ ও উমরাহ সেবায় নতুন গতি
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বন সংরক্ষণ ও মানবিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে SAFE+2 যৌথ কর্মসূচিতে সুইডেন সরকারের নতুন সহায়তা।

রোহিঙ্গা সহায়তায় SAFE+2 যৌথ কর্মসূচির জন্য সুইডেনের ২.৯ মিলিয়ন ডলারের অনুদানকে স্বাগত জানাল জাতিসংঘ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : SAFE+2 (Safe Access to Fuel and Energy Plus, Phase 2) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম এবং সবুজ জ্বালানির সমাধান এগিয়ে নিতে সুইডেন সরকারের ২.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
SAFE+2 কর্মসূচির লক্ষ্য হলো পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির, বিশেষ করে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ব্যবহার বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার, এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন। জাতিসংঘের এই কর্মসূচিটি UNHCR, FAO, IOM এবং WFP যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে, বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে।

“প্রয়োজন বাড়তে থাকা সত্ত্বেও অর্থায়ন হ্রাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুইডেনের উদার সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ,” বলেন ইভো ফ্রেইসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআর-এর রিপ্রেজেনটেটিভ। “রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পরেও ১.১৭ মিলিয়ন রোহিঙ্গা এখনো বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রায়ই আমাকে বলে যে তাদের দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি কতটা গুরুত্বপূর্ণ – বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা, যাদের আর জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে হয় না। এই অনুদান তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করছে, যতদিন না স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ মিয়ানমারে নিশ্চিত হয়।”

“বৈশ্বিক মানবিক তহবিল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, তাই আমাদের সর্বাধিক প্রয়োজনগ্রস্তদের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং গত কয়েক বছরে অর্জিত সাফল্যগুলো বজায় রেখেই জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে,” বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স। “এই অবদান শরণার্থীদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে, যা বন সংরক্ষণ ও তাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা যতদিন না স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারছে, ততদিন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগণের পাশে থেকে সংহতি জানাতে পেরে সুইডেন গর্বিত, মানবিক মর্যাদা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শিবিরে এলপিজির ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকে SAFE+2–এর মতো উদ্যোগগুলো রোহিঙ্গাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে – জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এলপিজি এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী রান্না প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব প্রচেষ্টার প্রভাব শিবিরজুড়ে পুনরায় সবুজায়নে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। কর্মসূচিটি ১৪,৫০০ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি রক্ষা করতে, পরিবেশগত অবক্ষয় কমাতে, এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করেছে।
এই সাম্প্রতিক অনুদানসহ SAFE+2 এবং তার পূর্ববর্তী SAFE+ কর্মসূচির জন্য সুইডেনের মোট সহায়তা ২৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইউএনএইচসিআর সুইডেন সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে, শরণার্থীদের প্রতি তাদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি ও সংহতির জন্য। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যেভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বিশেষত সুইডেনের মতো দেশের সমর্থন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি মানবসম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রীর সাথে মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠকে

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বন সংরক্ষণ ও মানবিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে SAFE+2 যৌথ কর্মসূচিতে সুইডেন সরকারের নতুন সহায়তা।

রোহিঙ্গা সহায়তায় SAFE+2 যৌথ কর্মসূচির জন্য সুইডেনের ২.৯ মিলিয়ন ডলারের অনুদানকে স্বাগত জানাল জাতিসংঘ

আপডেট সময় ০৬:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : SAFE+2 (Safe Access to Fuel and Energy Plus, Phase 2) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম এবং সবুজ জ্বালানির সমাধান এগিয়ে নিতে সুইডেন সরকারের ২.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
SAFE+2 কর্মসূচির লক্ষ্য হলো পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির, বিশেষ করে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ব্যবহার বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার, এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন। জাতিসংঘের এই কর্মসূচিটি UNHCR, FAO, IOM এবং WFP যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে, বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে।

“প্রয়োজন বাড়তে থাকা সত্ত্বেও অর্থায়ন হ্রাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুইডেনের উদার সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ,” বলেন ইভো ফ্রেইসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআর-এর রিপ্রেজেনটেটিভ। “রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পরেও ১.১৭ মিলিয়ন রোহিঙ্গা এখনো বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রায়ই আমাকে বলে যে তাদের দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি কতটা গুরুত্বপূর্ণ – বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা, যাদের আর জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে হয় না। এই অনুদান তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করছে, যতদিন না স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ মিয়ানমারে নিশ্চিত হয়।”

“বৈশ্বিক মানবিক তহবিল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, তাই আমাদের সর্বাধিক প্রয়োজনগ্রস্তদের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং গত কয়েক বছরে অর্জিত সাফল্যগুলো বজায় রেখেই জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে,” বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স। “এই অবদান শরণার্থীদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে, যা বন সংরক্ষণ ও তাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা যতদিন না স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারছে, ততদিন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগণের পাশে থেকে সংহতি জানাতে পেরে সুইডেন গর্বিত, মানবিক মর্যাদা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শিবিরে এলপিজির ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকে SAFE+2–এর মতো উদ্যোগগুলো রোহিঙ্গাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে – জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এলপিজি এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী রান্না প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব প্রচেষ্টার প্রভাব শিবিরজুড়ে পুনরায় সবুজায়নে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। কর্মসূচিটি ১৪,৫০০ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি রক্ষা করতে, পরিবেশগত অবক্ষয় কমাতে, এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করেছে।
এই সাম্প্রতিক অনুদানসহ SAFE+2 এবং তার পূর্ববর্তী SAFE+ কর্মসূচির জন্য সুইডেনের মোট সহায়তা ২৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইউএনএইচসিআর সুইডেন সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে, শরণার্থীদের প্রতি তাদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি ও সংহতির জন্য। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যেভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বিশেষত সুইডেনের মতো দেশের সমর্থন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।