ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মধ্যনগরের উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলিজনিত বিদায় ও নতুন কর্মকর্তার যোগদান সম্পন্ন। Logo দেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে এসএমই ও এমএসএমই খাত : এসএমই বৈশাখী মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে পৃথক অভিযানে ৭০ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৪ জন গ্রেফতার Logo ৫০ লক্ষ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গুলশান থানা পুলিশ Logo হজ ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি নয়, সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo ভোজ্যতেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে  ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক : দাম না বাড়ানোর ইঙ্গিত Logo বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে জার্মানি ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের পৃথক বৈঠক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ Logo বাংলাদেশ–সৌদি আরব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে মন্ত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত সিদ্ধান্তের আশ্বাস—ভোক্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার সরকারের।

ভোজ্যতেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে  ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক : দাম না বাড়ানোর ইঙ্গিত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা অস্থিরতা যাতে সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখা যায়।”

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভোক্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি একটি সংবেদনশীল সময়। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। “এই খাতে যারা কাজ করেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের পণ্য আমদানির জন্য বড় আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন। কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাজার থেকে সরে গেলে সেটি দেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে যোগ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ‘কমফোর্টেবল’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, “সরকার একটি টিম হিসেবে কাজ করছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি যাতে বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।”

বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনের চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো আবদুর রহিম খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট খাতেব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের  প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষেরা এ সময় বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে-যুদ্ধ নানা কারণে শঙ্কার মধ্যে আছে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, এরমধ্যে যেন কোন পণ্যের দাম না বাড়ে। সেটিকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

তিনি বলেন, ভোজ্যতেল নিয়ে আমরা নিয়মিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসি। এটি একটি সংবেদনশীল পণ্য। এটির দাম বাড়লে ক্রেতারা নাখোশ হোন। এজন্য নিয়মিত বিরতিতে আমরা দেশের তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি, আমদানি পর্যালোচনা করি। তবে এ বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো বলার মতো কোন কিছু হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যনগরের উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলিজনিত বিদায় ও নতুন কর্মকর্তার যোগদান সম্পন্ন।

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত সিদ্ধান্তের আশ্বাস—ভোক্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার সরকারের।

ভোজ্যতেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে  ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক : দাম না বাড়ানোর ইঙ্গিত

আপডেট সময় ০৪:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা অস্থিরতা যাতে সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখা যায়।”

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভোক্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি একটি সংবেদনশীল সময়। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। “এই খাতে যারা কাজ করেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের পণ্য আমদানির জন্য বড় আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন। কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাজার থেকে সরে গেলে সেটি দেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে যোগ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ‘কমফোর্টেবল’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, “সরকার একটি টিম হিসেবে কাজ করছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি যাতে বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।”

বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনের চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো আবদুর রহিম খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট খাতেব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের  প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষেরা এ সময় বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে-যুদ্ধ নানা কারণে শঙ্কার মধ্যে আছে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, এরমধ্যে যেন কোন পণ্যের দাম না বাড়ে। সেটিকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

তিনি বলেন, ভোজ্যতেল নিয়ে আমরা নিয়মিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসি। এটি একটি সংবেদনশীল পণ্য। এটির দাম বাড়লে ক্রেতারা নাখোশ হোন। এজন্য নিয়মিত বিরতিতে আমরা দেশের তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি, আমদানি পর্যালোচনা করি। তবে এ বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো বলার মতো কোন কিছু হয়নি।