
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলাকারী যুবলীগ কর্মী আলফাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার গাবাছিয়া গ্রামের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। যুবলীগ কর্মী আলফাজ (৩৫) উপজেলার গাবাছিয়া গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদারের ছেলে। সে এখন যুবদল কর্মী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। তার নামে মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকলেও বিএনপি ও যুবদল নেতাদের সুপারিশে যুবদল কর্মী দাবী করে এলাকায় মটোর সাইকেলে মহড়া দেয় যা সবার নজরে পড়ে।
জানা যায়, স্থানীয় যুবলীগ কর্মী আলফাজ পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ শ,ম রেজাউল করিমের অনুসারী। সে রেজাউল করিমের ৫ আগষ্টের আগে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেছে এবং গাড়ী বহর নিয়ে মহড়া দিয়েছে যার ভিডিও রয়েছে। এমনকি ৪ আগষ্ট ছাত্র আন্দোনে সে ছাত্রদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ যুবলীগের সাথে মাঠে ছিল।
কিন্তু ৫ আগষ্টের পর ইন্দুরকানী থানায় ৪ সেপ্টেম্বর বালিপাড়া স্থানীয় বিএপি নেতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে বিএনপির মিছিলে গুলি ও হামলার মামলায় যুবলীগ কর্মী আলফাজকে আসামী করা হয়। আলফাজ ৫ আগষ্টের পর সে আত্মগোপনে থেকে স্থানীয় যুবদল ও বিএনপি নেতা কর্মীদের সহায়তা ১৫ দিন ধরে এলাকায় অবস্থান করে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়। বিষয়টি আলোচিত হলে পুলিশ প্রশানের নজরে পড়ে। পরে তাকে শনিবার রাতে তার গাবগাছিয়ার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার যুবলীগকর্মী আলফাজকে বিএনপির মিছিলে হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারগারে পাঠায়।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ ফরিদ আহম্মেদ জানান, স্থানীয় যুবদল নেতা কর্মীরা ৫ আগষ্টের পর কয়েকটি দলীয় কর্মসুচিতে আলফাজের ছবি দেখায়। কিন্তু ৫ আগষ্টের আগে আলফাজ আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ শ,ম রেজাউল করিমের সাথে বিভিন্ন শোডাউনে ছিলেন যার ভিডিও দেখা গেছে। সে আমাদের দলের কোন সদস্য নয়।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম লাভলু জানান, আলফাজ আগে কি করেছে জানিনা তবে ৫ আগষ্টের পর দলীয় কয়েকটি কর্মসূচিতে ছিল। কিন্তু সে দলের কোন কমিটিতে নাই।
ইন্দুরকানী থাানর ওসি মোঃ মারুফ হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আলফাজ একটি নাশকতার মামলার আসামী তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে ওই মামলায় আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।