ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বাংলাদেশে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা চর্চা বৃদ্ধিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ রাজধানীর বিজয়নগরস্থ পাস হোটেল এন্ড রিসোর্টসের সম্মেলন কক্ষে “Seminar on enhancing occupational safety and health practices in Bangladesh” শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মোঃ ইমরুল মহসিন তার বক্তব্যে পেশাগত স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতিবছর পেশাগত কারণে যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেন তার ৮৮ শতাংশই মারা যান পেশাগত বিভিন্ন রোগের (Occupational Diseases) কারণে। তিনি এই মৃত্যুর হার কমাতে কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে অধিকতর মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, শ্রমবান্ধব আইন প্রণয়ন ও সংস্কারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্র কেবল শারীরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং একটি মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে শক্তিশালী মেলবন্ধন তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, উৎপাদনের মূল শক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। আমাদের জীবন-জীবিকার সাথে সম্পৃক্ত সকল সেবা তাদের মাধ্যমেই আসে। তাই তাদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ শ্রমিকের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের নয় বরং শিল্পেরও বড় ক্ষতি। শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করা এবং তাদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা উন্নত দেশ গড়ার পূর্বশর্ত। তিনি পরিদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিদর্শকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং আদালতে ঝুলে থাকা পরিদর্শন সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহাদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রম আইনের বিদ্যমান ত্রুটিগুলো নিরসনে সরকার শ্রমিক নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং পরিদর্শন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদ এবং মন্ত্রণালয় ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বাংলাদেশে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা চর্চা বৃদ্ধিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৬:২৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ রাজধানীর বিজয়নগরস্থ পাস হোটেল এন্ড রিসোর্টসের সম্মেলন কক্ষে “Seminar on enhancing occupational safety and health practices in Bangladesh” শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মোঃ ইমরুল মহসিন তার বক্তব্যে পেশাগত স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতিবছর পেশাগত কারণে যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেন তার ৮৮ শতাংশই মারা যান পেশাগত বিভিন্ন রোগের (Occupational Diseases) কারণে। তিনি এই মৃত্যুর হার কমাতে কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে অধিকতর মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, শ্রমবান্ধব আইন প্রণয়ন ও সংস্কারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্র কেবল শারীরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং একটি মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে শক্তিশালী মেলবন্ধন তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, উৎপাদনের মূল শক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। আমাদের জীবন-জীবিকার সাথে সম্পৃক্ত সকল সেবা তাদের মাধ্যমেই আসে। তাই তাদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ শ্রমিকের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের নয় বরং শিল্পেরও বড় ক্ষতি। শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করা এবং তাদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা উন্নত দেশ গড়ার পূর্বশর্ত। তিনি পরিদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিদর্শকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং আদালতে ঝুলে থাকা পরিদর্শন সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহাদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রম আইনের বিদ্যমান ত্রুটিগুলো নিরসনে সরকার শ্রমিক নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং পরিদর্শন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদ এবং মন্ত্রণালয় ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ।