ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই সর্বনাশ; ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত, সহায়তার আশ্বাস প্রশাসনের

পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত, চরম বিপাকে হাওরপাড়ের অসহায় কৃষকরা।

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
কাইয়ুম বাদশাহ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চলতি মৌসুমে পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই ফসল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে কিছুদিন আগেও সোনালী ধানের দোল ছিল, সেখানে এখন থৈথৈ পানি। বহু জায়গায় সম্পূর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। জীবনের শেষ সম্বল ধান রক্ষায় কেউ কেউ পানির মধ্যেই কষ্ট করে কাটার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই হতাশা ও অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, বছরের পর বছর একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। পাকা ধান ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে পানি ঢুকে সব নষ্ট হয়ে যায়। এতে শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও তীব্র আকার ধারণ করে।
একজন কৃষক বলেন, “এখন ধানও নেই, ঘরে খাবারও নেই। গরুর খাবারও শেষ হয়ে গেছে। আমরা পুরোপুরি বিপাকে পড়েছি। যদি আগে থেকে পানি নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধ শক্ত থাকত, তাহলে আজ এই অবস্থা হতো না।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ, নিয়মিত নদী ও খাল খনন এবং সময়মতো পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বছরই একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারেননি, ফলে তারা ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “হাওরাঞ্চলে আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।”
হাওর বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই সংকট থেকে বাঁচার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে নদী-খাল খনন, শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা না গেলে প্রতিবছরই কৃষকরা একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে থাকবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই সর্বনাশ; ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত, সহায়তার আশ্বাস প্রশাসনের

পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত, চরম বিপাকে হাওরপাড়ের অসহায় কৃষকরা।

আপডেট সময় ০১:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
কাইয়ুম বাদশাহ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চলতি মৌসুমে পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই ফসল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে কিছুদিন আগেও সোনালী ধানের দোল ছিল, সেখানে এখন থৈথৈ পানি। বহু জায়গায় সম্পূর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। জীবনের শেষ সম্বল ধান রক্ষায় কেউ কেউ পানির মধ্যেই কষ্ট করে কাটার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই হতাশা ও অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, বছরের পর বছর একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। পাকা ধান ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে পানি ঢুকে সব নষ্ট হয়ে যায়। এতে শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও তীব্র আকার ধারণ করে।
একজন কৃষক বলেন, “এখন ধানও নেই, ঘরে খাবারও নেই। গরুর খাবারও শেষ হয়ে গেছে। আমরা পুরোপুরি বিপাকে পড়েছি। যদি আগে থেকে পানি নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধ শক্ত থাকত, তাহলে আজ এই অবস্থা হতো না।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ, নিয়মিত নদী ও খাল খনন এবং সময়মতো পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বছরই একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারেননি, ফলে তারা ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “হাওরাঞ্চলে আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।”
হাওর বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই সংকট থেকে বাঁচার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে নদী-খাল খনন, শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা না গেলে প্রতিবছরই কৃষকরা একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে থাকবেন।