
জেনে নিন পি.আর. পদ্ধতি কী?
PR বা Proportional Representation হলো এমন এক নির্বাচনী পদ্ধতি, যেখানে একটি দল বা প্রার্থী যে পরিমাণ ভোট পায়, সে অনুপাতে সংসদ বা আইনসভায় আসন পায়। এ পদ্ধতির মূল ধারণা “ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন”। অর্থাৎ ২০% ভোট পেলে দলটি ২০% আসন পাবে, তা সে একটি আসনেও সরাসরি বিজয়ী হোক বা না হোক। এই পদ্ধতিতে সাধারণত মাল্টি-মেম্বার কনস্টিটুয়েন্সি ও দলভিত্তিক ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রোপোশনাল রিপ্রেজেন্টেশন-এর ধারণার উদ্ভব হয় ১৮৩০-এর দশকে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে, যখন সমাজে ছোট দল ও সংখ্যালঘুদের পর্যাপ্ত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিরুদ্ধে একধরনের আন্দোলন শুরু হয়। ১৮৯৯ সালে আধুনিকভাবে প্রথমবারের মতো PR পদ্ধতি চালু করে বেলজিয়াম।
পরে এটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে যখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ছিল জরুরি। বর্তমানে কোন কোন দেশে PR আছে : PR পদ্ধতি বর্তমানে নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, ইসরায়েল, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নেপাল প্রভৃতি দেশে চালু রয়েছে।
তবে একেক দেশ একে একেকভাবে বাস্তবায়ন করে মিশ্র (Mixed), খোলা তালিকা (Open List), বন্ধ তালিকা (Closed List), অথবা জার্মানির মতো MMP (Mixed Member Proportional) পদ্ধতিতে। আমি কবির নেওয়াজ রাজ মনে করি, পি.আর. পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো : ভোটের হার অনুযায়ী আসন বণ্টন হয়, মাল্টি-মেম্বার কনস্টিটুয়েন্সি থাকে, দলভিত্তিক তালিকা ভোটাররা বেছে নেয়, ছোট দলগুলোও সুযোগ পায় সংসদে প্রবেশের। সময়ের বুলেটিন এর প্রধান সম্পাদক হাসানূর রহমান সুমন বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলগুলোর জন্য ভালো হবে। কারণ এতে জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং জাতীয় সংসদ হয়ে উঠবে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক।
লেখক : কবির নেওয়াজ রাজ
এমএসএস” রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
সিসি” জার্নালিজম,এলএলবি।