
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অভিযান ০১:
ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক দাশেরকান্দি পয়োবর্জ্য শোধনাগার প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানাবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা ওয়াসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলে এবং তথ্য সংগ্রহ করে। অতঃপর বর্ণিত প্রকল্পের পরিকল্পনা পর্যায়ের কিছু তথ্য সংগ্রহ করে দুদক টিম; অবশিষ্ট তথ্যের জন্য চাহিদাপত্র প্রদান করা হয়েছে। সকল তথ্যাদি প্রাপ্তিপূর্বক পর্যালোচনাসাপেক্ষে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
অভিযান ০২:
খাগড়াছড়ি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাঙ্গামাটি হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। টিম কর্তৃক খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়সমূহে গমন করে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের ডকুমেন্টস যাচাই-বাছাই ও সংগ্রহ করা হয়। অতপর জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত হারিয়ে যাওয়া রাইস হারভেস্টার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ও জেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও এ সংক্রান্ত ডকুমেন্টস সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে টিম কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক, রাঙ্গামাটিকে অবশিষ্ট সংশ্লিষ্ট তথ্যের চাহিদাপত্র প্রদান করে। তথ্য-উপাত্তসমূহ পর্যালোচনাপুর্বক টিম কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।
অভিযান ০৩:
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দেখা যায়, উক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তিকৃত রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান, হাসপাতাল অপরিচ্ছন্ন ও আউটসোর্সিং কর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে না। সরকারি ওষুধ পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও রোগীদের না দিয়ে বাহির থেকে কিনতে বাধ্য করা হয় এবং এক্সরে মেশিন চালু থাকা সত্ত্বেও বাহিরে গিয়ে এক্সরে করতে বলা হয় মর্মে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। টিম জানতে পারে, হাসপাতালের অনুমোদিত ৩০ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৫ জন কর্মরত আছেন, ফলে রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি ব্যবহারে গরমিল পাওয়া যায়। দুদক টিম কর্তৃক উদঘাটিত অনিয়মসমূহ রোগীদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যাবলির প্রেক্ষিতে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।