ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান। Logo যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় নয়: কৃষি মন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সংহতিপত্র হস্তান্তর ও কাতারের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক Logo প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরবিইউ মডেল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করেছে বিপিসিএল Logo দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন Logo নির্বাহী প্রকৌশলীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে চলমান সব কাজ যাচাই করার নির্দেশ ডিএনসিসি প্রশাসকের Logo রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রশাসন ও  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি-নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি তৈরি করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এক প্রতারক গ্রেফতার Logo সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রীর সাথে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত: বাংলাদেশীদের জন্য হজ ও উমরাহ সেবায় নতুন গতি Logo জ্বালানী তেল মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে লালমনিরহাট সীমান্তে কার্যক্রম জোরদার করেছে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মেলার সমাপনী ঘোষণা করেন; দেশি-বিদেশি ৩২৯ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।

বাণিজ্য মেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, বিক্রি ৩৯৩ কোটি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ৩১ জানুয়ারি পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার সমাপনী ঘোষণা করেন।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০ তম আসরে ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং বিক্রি হয়েছে ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য।

আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয় ডিআইটিএফ ২০২৬ এ দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যতিত মোট ০৬টি দেশের (ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া) মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণ করছে।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারী ও ভারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, কসমেটিক্স, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, হোম ডেকর, ক্রোকারিজ, হস্তশিল্পজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট শিল্পের পণ্য ও সেবাসহ ফাস্টফুড ও নানাবিধ সেবাসামগ্রী প্রদর্শিত ও বিক্রি হয়েছে।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬ এর সরেজমিন জরিপের মাধ্যমে সকল প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শিত পণ্য-সামগ্রির মধ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নতুন পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে:

ডিআইটিএফ-২০২৬ এ অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত মতে তাদের প্রাপ্ত সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২২৪.২৬ কোটি টাকা। রপ্তানি আদেশ লাভে সক্ষম খাতগুলো হলো বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স, হোম এ্যাপলায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা, ফেব্রিক্স ইত্যাদি। যে সকল দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক।

এছাড়াও স্থানীয়ভাবে আনুমানিক ৩৯৩ (তিনশত তিরানব্বই) কোটি টাকা মূল্যের পণ্য-সামগ্রীর (রেস্তোঁরা সহ) ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ডিআইটিএফ-২০২৬ এ বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৪২ শতাংশ।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অঙ্গসজ্জা/অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা, পণ্য প্রদর্শণ এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান ও ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলী প্রতিপালন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য-বিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনিত করা হয়।

রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারী ট্রেড প্রমোশন সংস্থা (BSCIC,SME Foundation and JDPC), পণ্য ভিত্তিক ট্রেড এসোসিয়েশন (BPGMEA, BGAPMEA, (BFPIA) and BanglaCraft) এবং উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা (World Bank, GIZ, FCDO, BSI) এর সমন্বয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে সেমিনার সিরিজ এর অধীন ০৮টি সেমিনার মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হয়।

দেশীয় লোক সংগীত এবং আধুনিক গানের মেলবন্ধন উপস্থাপন এবং দর্শনার্থীদের বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা করতে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা-২০২৬ এ দেশ বরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন করা হয়।

এবারের বাণিজ্য মেলাকে অধিকতর আকর্ষণীয় করতে অনলাইনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ এবং মেলার প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় কনসেশন রেটে পাঠাও সার্ভিস। এবারের বাণিজ্য মেলায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়।

বিদেশী সম্ভাব্য ক্রেতা এবং স্থানীয় দর্শনার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের নেতৃস্থানীয় ০৭টি রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে Export Enclave তৈরী করা হয়। সিনিয়র সিটিজেনদের মেলায় আগমন উপভোগ্য, আনন্দদায়ক, আরামপ্রদ ও সাচ্ছন্দপূর্ণ করার জন্য Senior Citizen Corner, মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং শিশুদের নির্মল আনন্দ ও বিনোদন প্রদানের জন্য শিশু পার্কের ব্যবস্থা করা হয়। মেলায় একাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যম্পেইন পরিচালনা করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি এবং অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়। খাদ্য-দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা হয়রানি রোধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাসব্যাপী মেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।

এছাড়াও স্থানীয়ভাবে আনুমানিক ৩৯৩ (তিনশত তিরানব্বই) কোটি টাকা মূল্যের পণ্য-সামগ্রীর (রেস্তোঁরা সহ) ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ডিআইটিএফ-২০২৬ এ বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৪২ শতাংশ।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অঙ্গসজ্জা/অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা, পণ্য প্রদর্শণ এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান ও ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলী প্রতিপালন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য-বিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত করে তাদের সন্মাননা স্মারক তুলে দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মেলার সমাপনী ঘোষণা করেন; দেশি-বিদেশি ৩২৯ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।

বাণিজ্য মেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, বিক্রি ৩৯৩ কোটি

আপডেট সময় ০৩:৪৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ৩১ জানুয়ারি পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার সমাপনী ঘোষণা করেন।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০ তম আসরে ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং বিক্রি হয়েছে ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য।

আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয় ডিআইটিএফ ২০২৬ এ দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যতিত মোট ০৬টি দেশের (ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া) মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণ করছে।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারী ও ভারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, কসমেটিক্স, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, হোম ডেকর, ক্রোকারিজ, হস্তশিল্পজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট শিল্পের পণ্য ও সেবাসহ ফাস্টফুড ও নানাবিধ সেবাসামগ্রী প্রদর্শিত ও বিক্রি হয়েছে।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬ এর সরেজমিন জরিপের মাধ্যমে সকল প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শিত পণ্য-সামগ্রির মধ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নতুন পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে:

ডিআইটিএফ-২০২৬ এ অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত মতে তাদের প্রাপ্ত সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২২৪.২৬ কোটি টাকা। রপ্তানি আদেশ লাভে সক্ষম খাতগুলো হলো বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স, হোম এ্যাপলায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা, ফেব্রিক্স ইত্যাদি। যে সকল দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক।

এছাড়াও স্থানীয়ভাবে আনুমানিক ৩৯৩ (তিনশত তিরানব্বই) কোটি টাকা মূল্যের পণ্য-সামগ্রীর (রেস্তোঁরা সহ) ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ডিআইটিএফ-২০২৬ এ বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৪২ শতাংশ।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অঙ্গসজ্জা/অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা, পণ্য প্রদর্শণ এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান ও ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলী প্রতিপালন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য-বিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনিত করা হয়।

রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারী ট্রেড প্রমোশন সংস্থা (BSCIC,SME Foundation and JDPC), পণ্য ভিত্তিক ট্রেড এসোসিয়েশন (BPGMEA, BGAPMEA, (BFPIA) and BanglaCraft) এবং উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা (World Bank, GIZ, FCDO, BSI) এর সমন্বয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে সেমিনার সিরিজ এর অধীন ০৮টি সেমিনার মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হয়।

দেশীয় লোক সংগীত এবং আধুনিক গানের মেলবন্ধন উপস্থাপন এবং দর্শনার্থীদের বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা করতে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা-২০২৬ এ দেশ বরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন করা হয়।

এবারের বাণিজ্য মেলাকে অধিকতর আকর্ষণীয় করতে অনলাইনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ এবং মেলার প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় কনসেশন রেটে পাঠাও সার্ভিস। এবারের বাণিজ্য মেলায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়।

বিদেশী সম্ভাব্য ক্রেতা এবং স্থানীয় দর্শনার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের নেতৃস্থানীয় ০৭টি রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে Export Enclave তৈরী করা হয়। সিনিয়র সিটিজেনদের মেলায় আগমন উপভোগ্য, আনন্দদায়ক, আরামপ্রদ ও সাচ্ছন্দপূর্ণ করার জন্য Senior Citizen Corner, মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং শিশুদের নির্মল আনন্দ ও বিনোদন প্রদানের জন্য শিশু পার্কের ব্যবস্থা করা হয়। মেলায় একাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যম্পেইন পরিচালনা করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি এবং অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়। খাদ্য-দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা হয়রানি রোধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাসব্যাপী মেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।

এছাড়াও স্থানীয়ভাবে আনুমানিক ৩৯৩ (তিনশত তিরানব্বই) কোটি টাকা মূল্যের পণ্য-সামগ্রীর (রেস্তোঁরা সহ) ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ডিআইটিএফ-২০২৬ এ বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৪২ শতাংশ।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অঙ্গসজ্জা/অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা, পণ্য প্রদর্শণ এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান ও ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলী প্রতিপালন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য-বিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত করে তাদের সন্মাননা স্মারক তুলে দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।