
কাইয়ুম বাদশাহ, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ২ নং দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পলমাটি গ্রামে বোরো মৌসুমে খালের পানি সেচে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই কর্মকাণ্ডের কারণে খালের পানি প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে, যা জমিতে সেচ দেওয়ার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করছে। অনেক ফসলি ধান ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, ফলে কৃষি উৎপাদনে সংকট দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন, শীত মৌসুমে নালায় যে সামান্য পানি ছিল, তা মূলত ধানের ক্ষেতে সেচের কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি কিছু কুচক্রী মহল খালের পানি মেশিনের মাধ্যমে শুকিয়ে মাছ ধরা শুরু করেছে। বর্তমানে খালের পানি না থাকার কারণে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ প্রায় বন্ধ রয়েছে।
এ ঘটনায় পলমাটি গ্রামের মো. সাদ্দাম (৩২), মিস্টার (৩৪), রতন মিয়া (৩৬) ও রেহান মিয়ার বিরুদ্ধে পানি সেচে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের মধ্যনগর উপজেলার আহ্বায়ক মো. আসরাফ উদ্দিন হিল্লোল বলেন,মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবৈধভাবে পানি সেঁচের মাধ্যমে খালের কৃষি জমির চাষের আশপাশের খালের পানি সংকট তৈরি হচ্ছে সেই সাথে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজননের ধংশ হচ্ছে। “মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায়কে ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি এবং ধর্মপাশা উপজেলা ও মধ্যনগর উপজেলার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি অফিসের এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।”
অন্যদিকে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উপদেষ্টা ও হাওর গবেষক কবি আকিকুর তালুকদার বলেন, “নালা থেকে পানি সেচ ও মাছ ধরার কারণে হাওরের মাছের প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ছে। পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানির অভাবে খেতগুলো ফেটে যাচ্ছে, যা কৃষি ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ক্ষতির কারণ। মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, “আমরা স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশ বিষয়ক উদ্বেগের কথা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। খালের পানি সেচ ও মাছ ধরার বিষয়ে অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নির্বাচনের পর অব্যাহতভাবে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে হাওরের জলজ পরিবেশ এবং কৃষি উৎপাদনের ক্ষতি রোধ করা হবে।
মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোস বলন “সামনে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি সংবেদনশীল হওয়ায় আমরা এখন সরাসরি অভিযান চালাতে পারছি না। তবে নির্বাচনের পর খালেরর পানি সেচ ও মাছ ধরার বিষয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।”
তিনি আরো বলেন, “ নির্বাচনের পর আমরা প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপ নিশ্চিত করব।”
স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাওরের জলজ পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজস্ব সংবাদ : 























