ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পেট্রোল অকটেনের যে মজুদ আছে আগামী দুই মাসেও সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র Logo কর্ণফুলী টানেলের আয় বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিতে সেতু সচিবের মতবিনিময় ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন Logo শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সিলেটের জন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেন শ্রমমন্ত্রী Logo সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ Logo যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ কর্তৃক সিরিয়াল রেপিস্ট রাশেদুল ইসলাম রাব্বি গ্রেফতার Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬২ জন গ্রেফতার Logo অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন বছর সাজানোর আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর Logo দুর্ঘটনায় আহত ইউএইচএফপিও ডা. শংকরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার Logo বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’-এর উদ্বোধন
পেট্রোল-অকটেনের পর্যাপ্ত মজুদ, ডিজেল সরবরাহেও সমস্যা হবে না অভিযানে উদ্ধার ৫ লাখ লিটারের বেশি অবৈধ জ্বালানি

পেট্রোল অকটেনের যে মজুদ আছে আগামী দুই মাসেও সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : (বাসস): জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন,  কৃষকের জাতে সমস্যা না হয় সেই জন্য ডিজেলেরও সমস্যা নেই।

আজ রবিবার সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সারা দেশে গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯১৬ টি অভিযান চালিয়ে ৩৫১০ টি মামলা করা হয়েছে।

তিনি জানান, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ  ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, সারা দেশে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে  এযাবত ডিজেল উদ্ধারের পরিমাণ হচ্ছে ৩ লক্ষ ৬ হাজার লিটার, অকটেন উদ্ধার হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার, পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার, ফার্নেস ওয়েল যেটা এই গত পরশুদিন আমাদের চিটাগং এ থেকে উদ্ধার হয়েছে তা হলো  ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার।

তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সারাদেশে  সব মিলিয়ে ৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার  অবৈধ মজুদকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আজকের দিনের মজুদ পরিস্থিতি  হচ্ছে আজকের দিনে টোটাল ডিজেলের মজুদ আছে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন আছে ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন। পেট্রোল আছে ১৮ হাজার ২১ মেট্রিক টন।  ফারনেস ওয়েল আছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থিত একমাত্র সরকারী জালানী তেল পরিশোধনাগার প্রতিষ্ঠান  ইস্টার্ন রিফাইনারি আমাদের একমাত্র পরিশোধনাগার। সেখানে বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ মেট্রিক টনের মত ক্রুড ওয়েল এনে ওখানে পরিশোধন করা হয়। এবং এই রিফাইনারি থেকে সারা বছরে বাংলাদেশের যে তেল দরকার তার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, এটা বন্ধ হয়ে গেলেও সরকারের কাছে আরো জ্বালানি তেলের বিকল্প আছে। কারণ সরকার সব সময় বিদেশ থেকে রিফাইন তেল আমদানি করে থাকে।

তবে ইস্টার্ন রিফাইনারি এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। রিফাইনারির দুইটি ইউনিট এখনো চালু আছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণদমে কাজ শুরু করতে পারবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ক্রুড অয়েলের একমাত্র সোর্স যেটা হরমুজ দিয়ে আসে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকে।  সৌদির আরাম্পো এবং আরব আমিরাত থেকে এআলফ এরাবিয়ান বাইট ক্রুট যেটা সেটা আমরা আনি। এনে আমাদের রিফাইনারিতে আমরা সেটা পরিশোধন করি। কিন্তু যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পরে মার্চ মাসে আমাদের যে সিডিউলটা ছিল সেটা আমরা আনতে পারিনি। আর এপ্রিল মাসেও একই অবস্থা চলছে। কিন্তু আমাদের কাছে ফরচুনেটলি আমাদের মোটামুটি আগের যে মজুদ ছিল সেটা দিয়ে আমরা কন্টিনিউ করে যাচ্ছিলাম।

তিনি বলেন,  আমরা খুব সীমিত পর্যায়ে হলেও পরবর্তী যে চালানটা আমরা পাব আশা করছি আগামী 20 তারিখ নাগাদ।

তিনি বলেন,  আমাদের ক্রুড ওয়েলের একটা জাহাজ সৌদি আরবের ইয়াম্বু বন্দর থেকে স্টার্ট করে লোহিত সাগর হয়ে ভিন্ন চ্যানেলে আমাদের চলতি এপ্রিলের লাস্ট উইকে কিংবা মে মাসের এক দুই তারিখের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। তো সে পর্যন্ত আমরা সীমিত পরিসরে আমাদের ইআরএলটাকে চালু রাখবো।

তিনি বলেন,  আপনাদের মাধ্যমে একটু জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে ইআরএল( ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড)  এর বিষয়টা আমাদের জ্বালানি সরবরাহ চ্যানেলে খুব প্রভাব বিস্তার করে না। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ রিফাইন অয়েল আমাদের হাতে আছে। ইআরএলের কাজ রিফাইন করা। ফলে রিফাইনড অয়েল যখন আমার হাতে আছে ফলে ইআরএলের বিষয়টা আমাদের জ্বালানি তেলের সরবরাহে  কোন প্রভাব ফেলবে না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে  তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে তিনি বলেন সরকার জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনই দাম বাড়ানোর পক্ষে নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেট্রোল অকটেনের যে মজুদ আছে আগামী দুই মাসেও সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র

পেট্রোল-অকটেনের পর্যাপ্ত মজুদ, ডিজেল সরবরাহেও সমস্যা হবে না অভিযানে উদ্ধার ৫ লাখ লিটারের বেশি অবৈধ জ্বালানি

পেট্রোল অকটেনের যে মজুদ আছে আগামী দুই মাসেও সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র

আপডেট সময় ১০:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : (বাসস): জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন,  কৃষকের জাতে সমস্যা না হয় সেই জন্য ডিজেলেরও সমস্যা নেই।

আজ রবিবার সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সারা দেশে গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯১৬ টি অভিযান চালিয়ে ৩৫১০ টি মামলা করা হয়েছে।

তিনি জানান, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ  ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, সারা দেশে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে  এযাবত ডিজেল উদ্ধারের পরিমাণ হচ্ছে ৩ লক্ষ ৬ হাজার লিটার, অকটেন উদ্ধার হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার, পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার, ফার্নেস ওয়েল যেটা এই গত পরশুদিন আমাদের চিটাগং এ থেকে উদ্ধার হয়েছে তা হলো  ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার।

তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সারাদেশে  সব মিলিয়ে ৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার  অবৈধ মজুদকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আজকের দিনের মজুদ পরিস্থিতি  হচ্ছে আজকের দিনে টোটাল ডিজেলের মজুদ আছে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন আছে ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন। পেট্রোল আছে ১৮ হাজার ২১ মেট্রিক টন।  ফারনেস ওয়েল আছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থিত একমাত্র সরকারী জালানী তেল পরিশোধনাগার প্রতিষ্ঠান  ইস্টার্ন রিফাইনারি আমাদের একমাত্র পরিশোধনাগার। সেখানে বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ মেট্রিক টনের মত ক্রুড ওয়েল এনে ওখানে পরিশোধন করা হয়। এবং এই রিফাইনারি থেকে সারা বছরে বাংলাদেশের যে তেল দরকার তার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, এটা বন্ধ হয়ে গেলেও সরকারের কাছে আরো জ্বালানি তেলের বিকল্প আছে। কারণ সরকার সব সময় বিদেশ থেকে রিফাইন তেল আমদানি করে থাকে।

তবে ইস্টার্ন রিফাইনারি এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। রিফাইনারির দুইটি ইউনিট এখনো চালু আছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণদমে কাজ শুরু করতে পারবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ক্রুড অয়েলের একমাত্র সোর্স যেটা হরমুজ দিয়ে আসে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকে।  সৌদির আরাম্পো এবং আরব আমিরাত থেকে এআলফ এরাবিয়ান বাইট ক্রুট যেটা সেটা আমরা আনি। এনে আমাদের রিফাইনারিতে আমরা সেটা পরিশোধন করি। কিন্তু যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পরে মার্চ মাসে আমাদের যে সিডিউলটা ছিল সেটা আমরা আনতে পারিনি। আর এপ্রিল মাসেও একই অবস্থা চলছে। কিন্তু আমাদের কাছে ফরচুনেটলি আমাদের মোটামুটি আগের যে মজুদ ছিল সেটা দিয়ে আমরা কন্টিনিউ করে যাচ্ছিলাম।

তিনি বলেন,  আমরা খুব সীমিত পর্যায়ে হলেও পরবর্তী যে চালানটা আমরা পাব আশা করছি আগামী 20 তারিখ নাগাদ।

তিনি বলেন,  আমাদের ক্রুড ওয়েলের একটা জাহাজ সৌদি আরবের ইয়াম্বু বন্দর থেকে স্টার্ট করে লোহিত সাগর হয়ে ভিন্ন চ্যানেলে আমাদের চলতি এপ্রিলের লাস্ট উইকে কিংবা মে মাসের এক দুই তারিখের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। তো সে পর্যন্ত আমরা সীমিত পরিসরে আমাদের ইআরএলটাকে চালু রাখবো।

তিনি বলেন,  আপনাদের মাধ্যমে একটু জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে ইআরএল( ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড)  এর বিষয়টা আমাদের জ্বালানি সরবরাহ চ্যানেলে খুব প্রভাব বিস্তার করে না। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ রিফাইন অয়েল আমাদের হাতে আছে। ইআরএলের কাজ রিফাইন করা। ফলে রিফাইনড অয়েল যখন আমার হাতে আছে ফলে ইআরএলের বিষয়টা আমাদের জ্বালানি তেলের সরবরাহে  কোন প্রভাব ফেলবে না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে  তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে তিনি বলেন সরকার জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনই দাম বাড়ানোর পক্ষে নয়।