ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা Logo রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo প্রধান উপদেষ্টার নিকট ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর Logo স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম ও ডিএমপি’র থানা পরিদর্শন Logo ভয়েস ফর জাস্টিস অবজারভার্স টিমের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ Logo বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ জন বিদেশী সাংবাদিক Logo প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আনফ্রেল-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo শুভেচ্ছা’ ও ‘দ্রুত টিকেট’-এর যাত্রা শুরু Logo নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা আইল্যান্ড ইকোপার্ক উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা
মানবাধিকার সম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক নজরদারি ব্যবস্থার সুপারিশসহ ৮টি প্রস্তাবনা প্রধান উপদেষ্টাকে জমা।

প্রধান উপদেষ্টার নিকট ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩০ বার পড়া হয়েছে
আলী আহসান রবি : অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ প্রধান উপদেষ্টার নিকট চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে (১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতাসমূহের আইনি এবং কারিগরি দিকসমূহের পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও এতে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের পাশাপাশি, নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ৮টি মানদণ্ডের সাপেক্ষে ৮টি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়।
বাংলাদেশের কিছু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত ঘটনা, এবং একইসাথে নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্য – এই দুই বাস্তবতার সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন প্রণীত হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
কমিটি এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বর্তমানে প্রচলিত অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে; মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক, এবং audit-driven ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা (two-layer transparency model)’ কাঠামো সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা একটি বৈশ্বিক মান সম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU) এর দিকনির্দেশনা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, মানবাধিকার মানদণ্ড, এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রশাসনিক সক্ষমতা, এই সবকিছুর আলোকে একটি বাস্তবসম্মত সংস্কারপথ উপস্থাপন করাই ছিল এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।
এই কমিটির প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত ভার্সন গেজেটভূক্ত করেছে। এছাড়াও এই কমিটি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রস্তাব করেছে।
এই প্রতিবেদন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পরসম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মানবাধিকার সম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক নজরদারি ব্যবস্থার সুপারিশসহ ৮টি প্রস্তাবনা প্রধান উপদেষ্টাকে জমা।

প্রধান উপদেষ্টার নিকট ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর

আপডেট সময় ০৩:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আলী আহসান রবি : অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ প্রধান উপদেষ্টার নিকট চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে (১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতাসমূহের আইনি এবং কারিগরি দিকসমূহের পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও এতে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের পাশাপাশি, নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ৮টি মানদণ্ডের সাপেক্ষে ৮টি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়।
বাংলাদেশের কিছু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত ঘটনা, এবং একইসাথে নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্য – এই দুই বাস্তবতার সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন প্রণীত হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
কমিটি এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বর্তমানে প্রচলিত অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে; মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক, এবং audit-driven ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা (two-layer transparency model)’ কাঠামো সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা একটি বৈশ্বিক মান সম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU) এর দিকনির্দেশনা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, মানবাধিকার মানদণ্ড, এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রশাসনিক সক্ষমতা, এই সবকিছুর আলোকে একটি বাস্তবসম্মত সংস্কারপথ উপস্থাপন করাই ছিল এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।
এই কমিটির প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত ভার্সন গেজেটভূক্ত করেছে। এছাড়াও এই কমিটি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রস্তাব করেছে।
এই প্রতিবেদন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পরসম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।