ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঈদযাত্রায় স্বস্তি: নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা—গাবতলীতে সড়ক মন্ত্রীর পরিদর্শন Logo সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যু: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর শোক প্রকাশ Logo পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সময়ের বুলেটিনের প্রতিনিধি কাইয়ুম বাদশাহ। Logo ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা-পড়ুয়া শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের Logo কেরানীগঞ্জে তেল সংকট: দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পরও মিলছে অল্প জ্বালানি, পাম্পে সরবরাহে অচলাবস্থা Logo নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ…ড. খলিলুর রহমান Logo এনায়েতপুর যুবসমাজের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী আয়োজন: শিশু কিশোরদের কুরআন তেলওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  Logo ভিয়েনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা Logo কিশোরগঞ্জে নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা বাচ্চু মিয়ার পরিবারের পাশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বাসস্থানের ঘোষণা Logo জনগুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার – সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে; দায়ী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার হলেও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা-পড়ুয়া শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : শিশুদের ওপর চলমান যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। কুষ্টিয়ার একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের সাম্প্রতিক ঘটনা এধরণের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতিকে আবারও স্পষ্ট করেছে।

আজ বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমজেএফ জানায়, শিশুদের প্রতি এ ধরনের সহিংসতা ঘটছে ব্যক্তিগত পরিসরে, জনসমাগমস্থলে এবং মাদ্রাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ৭১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন কন্যাশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও রয়েছে এ তালিকায়। ২০২৫ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতার মোট ১ হাজার ২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে আসক।

এমজেএফ এই বিষয়ে দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানাচ্ছে। সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ভয় ও নীরবতার কারণে মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা সচরাচর প্রকাশ পায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর মতো ঘটনা না ঘটলে এসব বিষয় সামনে আসে না।

অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং শিশুরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার শিশুটি এখন জীবন রক্ষার লড়াই করছে বলেও দুঃখ প্রকাশ করে জানান শাহীন আনাম। একই সাথে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, যে মাদ্রাসায় শিশুটি আবাসিক ছাত্রী ছিল, সেই মাদ্রাসার প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শুধু গ্রেপ্তার করলেই শিশুদের ওপর চলমান এই নৃশংসতা বন্ধ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচারিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ, এবং অভিভাবকদের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি। কারণ, শিশুরা ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা জনসমাগমস্থল, সব জায়গাতেই সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, এই দায়িত্ব পালনে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং কার্যকর উদ্যোগে যুক্ত হতে প্রস্তুত রয়েছে নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আমাদের লক্ষ্য, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে শিশুরা নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রায় স্বস্তি: নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা—গাবতলীতে সড়ক মন্ত্রীর পরিদর্শন

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে; দায়ী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার হলেও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা-পড়ুয়া শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের

আপডেট সময় ০৫:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

আলী আহসান রবি : শিশুদের ওপর চলমান যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। কুষ্টিয়ার একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের সাম্প্রতিক ঘটনা এধরণের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতিকে আবারও স্পষ্ট করেছে।

আজ বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমজেএফ জানায়, শিশুদের প্রতি এ ধরনের সহিংসতা ঘটছে ব্যক্তিগত পরিসরে, জনসমাগমস্থলে এবং মাদ্রাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ৭১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন কন্যাশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও রয়েছে এ তালিকায়। ২০২৫ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতার মোট ১ হাজার ২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে আসক।

এমজেএফ এই বিষয়ে দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানাচ্ছে। সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ভয় ও নীরবতার কারণে মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা সচরাচর প্রকাশ পায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর মতো ঘটনা না ঘটলে এসব বিষয় সামনে আসে না।

অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং শিশুরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার শিশুটি এখন জীবন রক্ষার লড়াই করছে বলেও দুঃখ প্রকাশ করে জানান শাহীন আনাম। একই সাথে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, যে মাদ্রাসায় শিশুটি আবাসিক ছাত্রী ছিল, সেই মাদ্রাসার প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শুধু গ্রেপ্তার করলেই শিশুদের ওপর চলমান এই নৃশংসতা বন্ধ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচারিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ, এবং অভিভাবকদের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি। কারণ, শিশুরা ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা জনসমাগমস্থল, সব জায়গাতেই সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, এই দায়িত্ব পালনে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং কার্যকর উদ্যোগে যুক্ত হতে প্রস্তুত রয়েছে নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আমাদের লক্ষ্য, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে শিশুরা নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারবে।