ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী Logo উপসাগরীয় সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ওমান Logo ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী Logo সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী Logo এবছর ৬টি পাটকল লীজে দেওয়া হবে, বাড়াবে কর্মসংস্থান – বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির Logo লিবিয়া থেকে মানবপাচারের শিকার ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন Logo অনলাইনে ইনকামের লোভ দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: সিআইডির অভিযানে দুই প্রতারক গ্রেফতার Logo কক্সবাজারে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে তল্লাশি  চালিয়ে ২৪,৮০০ পিস ইয়াবাসহ ০২ জনকে আটক করেছে বিজিবি Logo নওগাঁয় জাল দলিল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চক্রের মুখোশ উন্মোচন: পিবিআই তদন্তে গ্রেপ্তার ৪, কারাগারে প্রেরণ Logo আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগেভাগেই ক্র্যাশ প্রোগ্রামে নামছে ডিএনসিসি
টেলিগ্রামভিত্তিক ভুয়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে কোটি টাকার প্রতারণা; রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে দুইজন আটক

অনলাইনে ইনকামের লোভ দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: সিআইডির অভিযানে দুই প্রতারক গ্রেফতার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো- পূর্ব ইউনিট। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ রাতের বেলা রাজধানী থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৩), পিতা- মো. গিয়াস উদ্দিন, মাতা- সনিয়া বেগম, সাং- ৮৯ নতুন পল্টন, থানা- লালবাগ, ডিএমপি, ঢাকা এবং মো. রাজিব খাঁন (৩৩), পিতা- মো. গাজী খাঁন, মাতা- আফসারা খাঁন দিসা, সাং- ৪৮০ নীলক্ষেত বাবুপুর, থানা- নিউমার্কেট, ডিএমপি, ঢাকা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গত ০১/০৭/২০২৫ খ্রি. তারিখে মতিঝিল থানাধীন এলাকায় অবস্থানকালে একজন ভুক্তভোগী ব্যক্তি টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে “Sabrina Islam” নামীয় একটি আইডির সাথে পরিচিত হন। উক্ত আইডি থেকে তাকে অনলাইনে সহজে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে “Atomic Market” নামীয় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।

প্রথমে প্রতারকরা স্বল্প অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে কমিশন ও বোনাস প্রদান করে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। এতে ভুক্তভোগীর নিকট বিষয়টি বৈধ ও লাভজনক বলে প্রতীয়মান হয়। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা জমা দিতে থাকেন।

এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লাভ দেখানো হলেও সেই অর্থ উত্তোলনের সময় “সিকিউরিটি ফি”, “সার্ভিস চার্জ”, “NFT স্কোর বৃদ্ধি” ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাতে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে এসব অর্থও প্রদান করেন। এভাবে প্রতারক চক্রটি ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে সর্বমোট ৩৯,৫৬,৪৬৯/- (উনচল্লিশ লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার চারশত উনসত্তর) টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে প্রতারকরা বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মতিঝিল থানায় মামলা নং-১৭, তারিখ ১৬/০৯/২০২৫ খ্রি. ধারা ৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি অধিগ্রহণের পর সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামী মো. সাজ্জাদ হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে ২২/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ২০:৩০ ঘটিকায় হাজারীবাগ থানাধীন নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত আনুমানিক ২২:০৫ ঘটিকায় নিউমার্কেট থানাধীন প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার এলাকা থেকে তার সহযোগী মো. রাজিব খাঁনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামীদের নিকট থেকে অপরাধকর্মে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা ভুয়া টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন চাকরি ও সহজে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, আসামী মো. সাজ্জাদ হোসেন পূর্বেও এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অপর আসামী মো. রাজিব খাঁন বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব খোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহের মাধ্যমে এই প্রতারণা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করত।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিআইডি এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ জনগণকে এ ধরনের প্রতারণামূলক অনলাইন অফার থেকে সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী

টেলিগ্রামভিত্তিক ভুয়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে কোটি টাকার প্রতারণা; রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে দুইজন আটক

অনলাইনে ইনকামের লোভ দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: সিআইডির অভিযানে দুই প্রতারক গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৪:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো- পূর্ব ইউনিট। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ রাতের বেলা রাজধানী থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৩), পিতা- মো. গিয়াস উদ্দিন, মাতা- সনিয়া বেগম, সাং- ৮৯ নতুন পল্টন, থানা- লালবাগ, ডিএমপি, ঢাকা এবং মো. রাজিব খাঁন (৩৩), পিতা- মো. গাজী খাঁন, মাতা- আফসারা খাঁন দিসা, সাং- ৪৮০ নীলক্ষেত বাবুপুর, থানা- নিউমার্কেট, ডিএমপি, ঢাকা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গত ০১/০৭/২০২৫ খ্রি. তারিখে মতিঝিল থানাধীন এলাকায় অবস্থানকালে একজন ভুক্তভোগী ব্যক্তি টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে “Sabrina Islam” নামীয় একটি আইডির সাথে পরিচিত হন। উক্ত আইডি থেকে তাকে অনলাইনে সহজে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে “Atomic Market” নামীয় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।

প্রথমে প্রতারকরা স্বল্প অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে কমিশন ও বোনাস প্রদান করে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। এতে ভুক্তভোগীর নিকট বিষয়টি বৈধ ও লাভজনক বলে প্রতীয়মান হয়। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা জমা দিতে থাকেন।

এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লাভ দেখানো হলেও সেই অর্থ উত্তোলনের সময় “সিকিউরিটি ফি”, “সার্ভিস চার্জ”, “NFT স্কোর বৃদ্ধি” ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাতে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে এসব অর্থও প্রদান করেন। এভাবে প্রতারক চক্রটি ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে সর্বমোট ৩৯,৫৬,৪৬৯/- (উনচল্লিশ লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার চারশত উনসত্তর) টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে প্রতারকরা বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মতিঝিল থানায় মামলা নং-১৭, তারিখ ১৬/০৯/২০২৫ খ্রি. ধারা ৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি অধিগ্রহণের পর সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামী মো. সাজ্জাদ হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে ২২/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ২০:৩০ ঘটিকায় হাজারীবাগ থানাধীন নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত আনুমানিক ২২:০৫ ঘটিকায় নিউমার্কেট থানাধীন প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার এলাকা থেকে তার সহযোগী মো. রাজিব খাঁনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামীদের নিকট থেকে অপরাধকর্মে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা ভুয়া টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন চাকরি ও সহজে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, আসামী মো. সাজ্জাদ হোসেন পূর্বেও এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অপর আসামী মো. রাজিব খাঁন বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব খোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহের মাধ্যমে এই প্রতারণা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করত।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিআইডি এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ জনগণকে এ ধরনের প্রতারণামূলক অনলাইন অফার থেকে সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।