ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার—নতুন বছরের সূচনার ইতিহাস ও আমাদের ভাবনা

আমরা কি জানি বর্ষবরণ কি? আসুন বর্ষবরণ কি জেনে নেই

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ একটি নতুন বছর , কিছু সুন্দর স্বপ্ন, এক মুঠো সাদা মেঘ, কিছু মিষ্টি অনুভূতি, আর কিছু স্বপ্নিল সৃষ্টি, এই নিয়ে শুরু হোক আমাদের আগামীর দিন।বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যবিলনীয় সভ্যতায়। সেসময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো বর্ষবরণ। তবে সেটা কিন্তু এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখেই পালন করা হতো না। তখন নিউ ইয়ার পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনে। বসন্তকাল এলে শীতকালের রুক্ষতা ঝেড়ে প্রকৃতি আবার নতুন করে সাজগোজ করতে শুরু করে, গাছে গাছে নতুন করে পাতা গজাতে থাকে, ফুলের কলিরা ফুটতে শুরু করে, পাখিরা ডানা ঝাপটে গান গাইতে শুরু করে। আর প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে ওঠাকে তারা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল। অবশ্যই তারা তখন চাঁদ দেখে বছর গণনা করত।কবে শুরু হল এই উৎসব? এই উৎসব পালন করা শুরু হয় প্রায় ৪ হাজার বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২ হাজার অব্দে। সে সময় মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব চালু হয়।সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের উন্নয়ন করেন।

আমি কবির নেওয়াজ রাজ নিজেই ভাবতাম, রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার শুরু করে গেছে, আমরা এখনও সেইদিনেই বর্ষবরণ উৎসব করছি! আসলে কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। যদিও আমরা জানুয়ারির ১ তারিখেই উৎসব করছি, দিনটা কিন্তু এক নয়। সিজারের ক্যালেন্ডারেও সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা দূর করেন একজন ডাক্তার। নাম তার অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস। কিন্তু ইতিহাসে তার নাম সেভাবে কেউ জানে না।ক্যালেন্ডারটির কথা সবাইকে জানান একজন পোপ। সবাই তাকেই চেনে। তিনি পোপ ত্রয়োদশ (১৩তম) গ্রেগরি। পোপ গ্রেগরির নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।

আমরা এটিই ব্যবহার করি। এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয় মাত্র ৪৩২ বছর আগে, ১৫৮২ সালে। আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সকল জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখকে নববর্ষ হিসেবে পালন করতে শুরু করে দিল। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লো ১ জানুয়ারির বর্ষবরণ উৎসব।মনকে আজ শুদ্ধ করি, শত্রুকে আজ বন্ধু করি।আমাদের মুছে যাক সকল কলুষতা।একটি বছর চলে যায়। আসে আরেকটি নতুন বছর। কালে কালে আমরা সে দিনটিকে পালন করতে শুরু করেছি।২০২৬ সালের শান্তির বার্তা আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য পত্রিকার পাতায় পাঠালাম।
লেখকঃ কবির নেওয়াজ রাজ
ট্রেজারার
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নােলিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

Kasyno Online ᐅ Najlepsze kasyno online GGBet w polsce

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার—নতুন বছরের সূচনার ইতিহাস ও আমাদের ভাবনা

আমরা কি জানি বর্ষবরণ কি? আসুন বর্ষবরণ কি জেনে নেই

আপডেট সময় ০৫:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৬ একটি নতুন বছর , কিছু সুন্দর স্বপ্ন, এক মুঠো সাদা মেঘ, কিছু মিষ্টি অনুভূতি, আর কিছু স্বপ্নিল সৃষ্টি, এই নিয়ে শুরু হোক আমাদের আগামীর দিন।বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যবিলনীয় সভ্যতায়। সেসময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো বর্ষবরণ। তবে সেটা কিন্তু এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখেই পালন করা হতো না। তখন নিউ ইয়ার পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনে। বসন্তকাল এলে শীতকালের রুক্ষতা ঝেড়ে প্রকৃতি আবার নতুন করে সাজগোজ করতে শুরু করে, গাছে গাছে নতুন করে পাতা গজাতে থাকে, ফুলের কলিরা ফুটতে শুরু করে, পাখিরা ডানা ঝাপটে গান গাইতে শুরু করে। আর প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে ওঠাকে তারা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল। অবশ্যই তারা তখন চাঁদ দেখে বছর গণনা করত।কবে শুরু হল এই উৎসব? এই উৎসব পালন করা শুরু হয় প্রায় ৪ হাজার বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২ হাজার অব্দে। সে সময় মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব চালু হয়।সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের উন্নয়ন করেন।

আমি কবির নেওয়াজ রাজ নিজেই ভাবতাম, রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার শুরু করে গেছে, আমরা এখনও সেইদিনেই বর্ষবরণ উৎসব করছি! আসলে কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। যদিও আমরা জানুয়ারির ১ তারিখেই উৎসব করছি, দিনটা কিন্তু এক নয়। সিজারের ক্যালেন্ডারেও সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা দূর করেন একজন ডাক্তার। নাম তার অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস। কিন্তু ইতিহাসে তার নাম সেভাবে কেউ জানে না।ক্যালেন্ডারটির কথা সবাইকে জানান একজন পোপ। সবাই তাকেই চেনে। তিনি পোপ ত্রয়োদশ (১৩তম) গ্রেগরি। পোপ গ্রেগরির নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।

আমরা এটিই ব্যবহার করি। এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয় মাত্র ৪৩২ বছর আগে, ১৫৮২ সালে। আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সকল জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখকে নববর্ষ হিসেবে পালন করতে শুরু করে দিল। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লো ১ জানুয়ারির বর্ষবরণ উৎসব।মনকে আজ শুদ্ধ করি, শত্রুকে আজ বন্ধু করি।আমাদের মুছে যাক সকল কলুষতা।একটি বছর চলে যায়। আসে আরেকটি নতুন বছর। কালে কালে আমরা সে দিনটিকে পালন করতে শুরু করেছি।২০২৬ সালের শান্তির বার্তা আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য পত্রিকার পাতায় পাঠালাম।
লেখকঃ কবির নেওয়াজ রাজ
ট্রেজারার
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নােলিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন