ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী Logo উপসাগরীয় সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ওমান Logo ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী Logo সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী Logo এবছর ৬টি পাটকল লীজে দেওয়া হবে, বাড়াবে কর্মসংস্থান – বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির Logo লিবিয়া থেকে মানবপাচারের শিকার ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন Logo অনলাইনে ইনকামের লোভ দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: সিআইডির অভিযানে দুই প্রতারক গ্রেফতার Logo কক্সবাজারে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে তল্লাশি  চালিয়ে ২৪,৮০০ পিস ইয়াবাসহ ০২ জনকে আটক করেছে বিজিবি Logo নওগাঁয় জাল দলিল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চক্রের মুখোশ উন্মোচন: পিবিআই তদন্তে গ্রেপ্তার ৪, কারাগারে প্রেরণ Logo আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগেভাগেই ক্র্যাশ প্রোগ্রামে নামছে ডিএনসিসি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ওয়ান আর্থ ফেস্টিভ্যাল’-এ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, পরিবেশ ও অর্থনীতি একসাথে সমৃদ্ধ করতে বৃক্ষ রোপণ অপরিহার্য

বৃক্ষ রোপণ শুধু পরিবেশ নয়, গ্রামীণ সামাজিক নিরাপত্তার অংশ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বৃক্ষ রোপণ শুধু পরিবেশগত উদ্যোগ নয়; এটি গ্রামীণ সমাজের গভীর সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন গবেষণায় দেখা যায়, অনেক নারী সামাজিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই বৃক্ষ লাগান।

উপদেষ্টা আজ সকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘১ টাকায় বৃক্ষরোপণ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান আর্থ ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুধু বৃক্ষ লাগিয়েই মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। কেনিয়ার নোবেল বিজয়ী পরিবেশকর্মী ওয়াঙ্গারি মাথাইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বহন করা সম্ভব। মাথাই বায়োডিগ্রেডেবল উপকরণ—কচুরিপানা দিয়ে তৈরি কফিনে সমাহিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যা পরিবেশ সচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

হাওড় অঞ্চলের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, করচ ও হিজলের মতো দেশীয় জলজ বৃক্ষ নির্বিচারে কেটে ফেলার ফলে হাওড়ের স্বাভাবিক চরিত্র ও মাছের আবাস ধ্বংস হচ্ছে। কৃষি রক্ষার নামে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ পানি প্রবাহ ব্যাহত করছে, যা মাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় দায়িত্বহীন পর্যটনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক, সিগারেট ও অন্যান্য আবর্জনা মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এ ধরনের আচরণকে তিনি ‘অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিল্পদূষণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ইটিপি কার্যকরভাবে ব্যবহার না করায় শীতলক্ষ্যা নদী দূষিত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো মেঘনা অববাহিকার ওপর। এর ফলে ইলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছের প্রজনন হুমকির মুখে পড়ছে।

সমুদ্রে মাছ আহরণে সোনার প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২৩৫টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে অন্তত ৭০টিতে সোনার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্বিচারে সব প্রজাতির মাছ ধরা হচ্ছে। এতে বহু প্রজাতির মাছ আর জীবিত থাকতে পারে না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে বাংলাদেশের সমুদ্রে ৪৭৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫টি প্রজাতি বিশ্বে একেবারেই অনন্য। এ সম্পদ ধ্বংসের ঝুঁকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভেনামি চিংড়ি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি বিদেশি ও ইনভেসিভ প্রজাতি, যা দেশীয় গলদা ও বাগদা চিংড়ির জন্য মারাত্মক হুমকি। বাণিজ্যিক চাপ থাকলেও দেশীয় প্রজাতির ক্ষতি হয়—এমন কোনো অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

ফেস্টিভ্যালে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘এক টাকায় বৃক্ষরোপণ’-এর প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুল্লাহ ইয়াসিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আজিম পাটোয়ারী। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নূর মোহাম্মাদ আজামী, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর শরীফ জামিল প্রমুখ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ওয়ান আর্থ ফেস্টিভ্যাল’-এ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, পরিবেশ ও অর্থনীতি একসাথে সমৃদ্ধ করতে বৃক্ষ রোপণ অপরিহার্য

বৃক্ষ রোপণ শুধু পরিবেশ নয়, গ্রামীণ সামাজিক নিরাপত্তার অংশ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বৃক্ষ রোপণ শুধু পরিবেশগত উদ্যোগ নয়; এটি গ্রামীণ সমাজের গভীর সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন গবেষণায় দেখা যায়, অনেক নারী সামাজিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই বৃক্ষ লাগান।

উপদেষ্টা আজ সকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘১ টাকায় বৃক্ষরোপণ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান আর্থ ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুধু বৃক্ষ লাগিয়েই মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। কেনিয়ার নোবেল বিজয়ী পরিবেশকর্মী ওয়াঙ্গারি মাথাইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বহন করা সম্ভব। মাথাই বায়োডিগ্রেডেবল উপকরণ—কচুরিপানা দিয়ে তৈরি কফিনে সমাহিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যা পরিবেশ সচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

হাওড় অঞ্চলের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, করচ ও হিজলের মতো দেশীয় জলজ বৃক্ষ নির্বিচারে কেটে ফেলার ফলে হাওড়ের স্বাভাবিক চরিত্র ও মাছের আবাস ধ্বংস হচ্ছে। কৃষি রক্ষার নামে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ পানি প্রবাহ ব্যাহত করছে, যা মাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় দায়িত্বহীন পর্যটনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক, সিগারেট ও অন্যান্য আবর্জনা মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এ ধরনের আচরণকে তিনি ‘অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিল্পদূষণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ইটিপি কার্যকরভাবে ব্যবহার না করায় শীতলক্ষ্যা নদী দূষিত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো মেঘনা অববাহিকার ওপর। এর ফলে ইলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছের প্রজনন হুমকির মুখে পড়ছে।

সমুদ্রে মাছ আহরণে সোনার প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২৩৫টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে অন্তত ৭০টিতে সোনার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্বিচারে সব প্রজাতির মাছ ধরা হচ্ছে। এতে বহু প্রজাতির মাছ আর জীবিত থাকতে পারে না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে বাংলাদেশের সমুদ্রে ৪৭৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫টি প্রজাতি বিশ্বে একেবারেই অনন্য। এ সম্পদ ধ্বংসের ঝুঁকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভেনামি চিংড়ি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি বিদেশি ও ইনভেসিভ প্রজাতি, যা দেশীয় গলদা ও বাগদা চিংড়ির জন্য মারাত্মক হুমকি। বাণিজ্যিক চাপ থাকলেও দেশীয় প্রজাতির ক্ষতি হয়—এমন কোনো অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

ফেস্টিভ্যালে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘এক টাকায় বৃক্ষরোপণ’-এর প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুল্লাহ ইয়াসিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আজিম পাটোয়ারী। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নূর মোহাম্মাদ আজামী, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর শরীফ জামিল প্রমুখ।