
শামীম আহমদ : নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্রধান শিক্ষিকা সৈয়দা সুরাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, এসব কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মানববন্ধনের আগে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নেবে না। এরই মধ্যে টানা দুই দিন ধরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আসছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাবনাজ আক্তারের এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তার তিন সন্তান ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বছরের শুরুতে কষ্ট করে স্কুল ড্রেস তৈরি করলেও প্রায় ২৫ দিন পর প্রধান শিক্ষিকা নতুন রঙের ড্রেস বানাতে চাপ দেন। পুনরায় ড্রেস বানানো সম্ভব নয় জানালে তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদের মা বলেন, প্রথম শ্রেণির ক্লাস বিদ্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় হওয়ায় ছোট শিশুদের উঠানামায় কষ্ট হয়। নিচতলায় পাঠদানের অনুরোধ জানানো হলেও, পর্যাপ্ত কক্ষ খালি থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষিকা তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। গত ২৭ জানুয়ারি এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা আক্তারের মা অভিযোগ করে বলেন, একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষিকা তাদের সন্তানসহ বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং না গেলে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব সংবাদ : 























