ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
এফটিএ ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ রপ্তানি খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে  দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14)-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি নতুন সরকারের দূরদর্শী বাণিজ্যনীতি, বাজার বহুমুখীকরণ কৌশল, নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে FTA ও EPA আলোচনা চলমান থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপান এর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) সম্পন্ন করেছে এবং কোরিয়া , সিঙ্গাপুর সহ একাধিক দেশের সঙ্গে FTA ও CEPA নিয়ে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে রিজিওনাল কমপ্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (RCEP)-এ যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের সফলতা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী কোরীয় বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত চলমান FTA আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত EPA চলমান আলোচনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম উল্লেখ করে কোরীয় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত, উৎপাদন ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হলে বাণিজ্য প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তারা বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ মন্ত্রী পর্যায় ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।

বৈঠক শেষে উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

এফটিএ ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ রপ্তানি খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে  দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৫:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আলী আহসান রবি : বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14)-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি নতুন সরকারের দূরদর্শী বাণিজ্যনীতি, বাজার বহুমুখীকরণ কৌশল, নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে FTA ও EPA আলোচনা চলমান থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপান এর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) সম্পন্ন করেছে এবং কোরিয়া , সিঙ্গাপুর সহ একাধিক দেশের সঙ্গে FTA ও CEPA নিয়ে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে রিজিওনাল কমপ্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (RCEP)-এ যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের সফলতা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী কোরীয় বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত চলমান FTA আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত EPA চলমান আলোচনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম উল্লেখ করে কোরীয় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত, উৎপাদন ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হলে বাণিজ্য প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তারা বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ মন্ত্রী পর্যায় ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।

বৈঠক শেষে উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।