ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি Logo কুমিল্লায় ১৪৫৮ কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করলেন কৃষি মন্ত্রী Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এর  জানাযা সম্পন্ন Logo বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো বৈষম্য নেই: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ  Logo হজযাত্রীদের সেবায় গাফিলতি নয়—হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন Logo বাউফলে ছাত্রদল নেতা সৈকতের মৃত্যুতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির শোক Logo মুজিবনগর দিবস উদযাপনে নেই সরকারি কোন আয়োজন Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বাণিজ্যমন্ত্রীর Logo মোহাম্মদপুরে হত্যাচেষ্টা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২, আরও আসামি ধরতে অভিযান চলছে Logo হজ ফ্লাইটের আগে হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে ধর্মমন্ত্রী, সেবার মান নিশ্চিতের নির্দেশ
দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফানুস, আতশবাজি ও মুখোশে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা

পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষের নির্দেশ, দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল (০৮ এপ্রিল) এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা নিম্নরূপ:

রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬.০০ টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫.০০ টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীগণ মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে, প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে। অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই মিছিলে যোগ দিতে হবে; মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

সকল বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।

পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া শিশুদের সাথে তাদের পরিচয় সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফানুস, আতশবাজি ও মুখোশে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা

পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষের নির্দেশ, দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট সময় ০১:৪২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল (০৮ এপ্রিল) এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা নিম্নরূপ:

রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬.০০ টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫.০০ টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীগণ মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে, প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে। অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই মিছিলে যোগ দিতে হবে; মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

সকল বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।

পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া শিশুদের সাথে তাদের পরিচয় সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।