
মো: হামিম রানা, রাণীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে সংবাদকর্মীদের নামে মামলা দায়ের এবং একজনকে জেলহাজতে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। রানীশংকৈল উপজেলা প্রেস ক্লাব এই ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বুধবার (৭ই এপ্রিল) সরকারি নিয়মবহির্ভূতভাবে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস খোলা রাখা হয়। খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন সেখানে উপস্থিত হয়ে পিআইও নূরুন্নবী সরকারকে অসময়ে অফিস খোলা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করতে গেলে পিআইও অফিসের কর্মী মো: আইয়ুব আলী, মামুনুর রশিদ মামুনকে সহ অফিসের বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
উক্ত ঘটনার জের ধরে ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহের কাজে উপস্থিত থাকায়
পিআইও নূরনবী সরকার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় রানীশংকৈল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া তরুণ উদীয়মান সংবাদকর্মী ও প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য রাকিব ফেরদৌসের নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রানীশংকৈল উপজেলা প্রেস ক্লাব। এক প্রতিবাদে সাংবাদিক নেতারা বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের এভাবে হয়রানি করা নজিরবিহীন। একটি স্বাধীন দেশে সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার এই অপচেষ্টা কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নিয়ম ভেঙে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার দায় এড়াতে এবং প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতেই সাংবাদিকদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। তাঁরা অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক জিয়াউর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং রাকিব ফেরদৌসসহ অন্যান্যদের নামে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
অন্যথায়, সাংবাদিক সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় স্থানীয় সাংবাদিকরা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
নিজস্ব সংবাদ : 




















