ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙ্গামাটির দুর্গম বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৭৪ লিটার পেট্রোল জব্দ Logo কারওয়ান বাজার ও শান্তিনগরে বাণিজ্যমন্ত্রীর আকস্মিক বাজার পরিদর্শন Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের জাল সিল তৈরির চেষ্টার অভিযোগে মোঃ আবু তৈয়বকে আটক করেছে পুলিশ Logo রাণীশংকৈলে পিআইও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদল–গণঅধিকার নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন Logo মধ্যনগরে হাওর রক্ষা বাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে মধ্যনগরে গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত। Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৯ জন গ্রেফতার Logo হয়রানিমুক্ত কার্গো ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত  BG 202 (B789) এর হাইড্রলিক সিস্টেম মেইনটেন্যান্স সম্পন্ন করার নির্দেশনা বিমানমন্ত্রীর Logo বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার বৈঠক Logo প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতায় টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি….স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন Logo সচিবালয়ে হবে ২১ তলা ভবন, প্রতি বর্গমিটারে খরচ ৫৩ হাজার টাকা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমপি (সাংসদ) হওয়া যেন কেবল ক্ষমতা আর প্রভাবের উৎসই নয়, এটি যেন এক প্রকার আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাও। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা—এটি যেন সাধারণ জনগণের জন্য একপ্রকার অসমতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন সাধারণ মানুষ যদি বিদেশ থেকে গাড়ি আনতে চায়, তাকে মোটা অঙ্কের শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু একজন এমপি হলেই সেই শুল্ক মুক্ত! প্রশ্ন হলো, এটাই কি জনসেবা?

আমরা জানি, একজন এমপি জনগণের প্রতিনিধি। তার কাজ জনগণের অধিকার রক্ষা করা, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য কাজ করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেন এবং অনেকে তা বিক্রি করে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

সরকার যদি সত্যিই জনসেবার কথা চিন্তা করে, তাহলে কেন এমপিদের এত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে?
সরকার কি তাদের নির্দিষ্ট একটি গাড়ি দিতে পারে না?
অথবা, যদি শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়াই হয়, তবে এমপি পদ শেষ হওয়ার পর সেই গাড়িটি সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

কিন্তু এ ব্যবস্থা কোনো সরকারই করবে না। কারণ, সরকার সব সময় সরকারেরই স্বার্থ দেখে। আর জনগণ? তারা তো বরাবরই অবহেলিত।

আসলে, “জনসেবা” এখন শুধু মুখের বুলি। বাস্তবে এটি ক্ষমতা ও সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার।
বেশিরভাগ এমপিরা যখন কোটি টাকার গাড়ি আনেন, তখন দেশের সাধারণ জনগণের কথা কেউ ভাবে না। আর যারা সত্যিকার জনসেবক, তারা হয়তো সাধারণ গাড়িতেই চলাচল করেন।

প্রস্তাবনা:

১. এমপিদের জন্য নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা।
২. শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনকালে দেওয়া এবং মেয়াদ শেষ হলে সেটি সরকারের কাছে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা।
৩. যেসব এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

দিন শেষে, এই সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে।
সরকার, সরকারই থাকবে।
আর জনগণ, কেবল জনগণই থেকে যাবে!
সংস্কারে নিশ্চিত এটা থাকবে না

কলমে: প্রিসিলা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গামাটির দুর্গম বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৭৪ লিটার পেট্রোল জব্দ

সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে

আপডেট সময় ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমপি (সাংসদ) হওয়া যেন কেবল ক্ষমতা আর প্রভাবের উৎসই নয়, এটি যেন এক প্রকার আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাও। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা—এটি যেন সাধারণ জনগণের জন্য একপ্রকার অসমতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন সাধারণ মানুষ যদি বিদেশ থেকে গাড়ি আনতে চায়, তাকে মোটা অঙ্কের শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু একজন এমপি হলেই সেই শুল্ক মুক্ত! প্রশ্ন হলো, এটাই কি জনসেবা?

আমরা জানি, একজন এমপি জনগণের প্রতিনিধি। তার কাজ জনগণের অধিকার রক্ষা করা, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য কাজ করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেন এবং অনেকে তা বিক্রি করে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

সরকার যদি সত্যিই জনসেবার কথা চিন্তা করে, তাহলে কেন এমপিদের এত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে?
সরকার কি তাদের নির্দিষ্ট একটি গাড়ি দিতে পারে না?
অথবা, যদি শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়াই হয়, তবে এমপি পদ শেষ হওয়ার পর সেই গাড়িটি সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

কিন্তু এ ব্যবস্থা কোনো সরকারই করবে না। কারণ, সরকার সব সময় সরকারেরই স্বার্থ দেখে। আর জনগণ? তারা তো বরাবরই অবহেলিত।

আসলে, “জনসেবা” এখন শুধু মুখের বুলি। বাস্তবে এটি ক্ষমতা ও সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার।
বেশিরভাগ এমপিরা যখন কোটি টাকার গাড়ি আনেন, তখন দেশের সাধারণ জনগণের কথা কেউ ভাবে না। আর যারা সত্যিকার জনসেবক, তারা হয়তো সাধারণ গাড়িতেই চলাচল করেন।

প্রস্তাবনা:

১. এমপিদের জন্য নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা।
২. শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনকালে দেওয়া এবং মেয়াদ শেষ হলে সেটি সরকারের কাছে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা।
৩. যেসব এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

দিন শেষে, এই সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে।
সরকার, সরকারই থাকবে।
আর জনগণ, কেবল জনগণই থেকে যাবে!
সংস্কারে নিশ্চিত এটা থাকবে না

কলমে: প্রিসিলা