ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • ৫৮৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমপি (সাংসদ) হওয়া যেন কেবল ক্ষমতা আর প্রভাবের উৎসই নয়, এটি যেন এক প্রকার আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাও। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা—এটি যেন সাধারণ জনগণের জন্য একপ্রকার অসমতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন সাধারণ মানুষ যদি বিদেশ থেকে গাড়ি আনতে চায়, তাকে মোটা অঙ্কের শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু একজন এমপি হলেই সেই শুল্ক মুক্ত! প্রশ্ন হলো, এটাই কি জনসেবা?

আমরা জানি, একজন এমপি জনগণের প্রতিনিধি। তার কাজ জনগণের অধিকার রক্ষা করা, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য কাজ করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেন এবং অনেকে তা বিক্রি করে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

সরকার যদি সত্যিই জনসেবার কথা চিন্তা করে, তাহলে কেন এমপিদের এত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে?
সরকার কি তাদের নির্দিষ্ট একটি গাড়ি দিতে পারে না?
অথবা, যদি শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়াই হয়, তবে এমপি পদ শেষ হওয়ার পর সেই গাড়িটি সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

কিন্তু এ ব্যবস্থা কোনো সরকারই করবে না। কারণ, সরকার সব সময় সরকারেরই স্বার্থ দেখে। আর জনগণ? তারা তো বরাবরই অবহেলিত।

আসলে, “জনসেবা” এখন শুধু মুখের বুলি। বাস্তবে এটি ক্ষমতা ও সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার।
বেশিরভাগ এমপিরা যখন কোটি টাকার গাড়ি আনেন, তখন দেশের সাধারণ জনগণের কথা কেউ ভাবে না। আর যারা সত্যিকার জনসেবক, তারা হয়তো সাধারণ গাড়িতেই চলাচল করেন।

প্রস্তাবনা:

১. এমপিদের জন্য নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা।
২. শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনকালে দেওয়া এবং মেয়াদ শেষ হলে সেটি সরকারের কাছে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা।
৩. যেসব এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

দিন শেষে, এই সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে।
সরকার, সরকারই থাকবে।
আর জনগণ, কেবল জনগণই থেকে যাবে!
সংস্কারে নিশ্চিত এটা থাকবে না

কলমে: প্রিসিলা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে

আপডেট সময় ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমপি (সাংসদ) হওয়া যেন কেবল ক্ষমতা আর প্রভাবের উৎসই নয়, এটি যেন এক প্রকার আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাও। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা—এটি যেন সাধারণ জনগণের জন্য একপ্রকার অসমতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন সাধারণ মানুষ যদি বিদেশ থেকে গাড়ি আনতে চায়, তাকে মোটা অঙ্কের শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু একজন এমপি হলেই সেই শুল্ক মুক্ত! প্রশ্ন হলো, এটাই কি জনসেবা?

আমরা জানি, একজন এমপি জনগণের প্রতিনিধি। তার কাজ জনগণের অধিকার রক্ষা করা, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য কাজ করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেন এবং অনেকে তা বিক্রি করে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

সরকার যদি সত্যিই জনসেবার কথা চিন্তা করে, তাহলে কেন এমপিদের এত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে?
সরকার কি তাদের নির্দিষ্ট একটি গাড়ি দিতে পারে না?
অথবা, যদি শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়াই হয়, তবে এমপি পদ শেষ হওয়ার পর সেই গাড়িটি সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

কিন্তু এ ব্যবস্থা কোনো সরকারই করবে না। কারণ, সরকার সব সময় সরকারেরই স্বার্থ দেখে। আর জনগণ? তারা তো বরাবরই অবহেলিত।

আসলে, “জনসেবা” এখন শুধু মুখের বুলি। বাস্তবে এটি ক্ষমতা ও সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার।
বেশিরভাগ এমপিরা যখন কোটি টাকার গাড়ি আনেন, তখন দেশের সাধারণ জনগণের কথা কেউ ভাবে না। আর যারা সত্যিকার জনসেবক, তারা হয়তো সাধারণ গাড়িতেই চলাচল করেন।

প্রস্তাবনা:

১. এমপিদের জন্য নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা।
২. শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনকালে দেওয়া এবং মেয়াদ শেষ হলে সেটি সরকারের কাছে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা।
৩. যেসব এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

দিন শেষে, এই সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে।
সরকার, সরকারই থাকবে।
আর জনগণ, কেবল জনগণই থেকে যাবে!
সংস্কারে নিশ্চিত এটা থাকবে না

কলমে: প্রিসিলা