ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাতক্ষীরার আশাশুনিতে রিং বাঁধ নির্মাণ ও ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম Logo ধলেশ্বরী নদীতে সেনা অভিযান: দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং ওরফে ডেঞ্জার গ্যাং এর ১৬ জন আটক Logo ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে পিরোজপুর জেলখানার অন্য রকম এক চিত্র Logo কালিগঞ্জের কিষান মজদূর একাডেমী’র হীরক জয়ন্তী উদযাপন হয়েছে Logo আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঈদ পুনর্মিলনী Logo কালিগঞ্জেে দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ১ম পুনমিলনী অনুষ্ঠিত Logo বাউফলে আজ ১৪ গ্রামে পালিত হচ্ছে ঈদ উৎসব Logo জাতীয় ঈদগাহ কেন্দ্রিক থাকবে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার Logo মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শহীদ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমপি (সাংসদ) হওয়া যেন কেবল ক্ষমতা আর প্রভাবের উৎসই নয়, এটি যেন এক প্রকার আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাও। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা—এটি যেন সাধারণ জনগণের জন্য একপ্রকার অসমতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন সাধারণ মানুষ যদি বিদেশ থেকে গাড়ি আনতে চায়, তাকে মোটা অঙ্কের শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু একজন এমপি হলেই সেই শুল্ক মুক্ত! প্রশ্ন হলো, এটাই কি জনসেবা?

আমরা জানি, একজন এমপি জনগণের প্রতিনিধি। তার কাজ জনগণের অধিকার রক্ষা করা, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য কাজ করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেন এবং অনেকে তা বিক্রি করে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

সরকার যদি সত্যিই জনসেবার কথা চিন্তা করে, তাহলে কেন এমপিদের এত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে?
সরকার কি তাদের নির্দিষ্ট একটি গাড়ি দিতে পারে না?
অথবা, যদি শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়াই হয়, তবে এমপি পদ শেষ হওয়ার পর সেই গাড়িটি সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

কিন্তু এ ব্যবস্থা কোনো সরকারই করবে না। কারণ, সরকার সব সময় সরকারেরই স্বার্থ দেখে। আর জনগণ? তারা তো বরাবরই অবহেলিত।

আসলে, “জনসেবা” এখন শুধু মুখের বুলি। বাস্তবে এটি ক্ষমতা ও সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার।
বেশিরভাগ এমপিরা যখন কোটি টাকার গাড়ি আনেন, তখন দেশের সাধারণ জনগণের কথা কেউ ভাবে না। আর যারা সত্যিকার জনসেবক, তারা হয়তো সাধারণ গাড়িতেই চলাচল করেন।

প্রস্তাবনা:

১. এমপিদের জন্য নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা।
২. শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনকালে দেওয়া এবং মেয়াদ শেষ হলে সেটি সরকারের কাছে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা।
৩. যেসব এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

দিন শেষে, এই সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে।
সরকার, সরকারই থাকবে।
আর জনগণ, কেবল জনগণই থেকে যাবে!
সংস্কারে নিশ্চিত এটা থাকবে না

কলমে: প্রিসিলা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে রিং বাঁধ নির্মাণ ও ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম

সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে

আপডেট সময় ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমপি (সাংসদ) হওয়া যেন কেবল ক্ষমতা আর প্রভাবের উৎসই নয়, এটি যেন এক প্রকার আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাও। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা—এটি যেন সাধারণ জনগণের জন্য একপ্রকার অসমতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন সাধারণ মানুষ যদি বিদেশ থেকে গাড়ি আনতে চায়, তাকে মোটা অঙ্কের শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু একজন এমপি হলেই সেই শুল্ক মুক্ত! প্রশ্ন হলো, এটাই কি জনসেবা?

আমরা জানি, একজন এমপি জনগণের প্রতিনিধি। তার কাজ জনগণের অধিকার রক্ষা করা, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য কাজ করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেন এবং অনেকে তা বিক্রি করে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

সরকার যদি সত্যিই জনসেবার কথা চিন্তা করে, তাহলে কেন এমপিদের এত বিশেষ সুবিধা দিতে হবে?
সরকার কি তাদের নির্দিষ্ট একটি গাড়ি দিতে পারে না?
অথবা, যদি শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়াই হয়, তবে এমপি পদ শেষ হওয়ার পর সেই গাড়িটি সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

কিন্তু এ ব্যবস্থা কোনো সরকারই করবে না। কারণ, সরকার সব সময় সরকারেরই স্বার্থ দেখে। আর জনগণ? তারা তো বরাবরই অবহেলিত।

আসলে, “জনসেবা” এখন শুধু মুখের বুলি। বাস্তবে এটি ক্ষমতা ও সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার।
বেশিরভাগ এমপিরা যখন কোটি টাকার গাড়ি আনেন, তখন দেশের সাধারণ জনগণের কথা কেউ ভাবে না। আর যারা সত্যিকার জনসেবক, তারা হয়তো সাধারণ গাড়িতেই চলাচল করেন।

প্রস্তাবনা:

১. এমপিদের জন্য নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা।
২. শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনকালে দেওয়া এবং মেয়াদ শেষ হলে সেটি সরকারের কাছে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা।
৩. যেসব এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

দিন শেষে, এই সুবিধাভোগীদের থামানো না গেলে, “জনসেবা” নামের এই নাটক চলতেই থাকবে।
সরকার, সরকারই থাকবে।
আর জনগণ, কেবল জনগণই থেকে যাবে!
সংস্কারে নিশ্চিত এটা থাকবে না

কলমে: প্রিসিলা