ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঈদযাত্রায় স্বস্তি: নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা—গাবতলীতে সড়ক মন্ত্রীর পরিদর্শন Logo সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যু: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর শোক প্রকাশ Logo পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সময়ের বুলেটিনের প্রতিনিধি কাইয়ুম বাদশাহ। Logo ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা-পড়ুয়া শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের Logo কেরানীগঞ্জে তেল সংকট: দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পরও মিলছে অল্প জ্বালানি, পাম্পে সরবরাহে অচলাবস্থা Logo নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ…ড. খলিলুর রহমান Logo এনায়েতপুর যুবসমাজের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী আয়োজন: শিশু কিশোরদের কুরআন তেলওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  Logo ভিয়েনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা Logo কিশোরগঞ্জে নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা বাচ্চু মিয়ার পরিবারের পাশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বাসস্থানের ঘোষণা Logo জনগুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার – সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
রাতে ও ভোরে দুর্ঘটনা বেশি, পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৭ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীতে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত এবং ৫১১ জন আহত হয়েছেন। পুরুষ (১৭৬ জন) ৮০.৩৬%, নারী (২৫ জন) ১১.৪১% এবং শিশু (১৮ জন) ৮.২১%।

নিহতদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩%, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭% এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮%।

রাজধানীর দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- ভোরে ১১.২৪%, সকালে ১৮.৩৩%, দুপুরে ৯.৫৩%, বিকালে ১৩.৪৪%, সন্ধ্যায় ৫.৮৬% এবং রাতে ৪১.৫৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭%, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪%, মোটরসাইকেল ২১.৫৩%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৪.১২%, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা) ১১.৮২% এবং রিকশা ২.৪৮%।

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্য:
রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। দুর্ঘটনা রাতে এবং সকালে বেশি ঘটছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ:
১. মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন
২. যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল
৩. যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক
৪. একই সড়কে বহু গতির যানবাহন
৫. ফুটপাত হকারদের দখলে থাকা
৬. ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া এবং ব্যবহার উপযোগী না থাকা
৭. সড়কে সঠিক নিয়মে সাইন/মার্কিং না থাকা
৮. সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা
৯. সড়কে ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ:
১. রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে
২. মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে
৩. বাসের জন্য আলাদা লেন ব্যবস্থা করতে হবে
৪. রাজধানীর ভেতরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করতে হবে
৫. উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
৬. বাস সার্ভিস উন্নত ও বিস্তৃত করতে হবে
৭. যথাস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে
৮. ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে
৯. বিআরটিএ, ডিটিসিএ, ট্রাফিক পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে
১০. হাইড্রোলিক বহুতলবিশিষ্ট পার্কিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে
১১. রাজধানীর ভেতরের রেল ক্রসিংগুলোতে ওভারপাস/আন্ডারপাস তৈরি করতে হবে
১২. রাজধানীর পাশ দিয়ে বাইপাস রোড নির্মাণ করতে হবে
১৩. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে
১৪. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রায় স্বস্তি: নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা—গাবতলীতে সড়ক মন্ত্রীর পরিদর্শন

রাতে ও ভোরে দুর্ঘটনা বেশি, পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন

আপডেট সময় ১১:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীতে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত এবং ৫১১ জন আহত হয়েছেন। পুরুষ (১৭৬ জন) ৮০.৩৬%, নারী (২৫ জন) ১১.৪১% এবং শিশু (১৮ জন) ৮.২১%।

নিহতদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩%, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭% এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮%।

রাজধানীর দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- ভোরে ১১.২৪%, সকালে ১৮.৩৩%, দুপুরে ৯.৫৩%, বিকালে ১৩.৪৪%, সন্ধ্যায় ৫.৮৬% এবং রাতে ৪১.৫৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭%, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪%, মোটরসাইকেল ২১.৫৩%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৪.১২%, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা) ১১.৮২% এবং রিকশা ২.৪৮%।

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্য:
রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। দুর্ঘটনা রাতে এবং সকালে বেশি ঘটছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ:
১. মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন
২. যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল
৩. যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক
৪. একই সড়কে বহু গতির যানবাহন
৫. ফুটপাত হকারদের দখলে থাকা
৬. ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া এবং ব্যবহার উপযোগী না থাকা
৭. সড়কে সঠিক নিয়মে সাইন/মার্কিং না থাকা
৮. সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা
৯. সড়কে ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ:
১. রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে
২. মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে
৩. বাসের জন্য আলাদা লেন ব্যবস্থা করতে হবে
৪. রাজধানীর ভেতরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করতে হবে
৫. উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
৬. বাস সার্ভিস উন্নত ও বিস্তৃত করতে হবে
৭. যথাস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে
৮. ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে
৯. বিআরটিএ, ডিটিসিএ, ট্রাফিক পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে
১০. হাইড্রোলিক বহুতলবিশিষ্ট পার্কিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে
১১. রাজধানীর ভেতরের রেল ক্রসিংগুলোতে ওভারপাস/আন্ডারপাস তৈরি করতে হবে
১২. রাজধানীর পাশ দিয়ে বাইপাস রোড নির্মাণ করতে হবে
১৩. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে
১৪. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।