ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
রাতে ও ভোরে দুর্ঘটনা বেশি, পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৯০ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীতে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত এবং ৫১১ জন আহত হয়েছেন। পুরুষ (১৭৬ জন) ৮০.৩৬%, নারী (২৫ জন) ১১.৪১% এবং শিশু (১৮ জন) ৮.২১%।

নিহতদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩%, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭% এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮%।

রাজধানীর দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- ভোরে ১১.২৪%, সকালে ১৮.৩৩%, দুপুরে ৯.৫৩%, বিকালে ১৩.৪৪%, সন্ধ্যায় ৫.৮৬% এবং রাতে ৪১.৫৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭%, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪%, মোটরসাইকেল ২১.৫৩%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৪.১২%, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা) ১১.৮২% এবং রিকশা ২.৪৮%।

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্য:
রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। দুর্ঘটনা রাতে এবং সকালে বেশি ঘটছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ:
১. মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন
২. যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল
৩. যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক
৪. একই সড়কে বহু গতির যানবাহন
৫. ফুটপাত হকারদের দখলে থাকা
৬. ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া এবং ব্যবহার উপযোগী না থাকা
৭. সড়কে সঠিক নিয়মে সাইন/মার্কিং না থাকা
৮. সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা
৯. সড়কে ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ:
১. রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে
২. মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে
৩. বাসের জন্য আলাদা লেন ব্যবস্থা করতে হবে
৪. রাজধানীর ভেতরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করতে হবে
৫. উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
৬. বাস সার্ভিস উন্নত ও বিস্তৃত করতে হবে
৭. যথাস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে
৮. ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে
৯. বিআরটিএ, ডিটিসিএ, ট্রাফিক পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে
১০. হাইড্রোলিক বহুতলবিশিষ্ট পার্কিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে
১১. রাজধানীর ভেতরের রেল ক্রসিংগুলোতে ওভারপাস/আন্ডারপাস তৈরি করতে হবে
১২. রাজধানীর পাশ দিয়ে বাইপাস রোড নির্মাণ করতে হবে
১৩. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে
১৪. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

রাতে ও ভোরে দুর্ঘটনা বেশি, পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন

আপডেট সময় ১১:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : বিগত ২০২৫ সালে রাজধানীতে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত এবং ৫১১ জন আহত হয়েছেন। পুরুষ (১৭৬ জন) ৮০.৩৬%, নারী (২৫ জন) ১১.৪১% এবং শিশু (১৮ জন) ৮.২১%।

নিহতদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩%, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭% এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮%।

রাজধানীর দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- ভোরে ১১.২৪%, সকালে ১৮.৩৩%, দুপুরে ৯.৫৩%, বিকালে ১৩.৪৪%, সন্ধ্যায় ৫.৮৬% এবং রাতে ৪১.৫৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭%, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪%, মোটরসাইকেল ২১.৫৩%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৪.১২%, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা) ১১.৮২% এবং রিকশা ২.৪৮%।

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্য:
রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। দুর্ঘটনা রাতে এবং সকালে বেশি ঘটছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ:
১. মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন
২. যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল
৩. যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক
৪. একই সড়কে বহু গতির যানবাহন
৫. ফুটপাত হকারদের দখলে থাকা
৬. ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া এবং ব্যবহার উপযোগী না থাকা
৭. সড়কে সঠিক নিয়মে সাইন/মার্কিং না থাকা
৮. সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা
৯. সড়কে ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ:
১. রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে
২. মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে
৩. বাসের জন্য আলাদা লেন ব্যবস্থা করতে হবে
৪. রাজধানীর ভেতরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করতে হবে
৫. উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
৬. বাস সার্ভিস উন্নত ও বিস্তৃত করতে হবে
৭. যথাস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে
৮. ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে
৯. বিআরটিএ, ডিটিসিএ, ট্রাফিক পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে
১০. হাইড্রোলিক বহুতলবিশিষ্ট পার্কিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে
১১. রাজধানীর ভেতরের রেল ক্রসিংগুলোতে ওভারপাস/আন্ডারপাস তৈরি করতে হবে
১২. রাজধানীর পাশ দিয়ে বাইপাস রোড নির্মাণ করতে হবে
১৩. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে
১৪. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।