ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মিরপুরস্থ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন – মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন Logo অসুস্থ হজযাত্রীর খোঁজ নিতে রাতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ Logo অপহরণ মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার, কিশোরী উদ্ধার — বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভিতে। Logo জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা Logo ইলেক্ট্রিক স্কুল বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দিল এনবিআর Logo কার্যক্রম: নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার জন্য ২ শতাধিক ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিলো ডিএনসিসি Logo ডেমরায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা পরিদর্শন করলেন শ্রমমন্ত্রী; তদন্ত কমিটি গঠন Logo ৬ বছর পর তামিম হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি Logo হাম ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকার যথেষ্ট সক্ষম…স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন Logo বাউফলে বিনামূল্যে অসহায় মানুষের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন
পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার আওতায় আনতে ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে চালু হবে আরও ১৪৯টি স্কুলে।

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : তিন পার্বত্য জেলায় ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা।

পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হবে।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল, বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে অথচ তোমাদের ওখানে পৌঁছায়নি। এটা যে এতদিনেও হয়নি এজন্য সরকার দায়ী। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আজকে শুরু করলাম মাত্র ১২টা স্কুল নিয়ে। অথচ এটা সাড়ে তিন হাজার স্কুলে শুরু হওয়ার কথা। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তোমাদের এত সুন্দর জায়গা, পৃথিবীতে এত সুন্দর জায়গা কয়টা আছে? অথচ ওখানে ভালো শিক্ষকরা যেতে চায় না। কারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। ইন্টারনেটের মজা হলো এখন আর এক শিক্ষকের ওপর নির্ভর থাকতে হবে না। শিক্ষক পৃথিবীর যেখানে আছে সেখান থেকেই তোমাকে পড়াবে। তোমার যে শিক্ষক পছন্দ তার কাছেই তুমি পড়তে পারবে। শিক্ষকের অভাবে তোমাদের শিক্ষার মান কমবে না।

‘ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুনিয়াতে কী হচ্ছে যে তথ্য তোমরা জানতে পারবে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য। দুর্গম জায়গায় ভালো ডাক্তার পাওয়া যায় না। ইন্টারনেট থাকলে ডাক্তার যেখানেই থাকুক তোমরা যোগাযোগ করতে পারবে। পরামর্শ, ওষুধ নিতে পারবে,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই এদেশের নাগরিক। অন্য নাগরিক যে অধিকার পায়, তোমরাও সে অধিকার পাবে। আল্লাহ অন্য সবার মতো তোমাদেরও বুদ্ধি দিয়েছে, যোগ্যতা দিয়েছে। বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই। তোমরাও সমান সুবিধা পাবে। এটা দিতে না পারা হলো সরকারের অযোগ্যতা, এই অযোগ্যতা থেকে আমরা যেন বের হয়ে আসতে পারি।’

পরে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সাথে ভার্চুয়ালি মত বিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘আজ এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করল। শিক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে। একে একে ১৪৯টি স্কুলে আমরা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু করব। আরও বেশি স্কুলে আমাদের পৌঁছে যেতে হবে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের পেছনে রাখতে চায় না। পার্বত্য অঞ্চলের লোকজনও পিছিয়ে থাকতে চায় না। আমরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে পুরো বাংলাদেশ, গোটা বিশ্ব আরও সংযুক্ত হোক।’

মিরপুরস্থ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন – মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার আওতায় আনতে ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে চালু হবে আরও ১৪৯টি স্কুলে।

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:৩৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : তিন পার্বত্য জেলায় ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা।

পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হবে।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল, বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে অথচ তোমাদের ওখানে পৌঁছায়নি। এটা যে এতদিনেও হয়নি এজন্য সরকার দায়ী। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আজকে শুরু করলাম মাত্র ১২টা স্কুল নিয়ে। অথচ এটা সাড়ে তিন হাজার স্কুলে শুরু হওয়ার কথা। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তোমাদের এত সুন্দর জায়গা, পৃথিবীতে এত সুন্দর জায়গা কয়টা আছে? অথচ ওখানে ভালো শিক্ষকরা যেতে চায় না। কারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। ইন্টারনেটের মজা হলো এখন আর এক শিক্ষকের ওপর নির্ভর থাকতে হবে না। শিক্ষক পৃথিবীর যেখানে আছে সেখান থেকেই তোমাকে পড়াবে। তোমার যে শিক্ষক পছন্দ তার কাছেই তুমি পড়তে পারবে। শিক্ষকের অভাবে তোমাদের শিক্ষার মান কমবে না।

‘ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুনিয়াতে কী হচ্ছে যে তথ্য তোমরা জানতে পারবে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য। দুর্গম জায়গায় ভালো ডাক্তার পাওয়া যায় না। ইন্টারনেট থাকলে ডাক্তার যেখানেই থাকুক তোমরা যোগাযোগ করতে পারবে। পরামর্শ, ওষুধ নিতে পারবে,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই এদেশের নাগরিক। অন্য নাগরিক যে অধিকার পায়, তোমরাও সে অধিকার পাবে। আল্লাহ অন্য সবার মতো তোমাদেরও বুদ্ধি দিয়েছে, যোগ্যতা দিয়েছে। বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই। তোমরাও সমান সুবিধা পাবে। এটা দিতে না পারা হলো সরকারের অযোগ্যতা, এই অযোগ্যতা থেকে আমরা যেন বের হয়ে আসতে পারি।’

পরে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সাথে ভার্চুয়ালি মত বিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘আজ এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করল। শিক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে। একে একে ১৪৯টি স্কুলে আমরা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু করব। আরও বেশি স্কুলে আমাদের পৌঁছে যেতে হবে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের পেছনে রাখতে চায় না। পার্বত্য অঞ্চলের লোকজনও পিছিয়ে থাকতে চায় না। আমরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে পুরো বাংলাদেশ, গোটা বিশ্ব আরও সংযুক্ত হোক।’