
কাইয়ুম বাদশাহ, সুনামগঞ্জ (সিলট) : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদ (৪৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পরকীয়া সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভনকে কেন্দ্র করে স্ত্রী, শালিকা ও তার প্রেমিকের পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে মো. সাদিকুর রহমান (৩৯) নামে এক আসামিকে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাত ৮টা ৫ মিনিটে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট (মাঝহাটি) এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঠেলাগাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল হামিদ। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ৫ মার্চ জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে লক্ষীপুর বাজারগামী সড়কের পাশে একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সুরতহালে নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে নিহতের ভাই জুয়েল মিয়া বাদী হয়ে জামালগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে থানা পুলিশ। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশা চালক সাদিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অটোরিকশা চালক সাদিকুর রহমান ও নিহত আব্দুল হামিদ একই সঙ্গে গাড়ি চালাতেন। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে নিহতের শালিকা রংমালার সঙ্গে সাদিকুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রংমালাকে বিয়ে করতে চাইলে নিহতের স্ত্রী নুরেজা বেগম তাকে স্বামীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে রংমালাকে তার হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহতের স্ত্রী নুরেজা বেগম একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১ মার্চ রাতে জামালগঞ্জ বাজারে ইফতারের পর সাদিকুর রহমান নারীর প্রলোভন দেখিয়ে আব্দুল হামিদকে অটোরিকশায় করে তেরানগর ব্রিজের কাছে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে আব্দুল হামিদ প্রস্রাব করতে বসলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অটোরিকশার সিটের নিচে রাখা কাঠের বর্গা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে মরদেহ পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান সাদিকুর রহমান। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মো. সাদিকুর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব সংবাদ : 


















