
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর পাশবর্তী এলাকা কেরানীগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশন নূর ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে করে জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবহন খাতে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেক গ্রাহক মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকার জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, এত কম পরিমাণ তেল দিয়ে তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করতে হয়, কিন্তু তেল না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় তেলই পাওয়া যায় না। আবার পেলেও ২০০-২৫০ টাকার বেশি দেওয়া হয় না। এতে করে সময় ও অর্থ—দুইটাই নষ্ট হচ্ছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় পরিবহন চালকরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, তেল সংকটের কারণে অনেক গাড়ি রাস্তায় নামানো যাচ্ছে না, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং ভাড়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্দিষ্ট ডিপো বা সরবরাহ কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তাদের নিজস্ব ট্যাংকার বা পাম্পের গাড়িগুলোও তেল সংগ্রহ করতে যেতে পারছে না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এর সম্পূর্ণ বিপরীত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা এবং বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এই সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অতি দ্রুত কেরানীগঞ্জের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।
নিজস্ব সংবাদ : 



















