ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মধ্যনগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার। Logo সকল ধর্মের মানুষদের নিরাপদ আবাসস্থল বাংলাদেশঃ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী Logo ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে বাস্তবসম্মত ‘রোডম্যাপ’ তৈরির তাগিদ – তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন Logo ফ্যামিলি কার্ড প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন Logo দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  Logo হাতিরঝিলে জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ রান সিজন-২’ Logo প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্তে অনলাইন প্রতারণার সাথে জড়িত  চার প্রতারক গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি Logo কৃষকের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন Logo সরকার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই মাসেই সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয়েছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ছায়া সংসদ বিতর্কে উন্নয়ন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়

ফ্যামিলি কার্ড প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি সহায়তা কর্মসূচি নয় ; এটি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির একটি আধুনিক সনদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এবং নাগরিকের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও মানবিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করবে, যেখানে “কেউ পিছিয়ে থাকবে না” (Leave No One Behind)। সবাই মিলে আমরা দেশটাকে গড়তে চাই।

আজ সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অগ্রাধিকার নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিগত আওয়ামী শাসন আমলে অনেক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুনীর্তি থাকবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কোরিং এর মাধ্যমে আইবাস পদ্ধতিতে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। দলমত সকল কিছুর উর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন তাদেরকেই এ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কারণে ঋণের বোঝা বৃদ্ধির শঙ্কা নেই। বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেশটাকে পরনির্ভরশীল করে তুলেছিলো। সেসময়ে মেগা প্রজেক্টগুলোতে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে পেট্রোন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্টের পরিবর্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন হয়, সেই ধরনের প্রজেক্ট গ্রহণ করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এবারের বাজেটে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যা বর্তমান সরকারের সাহসী উদ্যোগ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও এর অর্থায়ন নিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্বেগ ও শঙ্কা রয়েছে। তবে সুবিধাভোগী নির্বাচনে এখনো পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির কোন তথ্য মেইনস্ট্রীম মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার যদি ব্যয় সংকোচন নীতির মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি, অতিমূল্যায়িত প্রকল্প গ্রহণ না করে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে তাহলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা খুব বড় চ্যালেঞ্জ হবে না।

তবে শুধু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করলেই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, আবাসন, অবকাঠামোসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। উপার্জনের পথ সৃষ্টি করতে হবে। কোথায় কোনটা প্রয়োজন সেই বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উত্তরা ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ও সাংবাদিক আতিকুর রহমান।

প্রতিযোগিতা শেষে

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যনগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ছায়া সংসদ বিতর্কে উন্নয়ন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়

ফ্যামিলি কার্ড প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন

আপডেট সময় ০২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি সহায়তা কর্মসূচি নয় ; এটি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির একটি আধুনিক সনদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এবং নাগরিকের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও মানবিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করবে, যেখানে “কেউ পিছিয়ে থাকবে না” (Leave No One Behind)। সবাই মিলে আমরা দেশটাকে গড়তে চাই।

আজ সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অগ্রাধিকার নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিগত আওয়ামী শাসন আমলে অনেক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুনীর্তি থাকবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কোরিং এর মাধ্যমে আইবাস পদ্ধতিতে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। দলমত সকল কিছুর উর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন তাদেরকেই এ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কারণে ঋণের বোঝা বৃদ্ধির শঙ্কা নেই। বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেশটাকে পরনির্ভরশীল করে তুলেছিলো। সেসময়ে মেগা প্রজেক্টগুলোতে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে পেট্রোন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্টের পরিবর্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন হয়, সেই ধরনের প্রজেক্ট গ্রহণ করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এবারের বাজেটে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যা বর্তমান সরকারের সাহসী উদ্যোগ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও এর অর্থায়ন নিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্বেগ ও শঙ্কা রয়েছে। তবে সুবিধাভোগী নির্বাচনে এখনো পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির কোন তথ্য মেইনস্ট্রীম মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার যদি ব্যয় সংকোচন নীতির মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি, অতিমূল্যায়িত প্রকল্প গ্রহণ না করে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে তাহলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা খুব বড় চ্যালেঞ্জ হবে না।

তবে শুধু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করলেই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, আবাসন, অবকাঠামোসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। উপার্জনের পথ সৃষ্টি করতে হবে। কোথায় কোনটা প্রয়োজন সেই বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উত্তরা ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ও সাংবাদিক আতিকুর রহমান।

প্রতিযোগিতা শেষে

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করেন।