ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব প্রলোভনে পড়ে খোয়ালেন অর্ধকোটি টাকা,  চক্রের ০৪ সদস্য  সিআইডির হাতে গ্রেফতার Logo সংকট এড়াতে ৬ মাসের প্রয়োজনীয় সবধরনের টিকা মজুত থাকবে…..স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি Logo মিস-ইনফরমেশন ও ডিজ-ইনফরমেশন প্রতিরোধে কাজ করছে সরকার – তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী Logo বাংলাদেশ ও ইইউ এর মধ্যে পিসিএ’র প্রাথমিক স্বাক্ষর Logo তামাক ব্যবহার কমাতে ও রাজস্ব বাড়াতে বাজেটে তিন প্রস্তাব Logo ভোলার দৌলতখানে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন Logo পানিসম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক Logo হবিগঞ্জের সাতছড়ি সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ী বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৫৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ১৫ বোতল বিয়ার জব্দ করেছে বিজিবি Logo বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ওয়ান হেলথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা জরুরি

উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অপরিহার্য

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৬ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে কেন্দ্রস্থলে রেখে সমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস হলে তার চূড়ান্ত মূল্য সমাজকেই দিতে হয়। তিনি বলেন, রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হলেও একটি সুন্দরবন কিংবা একটি নদী নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও পরিবেশগত সংকট আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত “ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ওয়ান হেলথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াভিত্তিক জটিলতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে কার্যকর পরামর্শক কমিটি গঠন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পনা, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের বড় অংশ সময় শুধু জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াতেই ব্যয় হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নতুন ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ওয়ান হেলথ কেবল একটি কারিগরি কাঠামো নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়। কেন বন্যপ্রাণী রক্ষা করা প্রয়োজন এবং কেন প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়ন অপরিহার্য—এসব বিষয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত না হলে কোনো উন্নয়ন উদ্যোগই টেকসই হতে পারে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার এবং কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে ওয়ান হেলথ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জনস্বার্থের সুরক্ষা বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ড. ফারহিনা আহমেদ, সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. সাইদুর রহমান, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ; ড. মো. আবু সুফিয়ান, মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর; অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন, পরিচালক, আইইডিসিআর; এবং মো. জাহিদুল কবির, উপপ্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব প্রলোভনে পড়ে খোয়ালেন অর্ধকোটি টাকা,  চক্রের ০৪ সদস্য  সিআইডির হাতে গ্রেফতার

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ওয়ান হেলথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা জরুরি

উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অপরিহার্য

আপডেট সময় ০১:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আলী আহসান রবি : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে কেন্দ্রস্থলে রেখে সমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস হলে তার চূড়ান্ত মূল্য সমাজকেই দিতে হয়। তিনি বলেন, রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হলেও একটি সুন্দরবন কিংবা একটি নদী নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও পরিবেশগত সংকট আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত “ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ওয়ান হেলথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াভিত্তিক জটিলতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে কার্যকর পরামর্শক কমিটি গঠন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পনা, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের বড় অংশ সময় শুধু জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াতেই ব্যয় হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নতুন ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ওয়ান হেলথ কেবল একটি কারিগরি কাঠামো নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়। কেন বন্যপ্রাণী রক্ষা করা প্রয়োজন এবং কেন প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়ন অপরিহার্য—এসব বিষয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত না হলে কোনো উন্নয়ন উদ্যোগই টেকসই হতে পারে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার এবং কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে ওয়ান হেলথ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জনস্বার্থের সুরক্ষা বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ড. ফারহিনা আহমেদ, সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. সাইদুর রহমান, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ; ড. মো. আবু সুফিয়ান, মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর; অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন, পরিচালক, আইইডিসিআর; এবং মো. জাহিদুল কবির, উপপ্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।