ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান। Logo যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় নয়: কৃষি মন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সংহতিপত্র হস্তান্তর ও কাতারের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক Logo প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরবিইউ মডেল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করেছে বিপিসিএল Logo দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন Logo নির্বাহী প্রকৌশলীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে চলমান সব কাজ যাচাই করার নির্দেশ ডিএনসিসি প্রশাসকের Logo রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রশাসন ও  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি-নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি তৈরি করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এক প্রতারক গ্রেফতার Logo সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রীর সাথে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত: বাংলাদেশীদের জন্য হজ ও উমরাহ সেবায় নতুন গতি Logo জ্বালানী তেল মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে লালমনিরহাট সীমান্তে কার্যক্রম জোরদার করেছে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অপরিকল্পিত ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি—বলেছেন ভূমি উপদেষ্টা।

অধিগ্রহন প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে: ভূমি উপদেষ্টা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, উন্নয়ন একটি দেশের অগ্রযাত্রার অপরিহার্য শর্ত। সড়ক, রেলপথ, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চল সবকিছুই জাতীয় অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন। তবে এই উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বেশি যে সম্পদটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা হলো কৃষি জমি। অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো জটিল, সময়সাপেক্ষ ও জনভোগান্তিময়। এই প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসণে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। জটিলতা নিরসন না হলে একদিকে যেমন উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে।

আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ভূমি অধগ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অধিগ্রহণ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ শীর্ষক সমীক্ষা ‘অংশীজনের সাথে মতবিনিময় কর্মশালায়’ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব ব্যাংক (বাংলাদেশ)।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ভূমির অপ্রত্যুলতা রয়েছে, এর পরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমান ভূমি অধিগ্রহণে চাহিদা প্রেরণ করা হয় যা কাঙ্খিত নয়। মনে রাখতে হবে ভূমি অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ,এর ফলে তাদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। অনেক সময় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়া, ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা এবং স্বচ্ছতার অভাব জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ভূমি অধিগ্রহনের চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয় ভূমি অধিগ্রহণে যখন যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা তাৎক্ষনিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণে প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমি নীতি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। কৃষি জমি সুরক্ষা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প নিরুৎসাহিত করা এবং বিকল্প জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করাই আজকের আয়োজন। তারা স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের পদ্ধতি, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং বাস্তবায়নজনিত চ্যালেঞ্জ এবং নানা প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আগে মূল্য পরিশোধ প্রস্তাব করেন। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সংলাপ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনআস্থা বাড়াবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার Gayel H martin. অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো এমদাদুল হক চৌধুরী। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড.হালিমা খাতুন,টিম লিডার সিজিএসআইজি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অপরিকল্পিত ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি—বলেছেন ভূমি উপদেষ্টা।

অধিগ্রহন প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে: ভূমি উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১১:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, উন্নয়ন একটি দেশের অগ্রযাত্রার অপরিহার্য শর্ত। সড়ক, রেলপথ, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চল সবকিছুই জাতীয় অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন। তবে এই উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বেশি যে সম্পদটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা হলো কৃষি জমি। অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো জটিল, সময়সাপেক্ষ ও জনভোগান্তিময়। এই প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসণে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। জটিলতা নিরসন না হলে একদিকে যেমন উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে।

আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ভূমি অধগ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অধিগ্রহণ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ শীর্ষক সমীক্ষা ‘অংশীজনের সাথে মতবিনিময় কর্মশালায়’ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব ব্যাংক (বাংলাদেশ)।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ভূমির অপ্রত্যুলতা রয়েছে, এর পরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমান ভূমি অধিগ্রহণে চাহিদা প্রেরণ করা হয় যা কাঙ্খিত নয়। মনে রাখতে হবে ভূমি অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ,এর ফলে তাদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। অনেক সময় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়া, ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা এবং স্বচ্ছতার অভাব জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ভূমি অধিগ্রহনের চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয় ভূমি অধিগ্রহণে যখন যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা তাৎক্ষনিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণে প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমি নীতি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। কৃষি জমি সুরক্ষা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প নিরুৎসাহিত করা এবং বিকল্প জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করাই আজকের আয়োজন। তারা স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের পদ্ধতি, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং বাস্তবায়নজনিত চ্যালেঞ্জ এবং নানা প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আগে মূল্য পরিশোধ প্রস্তাব করেন। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সংলাপ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনআস্থা বাড়াবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার Gayel H martin. অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো এমদাদুল হক চৌধুরী। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড.হালিমা খাতুন,টিম লিডার সিজিএসআইজি।