ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অপরিকল্পিত ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি—বলেছেন ভূমি উপদেষ্টা।

অধিগ্রহন প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে: ভূমি উপদেষ্টা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, উন্নয়ন একটি দেশের অগ্রযাত্রার অপরিহার্য শর্ত। সড়ক, রেলপথ, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চল সবকিছুই জাতীয় অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন। তবে এই উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বেশি যে সম্পদটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা হলো কৃষি জমি। অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো জটিল, সময়সাপেক্ষ ও জনভোগান্তিময়। এই প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসণে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। জটিলতা নিরসন না হলে একদিকে যেমন উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে।

আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ভূমি অধগ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অধিগ্রহণ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ শীর্ষক সমীক্ষা ‘অংশীজনের সাথে মতবিনিময় কর্মশালায়’ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব ব্যাংক (বাংলাদেশ)।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ভূমির অপ্রত্যুলতা রয়েছে, এর পরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমান ভূমি অধিগ্রহণে চাহিদা প্রেরণ করা হয় যা কাঙ্খিত নয়। মনে রাখতে হবে ভূমি অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ,এর ফলে তাদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। অনেক সময় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়া, ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা এবং স্বচ্ছতার অভাব জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ভূমি অধিগ্রহনের চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয় ভূমি অধিগ্রহণে যখন যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা তাৎক্ষনিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণে প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমি নীতি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। কৃষি জমি সুরক্ষা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প নিরুৎসাহিত করা এবং বিকল্প জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করাই আজকের আয়োজন। তারা স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের পদ্ধতি, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং বাস্তবায়নজনিত চ্যালেঞ্জ এবং নানা প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আগে মূল্য পরিশোধ প্রস্তাব করেন। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সংলাপ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনআস্থা বাড়াবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার Gayel H martin. অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো এমদাদুল হক চৌধুরী। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড.হালিমা খাতুন,টিম লিডার সিজিএসআইজি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অপরিকল্পিত ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি—বলেছেন ভূমি উপদেষ্টা।

অধিগ্রহন প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে: ভূমি উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১১:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, উন্নয়ন একটি দেশের অগ্রযাত্রার অপরিহার্য শর্ত। সড়ক, রেলপথ, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চল সবকিছুই জাতীয় অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন। তবে এই উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বেশি যে সম্পদটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা হলো কৃষি জমি। অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও কৃষকের অস্তিত্বের জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো জটিল, সময়সাপেক্ষ ও জনভোগান্তিময়। এই প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসণে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। জটিলতা নিরসন না হলে একদিকে যেমন উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধন হতে হবে।

আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ভূমি অধগ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অধিগ্রহণ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ শীর্ষক সমীক্ষা ‘অংশীজনের সাথে মতবিনিময় কর্মশালায়’ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব ব্যাংক (বাংলাদেশ)।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ভূমির অপ্রত্যুলতা রয়েছে, এর পরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমান ভূমি অধিগ্রহণে চাহিদা প্রেরণ করা হয় যা কাঙ্খিত নয়। মনে রাখতে হবে ভূমি অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ,এর ফলে তাদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। অনেক সময় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়া, ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা এবং স্বচ্ছতার অভাব জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ভূমি অধিগ্রহনের চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয় ভূমি অধিগ্রহণে যখন যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা তাৎক্ষনিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণে প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমি নীতি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। কৃষি জমি সুরক্ষা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প নিরুৎসাহিত করা এবং বিকল্প জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করাই আজকের আয়োজন। তারা স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের পদ্ধতি, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং বাস্তবায়নজনিত চ্যালেঞ্জ এবং নানা প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আগে মূল্য পরিশোধ প্রস্তাব করেন। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সংলাপ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনআস্থা বাড়াবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার Gayel H martin. অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো এমদাদুল হক চৌধুরী। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড.হালিমা খাতুন,টিম লিডার সিজিএসআইজি।