
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সৈয়দা রাশিদা বারী
হইলে দেশে নির্বাচন …
পাইবে মানুষ সুশাসন …!
সবাই এবার সেই স্বপ্ন বুনে,
চিনিতে ক্ষতি, গান বাধে নুনে!
হ্যাঁ প্রতিশ্রুতির ডালি হাতে,
১২ই ফেব্রুয়ারি পড়েছে ভোটের ডাক। উপদেষ্টারা গ্রামগঞ্জে দিচ্ছেন হাক। নারী বিষয়ক উপদেষ্টা
শারমিন এস রহমানও গিয়েছিলেন ঝিনাইদার ওদিকে হেথায় সেথায়।
তিনি গোড়া থেকেই নারী বান্ধব, নারী ক্যান্ডিডেটের নির্বাচনী প্রচারণায়, সহযোগী আছেন।
কিন্তু তবু বলতেই হবে,
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী, প্রচারণার নাম বাপরে বাপ!
নারী ক্যান্ডিডেট পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বী
যখন, যে স্থানে, সেই স্থানে আছে, দারুন কথার রাফ!
বিয়ে বসা না হইছে তো, কত রকম আউল ফাউল, বলেছেন মানুষ।
মাথায় ঘোমটা না দেওয়াটাও তো জবাবদিহির আরেক দোষ!
পুরুষ ক্যান্ডিডেট সবাই কি আর টুপি পড়েন, পড়েন না তো।
এই কথাটা পুরুষ ক্যান্ডিডেটের কোন নারী বলেন নাই তো?
বিয়ে না করা নারীকে যদি হিজরা কিতা, পিউ পিউ কাহা পিউ পিউ কাহা … বলে, জাহির করা হয়।
আনন্দ উপহাস বুফে!
বিয়ে না করা পুরুষ তাহলে বলুন
না কেন, কি তা কা হা মিউ মিউ মিউ মিউ, হুক্কা হুয়া, কেয়া মজা … হবে ওই পুরুষের কি পরিচয়?
নারীরা কেন তাচ্ছিল্য করে ওদের নাম হিজরার থেকেও মন্দ কিছু পড়ায় না, বানায় না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ক্যান্ডিডেটের দুঃখের কথা
আরো অনেক। যা পুরুষের ব্যভিচারী সুখের রফা!
পুরুষ পুরুষ কীর্তি গুলো, ভুলভুলো, নারীর বলে ভোট না করে বাড়ি যাও, কবরে যেতে হবে, নামাজ পড়ো, ঘরে থাকো, সংসার করো, ইত্যাদি। তাহলে ভোটের জন্য পুরুষদের কি ওইসব মাপ??
নারী ক্যান্ডিডেটের আল্লার কালামের ভয় দেখায়, বিঘ্নিত করা কিছু পুরুষ! কিন্তু
কোন পুরুষের কোন নারীই
এই কমেন্ট করেন নাই!?
আল্লাহর ভয় দেখান নাই!?
তাহলে কি পুরুষের এইসব নাই?
বলেন তো শুনি ভাইরে ভাই?
লিখতে লেখায় কিই বা বলবো তাই। পরকাল, নামাজ রোজা, সংসার সন্তান, ইত্যাদি শুধুই নারীর?!
দেশের যত রফা দফা সব পুরুষের?
নারী বিয়ে না করলে হিজড়া বলেন,
পৃথিবীতে বিয়ে না করা পুরুষ কি নাই?
তালিকা তো করলাম বিয়ে না করার, নারীর ৩ডবল পুরুষকে পেলাম!!! তাহলে??? বিয়ে করেন নাই চিরকুমার থেকেই কাটিয়েছেন জীবন পুরুষ সুখে! নারী কেন পারবে না থাকতে বিয়ে না করে তেমন সুখে? বিয়ে না করলে কেন নারীর ক্ষেত্রে এত কথা! কথায় কথায় উটকো না মেরে দেয় ব্যথা! বিকট লোলুপ দৃষ্টি ফেলে ধরাই মাথা, যথা তথা!!!
জোর জুলুমের একটা সীমা থাকতে হবে।
কথায় কথায় নারী ভাবা
নারী বলা বন্ধ করতে হবে।
অত্যাচারে মেতে উঠাই ভিকটি মারে পুরুষ! মনেই হয় না মানুষ!
উড়ন্ত বলাকার থাক যেন ফানুস!
ভিকটিভিতে এক পায়ে খাড়া!
পুরুষ মানুষ আছেন যারা।
মুখে বিয়ে বুকে শাসন চোখে ভোট। নির্বাচনী ভোট গুনতে গুনতে বেলেজার ছেড়ে পরে কোট!
ভোটকাতুরে হয়েছে পুরুষ, খুবই ভালো।
সুপুরুষরাও ভোটকাতুরে, চরম ভালো। ভোট করে সব ঘরে ঘরে জ্বালো আলো।
সমাজের নারীরা তো পুরুষের নির্বাচনে বলে না কিছু, দেয় না বাঁধা! সমাজের পুরুষ দেয় নির্বাচনে মাঠে নামতে নারীর বাধা?!
কেন কেন? কোন কারণে??
কোন যুক্তিতে কি মুক্তিতে?!
গরম ভাতে নতুন আলু মজার ঘি!
এই সমস্ত করলে এখন পাবেন ছি!!
পুরুষ নারীর খবর কি?
গিয়ে দেখুন মেধা তালিকায়!!
নারী কনটেসটের ডান্ডা!!
চায়লে কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় করেও দিতে পারে পুরুষকে ঠান্ডা!
নারী ধৈর্যশীল নারী বুদ্ধিজীবী,
তাইতো পুরুষকে দেয় ছার।
পুরুষকে করে দেয় মাফ।
তাই নির্বিঘ্নে মা বাবার সম্পদও
বোনকে দিতে পারে হাফ!
একইভাবে জন্ম নিয়ে বোনের ফাঁকি দিয়ে ডবল নেওয়া পাও নাই!
ধৈর্য জ্ঞান যোগ্যতায় নামো,
দেখাও নারীর সাথে কেমন পারো?
ছেলে হওয়ায় মুরগির আস্ত ডিমটা মায়ের কাছ থেকে খাওয়া পাইছো? সবকিছুতে সুযোগ সুবিধাও হাকো!!
দিন এসেছে ইলেকটিরিক, ফেসবুক ইউটিউব, ইন্টারনেট ইমেইল, মেসেঞ্জার whatsapp ইমু আরো অনেক কিছু রে ভাই।
মন মানসিক বদলাও তাই।
দিতে হবে পুরনো হিসেব।
এখন কি আর পিছু টেনে ধরা, মায়ের আদর বাবার সব কিছু বেশি নেওয়া! ব্ল্যাকমেইল প্রভৃতি ওসব দেখার সময় নারীর আছে? পুরুষেরও কি সাজে?
লাগে সত্যি খুবই বাজে।
নতুন বাংলাদেশে আপডেট সমাজে, মুর্দার গোসলেরও মশারি হয়েছে। এটা মাথায় নিয়েই শান্ত হওয়া শ্রেয়।কেন ভালো কাজেও পুরুষ হয় নারীর বাধা!! লাগিয়ে ধাঁধা!!
কৃষ্ণ কৃষ্ণ আর করে না এখন রাধা!
নামাজ কালাম পুরুষও পড়বে। সর্বক্ষণ সকল পুরুষ টুপিও পড়বে।
বাধ্যতামূলক দাড়িও রাখবে।
বাধ্যতামূলক নারীর বসন,
হিজাব নিকাব বোরকার মতন।
অধিকার থাকবে সমান সমান।
পুরুষও সংসার সন্তান পালনে ব্যস্ত হবে! নারীর পিছে নেস্ত্র রবে।
নারীর সাথেই অফিস আদালত সেক্রেটারিয়েট মিনিস্টারে।
সমান অধিকারে যবে রবে।
সমান সমান কাজ করবে।
ইটভাটা, ধানের গুদাম, তাউলের আরত, মাটিকাটা, বালি টানা, রাজমিস্ত্রি কাঠমিস্ত্রি যেটাই বল, কিছুতে সমান অধিকার।
কাজের বিনিময়ে মজুরিও সমান, নারী-পুরুষ সমান অংশীদারি।
এই সমাজের ভালো সবকিছুতেই অর্ধেক অবদান থাকবে নারীর।
অর্ধেক থাকবে নরের!
তবেই হবে সার্বিক পর্যায়ে সবার জন্য, মঙ্গল। সবার জন্য কল্যাণ উন্নয়ন উন্নতি।
সুখ সমৃদ্ধি আর শান্তি।
ঘরে পড়ে বাইরে বাসে মেট্রোরেলে,
প্লেনে লঞ্চে স্টিমারে জাহাজে,
সিএনজিতে কারে রিকশায়,
রাস্তাঘাটে মাঠে ময়দানে বন বাদারে।
ঝিলের জলে বিলের জলে
পাহাড়ে পর্বতে ফুটপাতে
নারী-পুরুষ নাই ভেদাভেদ।
থাকবেনা অন্যায় রাখবেনা বৈষম্য।
বৈষমর দিন শেষ।
নারীরাও থাকবেন ভালো বেশ।
১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবাই মিলে মিশে প্রতিষ্ঠা করে,
দেশকে ষড়যন্ত্রমুক্ত করুন।
শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখুন ।
২৪.০১.২০২৬ ইং, রাত ৮টা, শনিবার।
নিজস্ব সংবাদ : 





