ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণমাধ্যমের সমস্যার সমাধানে নিয়মিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী  জহির উদ্দিন স্বপন। Logo সংঘের সঙ্গী সৎ হইলে স্বর্গে বাস, অসৎ হইলে সর্বনাশ Logo বাউফলে অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর ভস্মিভূত Logo শেখ হাসিনা দেশে ফেরার আগেই দেয়ালের জঙ্গিবাদী গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘোষণা এম বি কানিজের Logo আইএসডিই এর উদ্যোগে কিং সালমান মানবিক সহায়তায় ৬০ হাজার পরিবারে খাবার প্যাকেট বিতরণ হবে Logo লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছে ১৬৫ বাংলাদেশি নাগরিক Logo মতিঝিল স্টেশনে নতুন নিয়ম মেট্রোরেলে সিট দখল ঠেকাতে Logo তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সঠিক, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে – তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী Logo নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের  বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ Logo নিরাপদ ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া রোধে কঠোর পদক্ষেপ
আওয়াজ ফাউন্ডেশন ও ফ্ল্যাড আয়োজিত সভায় নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ।

নারীর ভোট ও ভবিষ্যতে রাষ্ট্রে কর্মজীবী নারীর ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা ‌সভা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৪ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ৩:টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে “নারীর ভোট ও ভবিষ্যতে রাষ্ট্রে কর্মজীবী নারীর ভূমিকা” শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়াজ ফাউন্ডেশন এবং ফ্ল্যাড (ফাউন্ডেশন ফর ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট)। অনুষ্ঠানে আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর নগণ্য অংশগ্রহণ, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর ভূমিকা এবং কর্মজীবী নারীদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আকতার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পর নারী ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে? অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্ল্যাড-এর সভাপতি ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, ৫২, ৭১ কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি লড়াইয়ে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে তাদের এই অনুপস্থিতি জাতীয় অগ্রগতির অন্তরায়।

নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মজীবী নারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও মতামত তুলে ধরেন:

তাসলিমা আকতার (সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি): তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ৫ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তিনি নারীদের কেবল ‘মা-বোন’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তাদের নেতৃত্বের গুরুত্ব স্বীকার করার আহ্বান জানান।

অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নী (সেক্রেটারি (এইচআরডি, আইন ও মানবাধিকার, নারী শাখা) ও ইনচার্জ, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল, নারী শাখা, জামায়াতে ইসলামী।): তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শুধু সংখ্যা নয়, বরং নারীর গুণগত অংশগ্রহণ (quality participation) নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। জামায়াতের ইশতেহারে কর্মক্ষেত্রে সমমজুরি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী-বান্ধব সমাজ গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে।
অ্যাডভোকেট হুমায়ারা নূর (যুগ্ম সদস্য সচিব, এনসিপি): অ্যাডভোকেট হুমায়ারা নূর নারী ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসাথে তিনি প্রতিটি থানায় নারী পুলিশ নিয়োগ এবং বিশেষ নারী সুরক্ষা সেল গঠন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন। পারিবারিক ও সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে তিনি নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি বাবাদের জন্য ১ মাসের সপারিবারিক পিতৃকালীন ছুটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। এ ছাড়াও, আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণার অবশিষ্ট সময়টিতে নারী প্রার্থী এবং রাজনৈতিক কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শুকলা সারওয়াত সিরাজ তুলে ধরেন যে, ২০২৬ সালে এসেও ১৭৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৩২ জন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পারিবারিক পরিচয় বা উত্তরাধিকার ছাড়া নারীদের রাজনীতির পথ এখনো সুগম নয়। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে নারীর অধিকার নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না?

অনুষ্ঠানে বক্তারা একমত হন যে, যোগ্যতার ভিত্তিতে সরাসরি নির্বাচনে নারীদের সুযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। নির্বাচনের আগে কেবল নিরাপত্তার অপেক্ষা না করে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই নারীদের অধিকার আদায় নিশ্চিত করতে হবে। বিকেল ৩:০০ টায় শুরু হওয়া এই সভাটি সন্ধ্যা ৬:০০ টায় সমাপ্ত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের সমস্যার সমাধানে নিয়মিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী  জহির উদ্দিন স্বপন।

আওয়াজ ফাউন্ডেশন ও ফ্ল্যাড আয়োজিত সভায় নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ।

নারীর ভোট ও ভবিষ্যতে রাষ্ট্রে কর্মজীবী নারীর ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা ‌সভা

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ৩:টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে “নারীর ভোট ও ভবিষ্যতে রাষ্ট্রে কর্মজীবী নারীর ভূমিকা” শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়াজ ফাউন্ডেশন এবং ফ্ল্যাড (ফাউন্ডেশন ফর ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট)। অনুষ্ঠানে আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর নগণ্য অংশগ্রহণ, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর ভূমিকা এবং কর্মজীবী নারীদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আকতার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পর নারী ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে? অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্ল্যাড-এর সভাপতি ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, ৫২, ৭১ কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি লড়াইয়ে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে তাদের এই অনুপস্থিতি জাতীয় অগ্রগতির অন্তরায়।

নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মজীবী নারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও মতামত তুলে ধরেন:

তাসলিমা আকতার (সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি): তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ৫ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তিনি নারীদের কেবল ‘মা-বোন’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তাদের নেতৃত্বের গুরুত্ব স্বীকার করার আহ্বান জানান।

অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নী (সেক্রেটারি (এইচআরডি, আইন ও মানবাধিকার, নারী শাখা) ও ইনচার্জ, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল, নারী শাখা, জামায়াতে ইসলামী।): তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শুধু সংখ্যা নয়, বরং নারীর গুণগত অংশগ্রহণ (quality participation) নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। জামায়াতের ইশতেহারে কর্মক্ষেত্রে সমমজুরি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী-বান্ধব সমাজ গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে।
অ্যাডভোকেট হুমায়ারা নূর (যুগ্ম সদস্য সচিব, এনসিপি): অ্যাডভোকেট হুমায়ারা নূর নারী ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসাথে তিনি প্রতিটি থানায় নারী পুলিশ নিয়োগ এবং বিশেষ নারী সুরক্ষা সেল গঠন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন। পারিবারিক ও সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে তিনি নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি বাবাদের জন্য ১ মাসের সপারিবারিক পিতৃকালীন ছুটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। এ ছাড়াও, আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণার অবশিষ্ট সময়টিতে নারী প্রার্থী এবং রাজনৈতিক কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শুকলা সারওয়াত সিরাজ তুলে ধরেন যে, ২০২৬ সালে এসেও ১৭৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৩২ জন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পারিবারিক পরিচয় বা উত্তরাধিকার ছাড়া নারীদের রাজনীতির পথ এখনো সুগম নয়। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে নারীর অধিকার নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না?

অনুষ্ঠানে বক্তারা একমত হন যে, যোগ্যতার ভিত্তিতে সরাসরি নির্বাচনে নারীদের সুযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। নির্বাচনের আগে কেবল নিরাপত্তার অপেক্ষা না করে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই নারীদের অধিকার আদায় নিশ্চিত করতে হবে। বিকেল ৩:০০ টায় শুরু হওয়া এই সভাটি সন্ধ্যা ৬:০০ টায় সমাপ্ত হয়।