ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান। Logo যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় নয়: কৃষি মন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সংহতিপত্র হস্তান্তর ও কাতারের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক Logo প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরবিইউ মডেল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করেছে বিপিসিএল Logo দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন Logo নির্বাহী প্রকৌশলীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে চলমান সব কাজ যাচাই করার নির্দেশ ডিএনসিসি প্রশাসকের Logo রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রশাসন ও  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি-নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি তৈরি করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এক প্রতারক গ্রেফতার Logo সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রীর সাথে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত: বাংলাদেশীদের জন্য হজ ও উমরাহ সেবায় নতুন গতি Logo জ্বালানী তেল মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে লালমনিরহাট সীমান্তে কার্যক্রম জোরদার করেছে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)
ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনের বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এর নীতিগত অনুমোদন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬৪ বার পড়া হয়েছে

​​​​​​​আলী আহসান রবি : গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬।

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬ ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬ এই দুটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় যৌন হয়রানির বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে; যেখানে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে করা আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই–মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

খসড়ায় অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত; তদন্তকালে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে।

অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় অধ্যাদেশটি ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ করেছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।

অধ্যাদেশের খসড়ায় অসংগঠিত, যেখানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই কমিটি গঠিত হবে, যাতে নাগরিকেরা অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ পান।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রমের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন আচরণ বা নির্যাতন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই খসড়ায় ৭টি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারা রয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, অধ্যাদেশে আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনত এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যাতে যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা সীমিত করা যায় সেজন্য এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আদালত অভিযোগের ভিত্তিতে অস্থায়ী সুরক্ষা আদেশে দিতে পারবে এবং তদন্ত শেষে স্থায়ী আদেশ জারি করা যাবে।

নির্ধারিত ফরমে অভিযোগ গ্রহণের পর ৭ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।

ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনের বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এর নীতিগত অনুমোদন

আপডেট সময় ১২:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

​​​​​​​আলী আহসান রবি : গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬।

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬ ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬ এই দুটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় যৌন হয়রানির বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে; যেখানে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে করা আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই–মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

খসড়ায় অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত; তদন্তকালে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে।

অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় অধ্যাদেশটি ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ করেছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।

অধ্যাদেশের খসড়ায় অসংগঠিত, যেখানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই কমিটি গঠিত হবে, যাতে নাগরিকেরা অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ পান।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রমের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন আচরণ বা নির্যাতন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই খসড়ায় ৭টি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারা রয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, অধ্যাদেশে আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনত এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যাতে যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা সীমিত করা যায় সেজন্য এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আদালত অভিযোগের ভিত্তিতে অস্থায়ী সুরক্ষা আদেশে দিতে পারবে এবং তদন্ত শেষে স্থায়ী আদেশ জারি করা যাবে।

নির্ধারিত ফরমে অভিযোগ গ্রহণের পর ৭ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা করতে হবে।