
সৈয়দা রাশিদা বারী
অপেরা: গরম গরম ভোট লইবেন? বাড়ি আহেননি!? এদিকে একটু আহেন দিনি।
আমি ভোট বেচবার লাইগা আইহি। আমার থেইকা কি আমার ভোটটা লইবেন?! আমার ভোটটা কিনবেন?
ভোট বেজবার আইহি, ভোট লইবেন ভোট? ভোট??
কাগজের লোটে আমি ভোট বেচুমনা।
মিষ্টি কথার রসমালাই এ আমি ভোট বেচুম না।
বিরয়ানী জর্দার উমা ঘ্রাণে, দই সেমাই পায়েস আয়েস কিচ্ছুতেই নয়। আমি আমার ভোট দিমু না।
চা পাতা বিড়ি সিগারেটে আমি ভুইলা ভোট করুম না।
আমি ভোট করুম সমাজের বিশাল একটা দরকারে! সৃজনশীল একটা কর্মকাণ্ডের জন্য। সে শর্তটা আছেনি নির্বাচনী ইশতেহারে সেই শর্ত দেইখা। ক্যান্ডিডেটের, লিখিত চুক্তি নামা স্বাক্ষর দেইখা । নির্বাচনী ইশতেহার নিজ চক্ষে পইড়া।
লিখিত ঘোষণা বুইঝা শুইনা জাইনা।
আমার লগে ভোট কিনবেন নি ভোট? আমার থেইকা লইবেন ভোট,,,? গরম গরম চা পরোটা সুমোচা সিঙ্গারা ডিম? কফি খাইয়া তপ্ত তাজা ভোট!? নিরেট স্বচ্ছ ভোট? ওই ভোট আমি করুম না! বইলাই তো গেলাম।
আমার ভোটের কোন ত্রুটি নাই। অসুখ বিষুক রোগ বালাই নাই।
ফিজিক্যাল ফিটনেস, নিউটাল ভেজাল মুক্ত ভোট।
আমার দুর্নীতি মুক্ত দুষ্কর্মমুক্ত নিট এন্ড কিলিন ভোট।
আরে ভাই সস্তা দামে নগদ নগদ আমার ভোটটা কেনেন।
আমার ভোট বিবেকবান হৃদয়বান। স্পষ্টবাদী।
বুদ্ধিমান সচেতন প্রাণ।
হৃদয়হীন মানবতাহীন নীতিহীন নয়। আমার ভোট স্বার্থবাদী নয়।
হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত।
আমার ভোট দেশ দরদী মানবপ্রেমীক।
স্পষ্ট ভাসিতে বিশ্বাসী।
এই সুন্দর ভোটটা কিনবেন?
আমার এই সোনার চেয়েও দামি ভোটটা লইবেন? আমি আমার হীরের টুকরো ভোট বেচুম। কাগজের টেহার কাছে বিক্রি হইবো না। কাগজের লটের লড়াই এ বিক্রি হইবো না।
আমার ভোট ক্রেতা অর্থাৎ ক্যান্ডিডেটের লিখিত বক্তব্য নির্বাচনী ইশতেহার হইতে হইবো।
দরজা খোলো। আমি ভোট বেচবার আইছি। দরজা বন্ধ রাখলে কি চলবো ও ভোট কিনুনী। দরজার খিল খোলো। বন্ধ চক্ষু মেলো। মানুষের প্রয়োজনে মানুষ হয়ে পাশে আসলো। ভোট ফেরুয়ালি হাসির কথায় দরজার ঐপাশ থেকে:
সামিরা: দরজায় কে? আমি তো এই বাড়ির কাজের মানুষ। আমারে তালা দিয়া রাইখা গেছে ভোট চাইবার। চাবি উগারে কাছে। তুমি বহো আমি গ্রিলের ভিতর থেইকা তোমায় চা দিতাছি। বহ বোন বহ। খাইয়া যাও তোমারে চা দেই।
অপেরা: চা পানি খাইয়া ভোট বেচুমনা। ফিরলে তুমি ওগারে বইলো আমি আইছি। আমার নগদ ভোটের বিনিময় নগদ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা পত্র চাই। সেহানে লেহা থাকবো, নারী ও শিশুর একশত পারসেন্ট নিরাপত্তা দিবো।
বৃদ্ধ মা বাবার নিরাপত্তা দিবো।
ভাতের লাগি কাঁদবো না।
চিকিৎসার লাগি ভাসবো না।
বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হইবো না।
মাথাপিছু একজন বৃদ্ধ মা তার প্রত্যেক সন্তান থেইকা, সন্তানের রানিং ইনকামের হাফ পার্সেন্ট অংশীদার। কৃষক মাঠের জমি চাষাবাদ বর্গা অনুসারে অর্ধেক অংশ পাইবো।
বাবা মায়ের সহায় সম্পত্তির পুত্রকন্যা সমান সমান অংশীদার। অর্ধেক সম্পত্তি পাইবো। স্বামীর কিছুই দিতে হইবো না। কারণ স্বামীর স্থায়িত্বের গ্যারান্টি নাই। নির্ভেজাল বাবা মায়ের সম্পত্তির অর্ধেক ভাই অর্ধেক বোন। ভাইয়ের সাথে বোনের সমান ভাগ থাকবো। ভাই বোনকে সমান অধিকার দিবো। এতে ভাই বোনকে দেওয়ায় যেটা কমবো। ভাইয়ের স্ত্রী একই মত ফিরিয়ে আনবো। অর্থাৎ নিজের বোনকে যা দেবে। ভাইয়ের স্ত্রী ঠিক ততটাই নিয়ে আসবে। ভাইয়ের সেই বোনকে দেওয়ার স্থান পূরণ করবে ভাইয়ের স্ত্রী ভাইকে ফিরিয়ে দিয়ে। বাহ কি সুন্দর নির্মল ত্রুটিমুক্ত এই নিয়ম এই আইন! নারী-পুরুষ একদম ভালো থাকবে কেউ খারাপ থাকবে না! হ্যাঁ নারীদের শুধু নির্বাচনী ইশতেহারে এইটুকুই চাওয়া।
এটুকুই হবে নারীদের যথেষ্ট পাওয়া। নারী কিন্তু বেশি চায় না এইটুকুই চাই।
আমার ভোটটা এই বিনিময়ে কিনতে হইবো।
আমার ভোট মানে নারীর ভোট। নারীদের ভোট এই বিনিময়ে কিনতে হইবো।
ভোট লইবেন ভোট। ভোট কিনবেন ভোট? টাকায় পয়সায় চা পান পাতায় নয়! বিড়ি সিগারেটেও নয়। কোরমা কাবাব, পোলাও বিরয়ানির বিনিময়ে নয়! ‘নির্বাচনী ইশতেহার, পুত্র-কন্যার সম অধিকার।’
এই স্লোগান, এই নীতিমালা, এই আদর্শ জ্ঞান বিদ্যার বিনিময়ে ভোট লইবেন। ভোট কিনবেন ভোট? আমি ভোট ফেরিওয়ালা। ভোট বেচবার আইছি ভোট লইবেন? টাকাই নয়, সুস্থমানের উচ্চমানের সুন্দর পরিকল্পনা মাফিক নির্বাচন ইশতেহারের বিনিময়ে। ভোট কিনবেন, ও সংসদ সদস্যর ক্যান্ডিডেট? ভোট কিনবেন ভোট ?? গরম গরম ভোট লইবেন? নগদ বিনিময়ে নগদে পাইবেন, ভোট নিবেন ভোট??
নিজস্ব সংবাদ : 










