
মো: হামিম রানা, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) : সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নুরুন্নবী সরকারের কার্যালয় রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলা পিআইও কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় রাণীশংকৈল ছাত্রদলের কলেজ কমিটির সভাপতি আতিক এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা মামুনুর রশিদ মামুন আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইতে কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী পিআইও কার্যালয়ে যান। এ সময় পিআইও এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন অফিসের কর্মচারীরা বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে পড়া নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “আমরা সরকারি নিয়মের বাইরে কেন অফিস খোলা রাখা হয়েছে তা জানতে চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়। পরে আমাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়।”
তবে এ বিষয়ে পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারি জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রকল্পের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে দিনদুপুরে এক ইউপি সদস্যকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আক্কাশ আলী রাণীশংকৈল থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাণীশংকৈলে যোগদানের পর থেকেই পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অফিস কক্ষে ধূমপানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে এর আগেও তার অপসারণের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এছাড়া ওই মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় দুই সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সুজন ও ফারুক আহম্মেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়েরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিজস্ব সংবাদ : 



















