ঢাকা ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ মে ২০২৫, ১৮ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বন‍্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে গৃহ হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo পদ্মা সেতুতে Electronic Toll Collection (ETC) সিস্টেম ব্যবহারের জন্য “বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ” এবং “পূবালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক ও নগদ” এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর Logo স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বীর সেনানিদের বীরত্বগাঁথা–৩২ Logo মেরিটাইম ইন্ড্রাস্টিকে নিরাপদ ও ডিজিটাল করতে বিএসসিএল ও স্টারনুলার মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর Logo শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর Logo সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও নৈতিকতা-বিষয়ক আইন হওয়া প্রয়োজন——- তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা Logo কালো ধোঁয়া ও নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মোবাইল কোর্ট অভিযানে জরিমানা ও সতর্কবার্তা Logo কোম্পানির মুনাফার জায়গা গোখাদ্য হতে পারে না-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা Logo জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে -পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত

সংকটাপন্ন নদী পুনরুদ্ধারের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণে পরিবেশ ও পানি সম্পদ উপদেষ্টার আহ্বান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন বাংলাদেশের সংকটাপন্ন নদীগুলো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন এবং বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, নদীগুলো পুনরুদ্ধার কঠিন, তবে সম্ভব। এবং এটি আজই শুরু করতে হবে। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যকার বড় ব্যবধানের কথা তুলে ধরে বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির অভাব।

ঢাকা সাতটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত হলেও এখানে পানি সংকট তীব্র। মানুষ তাৎক্ষণিক সমাধান আশা করে—আজ বিশুদ্ধ বাতাস, আগামীকাল পরিষ্কার নদী। কিন্তু বছরের পর বছর অবহেলিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিবেশ একদিনে পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়, তিনি বলেন। উপদেষ্টা জানান, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারাচ্ছে। যেসব নদী একসময় সাগরে মিলিত হতো, সেগুলো এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। এগুলো শিল্প বর্জ্যের নর্দমায় পরিণত হয়েছে। আমাদের অবশ্যই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন। সীমান্তবর্তী পানি ভাগাভাগির বিষয়ে তিনি কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইউরোপীয় কনভেনশন অন শেয়ারড লেকস অ্যান্ড রিভার্স অনুসমর্থনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পানি আলোচনা শক্তিশালী করবে। বন্যা ব্যবস্থাপনায়, তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে বলেন। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যা প্রতিরোধ ও জনগণের প্রস্তুতির জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমাদের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হতে হবে এবং জনগণের ভাষায় তথ্য পৌঁছাতে হবে, তিনি বলেন।

তিনি অতিরিক্ত বন্যাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা করে কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও পানীয় জলের সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান। আমাদের জনগণ দৃঢ়, কিন্তু শুধু দৃঢ়তা যথেষ্ট নয়। বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে বড় নদীগুলো রক্ষা এবং বন্যা ঝুঁকি কমাতে রিয়েল-টাইম তথ্য শেয়ার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়তে থাকায়, তিনি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। পরিবর্তনের একটি সীমা আছে। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন কমানো না গেলে, আমরা কতটুকু মানিয়ে নিতে পারব? জলবায়ু পরিবর্তন শুধু আমাদের লড়াই নয়, এটি একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) নির্বাহী পরিচালক এস এম মাহবুবুর রহমান, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান, ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং আইসিডব্লিউএফএম ২০২৫-এর আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম তারেকুল ইসলাম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন‍্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে গৃহ হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা

সংকটাপন্ন নদী পুনরুদ্ধারের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণে পরিবেশ ও পানি সম্পদ উপদেষ্টার আহ্বান

আপডেট সময় ০৫:২৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আলী আহসান রবি: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন বাংলাদেশের সংকটাপন্ন নদীগুলো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন এবং বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, নদীগুলো পুনরুদ্ধার কঠিন, তবে সম্ভব। এবং এটি আজই শুরু করতে হবে। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যকার বড় ব্যবধানের কথা তুলে ধরে বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির অভাব।

ঢাকা সাতটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত হলেও এখানে পানি সংকট তীব্র। মানুষ তাৎক্ষণিক সমাধান আশা করে—আজ বিশুদ্ধ বাতাস, আগামীকাল পরিষ্কার নদী। কিন্তু বছরের পর বছর অবহেলিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিবেশ একদিনে পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়, তিনি বলেন। উপদেষ্টা জানান, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারাচ্ছে। যেসব নদী একসময় সাগরে মিলিত হতো, সেগুলো এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। এগুলো শিল্প বর্জ্যের নর্দমায় পরিণত হয়েছে। আমাদের অবশ্যই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন। সীমান্তবর্তী পানি ভাগাভাগির বিষয়ে তিনি কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইউরোপীয় কনভেনশন অন শেয়ারড লেকস অ্যান্ড রিভার্স অনুসমর্থনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পানি আলোচনা শক্তিশালী করবে। বন্যা ব্যবস্থাপনায়, তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে বলেন। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যা প্রতিরোধ ও জনগণের প্রস্তুতির জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমাদের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হতে হবে এবং জনগণের ভাষায় তথ্য পৌঁছাতে হবে, তিনি বলেন।

তিনি অতিরিক্ত বন্যাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা করে কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও পানীয় জলের সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান। আমাদের জনগণ দৃঢ়, কিন্তু শুধু দৃঢ়তা যথেষ্ট নয়। বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে বড় নদীগুলো রক্ষা এবং বন্যা ঝুঁকি কমাতে রিয়েল-টাইম তথ্য শেয়ার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়তে থাকায়, তিনি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। পরিবর্তনের একটি সীমা আছে। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন কমানো না গেলে, আমরা কতটুকু মানিয়ে নিতে পারব? জলবায়ু পরিবর্তন শুধু আমাদের লড়াই নয়, এটি একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) নির্বাহী পরিচালক এস এম মাহবুবুর রহমান, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান, ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং আইসিডব্লিউএফএম ২০২৫-এর আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম তারেকুল ইসলাম।