ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা Logo রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo প্রধান উপদেষ্টার নিকট ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর Logo স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম ও ডিএমপি’র থানা পরিদর্শন Logo ভয়েস ফর জাস্টিস অবজারভার্স টিমের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ Logo বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ জন বিদেশী সাংবাদিক Logo প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আনফ্রেল-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo শুভেচ্ছা’ ও ‘দ্রুত টিকেট’-এর যাত্রা শুরু Logo নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা আইল্যান্ড ইকোপার্ক উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আহত হৃদয়ের মৃত্যু, দাফন সম্পন্ন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • ৫৮৩ বার পড়া হয়েছে

মো: খলিলুর রহমান.বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : শেখ হাসিনা সরকার পতনের আট মাস পূর্ন হওয়ার আগের দিন গতকাল (৪এপ্রিল) শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত মোঃ আশিকুর রহমান হৃদয়ের (১৭) মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার সকাল ৯ টায় জৌতা সরকারী প্রাথমিক মাঠে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম জৌতা গ্রামের রিকশাচালক আনসার উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় অভাবের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রবাড়ি এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সে সময় পুলিশের ভয়ে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পালিয়ে ভারত চলে গেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এ সময় হৃদয়ের মাথার ভিতর থেকে দুটি গুলি বের করা হলেও মাথার ভিতরে থাকা আরো একটি গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায়ই অসুস্থ্যতা বোধ করতেন হৃদয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনেরা। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাতালে নিয়ে যেতে বললেও অর্থাভাবে তাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারেননি পরিবারের লোকজন। পরে শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থাই মারা যান হৃদয়।
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়।এরপর আমার রিক্সা ও গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করেছি। কয়েক মাস অসুস্থ্য থাকায় আবস্থায় থাকলেও কারো কাছ থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। একপর্যায়ে অর্থাভাবে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করতে হলো আমার ছেলেকে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদেরকে সরকারিভাবে যে সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে, হৃদয়ের পরিবারও সে সকল সুবিধা পাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আহত হৃদয়ের মৃত্যু, দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ১০:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

মো: খলিলুর রহমান.বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : শেখ হাসিনা সরকার পতনের আট মাস পূর্ন হওয়ার আগের দিন গতকাল (৪এপ্রিল) শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত মোঃ আশিকুর রহমান হৃদয়ের (১৭) মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার সকাল ৯ টায় জৌতা সরকারী প্রাথমিক মাঠে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম জৌতা গ্রামের রিকশাচালক আনসার উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় অভাবের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রবাড়ি এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সে সময় পুলিশের ভয়ে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পালিয়ে ভারত চলে গেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এ সময় হৃদয়ের মাথার ভিতর থেকে দুটি গুলি বের করা হলেও মাথার ভিতরে থাকা আরো একটি গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায়ই অসুস্থ্যতা বোধ করতেন হৃদয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনেরা। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাতালে নিয়ে যেতে বললেও অর্থাভাবে তাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারেননি পরিবারের লোকজন। পরে শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থাই মারা যান হৃদয়।
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়।এরপর আমার রিক্সা ও গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করেছি। কয়েক মাস অসুস্থ্য থাকায় আবস্থায় থাকলেও কারো কাছ থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। একপর্যায়ে অর্থাভাবে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করতে হলো আমার ছেলেকে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদেরকে সরকারিভাবে যে সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে, হৃদয়ের পরিবারও সে সকল সুবিধা পাবে।