
আলী আহসান রবি : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনকল্যাণমূলক সেবা তৃণমূল পর্যায়ের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর দরজায় পৌঁছে দিতে হবে। তাহলেই মন্ত্রণালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মধুমতি মিলনায়তনে জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৬ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ‘আত্ম অনুসন্ধান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, সুশাসনই আমাদের লক্ষ্য; এ লক্ষ্যে গত দেড় বছরে মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পরিবর্তন করে সুশাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলাম। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রকৃত ভাতা ভোগীদের ডাটাবেজ তৈরি করতে অনেক সময় লেগেছে। প্রকৃত ভাতাভোগীর কাছে ভাতা প্রাপ্তির এতদিন যে ত্রুটি ছিল তা সংশোধন করতে সময় লেগেছে। এতোদিনের অনিয়ম এ সময়ের মধ্যে পুরোপুরি যাচাই-বাছায়ের তালিকা শেষ করতে পারেনি। তবে শুরু করে দিতে পেরেছি এবং ভাতাভোগীর তালিকা ৮০ ভাগ শেষ করতে পেরেছি। তারা নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন। এতিমখানাগুলোর এতিম বাচ্চাদের ডাটাবেজ তৈরি করা উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে সুষ্ঠুভাবে পর্যায়ক্রমে এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ড পৌঁছে দিতে পারবো উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন,হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং যৌনকর্মীদের বাচ্চাদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সাহস থাকতে হবে অনিয়মগুলো তাড়ানোর। মনিটরিং সিস্টেম থাকতে হবে, তাহলে কাজের গুণগত পরিবর্তন বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়ার পথে।
২ জানুয়ারি জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৬ প্রতিবছর উদযাপিত হয়। এবারে বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ঘোষিত ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ (শনিবার) বর্ণাঢ্য ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে।
এ বছর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “প্রযুক্তি ও মমতায়, কল্যাণ ও সমতায়; আস্থা আজ সমাজসেবায়”।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯:৩০ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতিক পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ সাইদুর রহমান খান।
এবারের আয়োজনে গতানুগতিক ধারার বাইরে দুটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব রাখা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল ‘আত্ম-অনুসন্ধান’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেশন, যেখানে সেবামূলক কাজের গভীরতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘যত্নশীল সমাজ: নবীন-প্রবীণ কথোপকথন’। এই পর্বে বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে অভিজ্ঞ প্রবীণদের সেতুবন্ধন তৈরি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজে গতিশীলতা এবং স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা আরো বলেন, রাষ্ট্র মানে শুধু সরকার নয়, রাষ্ট্র মানে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। আমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসেছি যেখানে তরুণরা কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে সমান সুযোগের দাবি জানিয়েছে। মেধার ভিত্তিতেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এখন সেই ন্যায্যতার জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবাগ্রহীতা, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেবা ও কার্যক্রমের ওপর মতামত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এর আওতধীন দপ্তর/সংস্থাসহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব সংবাদ : 




















