ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় শুরু হলো ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর আধুনিকায়ন ও সংস্কার কার্যক্রম।

বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়: ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬০৭ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের অটুট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার সংযোগকারী ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর (মুক্তারপুর সেতু) ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় সেতুর সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা, যা অত্র অঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ সকালে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব ইয়াও ওয়েন (H.E. Yao Wen)। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি দল এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সেতু সচিব বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর এর বিশেষ দিকনির্দেশনায় এবং সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুক্তারপুর সেতুর এই সংস্কার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের দূরদর্শী নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, এই সংস্কারের ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে মুন্সীগঞ্জসহ দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও আধুনিক হবে।

চীন সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সচিব সেতু বিভাগ বলেন, চীন সবসময়ই বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাশে ছিল। এই সংস্কার প্রকল্পটি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ(BRI)-এর আওতায় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ সময় এই সেতু ব্যবহারের ফলে এর যে স্বাভাবিক সংস্কার প্রয়োজন ছিল, তা চীন সরকারের বন্ধুপ্রতিম সহযোগিতার মাধ্যমে শুরু হলো। এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং দুই দেশের আস্থার প্রতীক। চীন সরকারের এই কারিগরি সহযোগিতা আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।

অনুষ্ঠানে সেতু সচিব বলেন, বর্তমানে এই অঞ্চলে ট্রাফিক অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনসাধারণের চাহিদা বিবেচনা করে ২য় মুক্তার সেতু নির্মাণের জন্য চীন সরকারের প্রতি আহবান জানান।

উল্লেখ্য যে, ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এই সংস্কার কাজের মাধ্যমে সেতুর ভারবহন ক্ষমতা বর্তমান সময়ের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে, যা দুই দেশের কারিগরি সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় শুরু হলো ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর আধুনিকায়ন ও সংস্কার কার্যক্রম।

বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়: ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা

আপডেট সময় ০৬:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আলী আহসান রবি : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের অটুট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার সংযোগকারী ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর (মুক্তারপুর সেতু) ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় সেতুর সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা, যা অত্র অঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ সকালে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব ইয়াও ওয়েন (H.E. Yao Wen)। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি দল এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সেতু সচিব বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর এর বিশেষ দিকনির্দেশনায় এবং সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুক্তারপুর সেতুর এই সংস্কার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের দূরদর্শী নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, এই সংস্কারের ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে মুন্সীগঞ্জসহ দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও আধুনিক হবে।

চীন সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সচিব সেতু বিভাগ বলেন, চীন সবসময়ই বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাশে ছিল। এই সংস্কার প্রকল্পটি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ(BRI)-এর আওতায় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ সময় এই সেতু ব্যবহারের ফলে এর যে স্বাভাবিক সংস্কার প্রয়োজন ছিল, তা চীন সরকারের বন্ধুপ্রতিম সহযোগিতার মাধ্যমে শুরু হলো। এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং দুই দেশের আস্থার প্রতীক। চীন সরকারের এই কারিগরি সহযোগিতা আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।

অনুষ্ঠানে সেতু সচিব বলেন, বর্তমানে এই অঞ্চলে ট্রাফিক অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনসাধারণের চাহিদা বিবেচনা করে ২য় মুক্তার সেতু নির্মাণের জন্য চীন সরকারের প্রতি আহবান জানান।

উল্লেখ্য যে, ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এই সংস্কার কাজের মাধ্যমে সেতুর ভারবহন ক্ষমতা বর্তমান সময়ের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে, যা দুই দেশের কারিগরি সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।