ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ গঠনে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর Logo মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর আসাদুল হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত মূল হোতাসহ চারজন গ্রেফতার Logo প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী Logo দান-সহযোগিতায় আলো ছড়ানো সামিউল ইসলাম (পারভেজ) — মানবিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায়, চন্ডিপুরে চেয়ারম্যান পদে লড়ার ঘোষণা Logo মধ্যনগরে দুই লাখ টাকার কাবিখা প্রকল্পে নিম্নমানের বাঁশের সাঁকো নির্মাণের অভিযোগ, এক সপ্তাহেই ঝুঁকিতে চলাচল। Logo বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবে অবতরণ, পৌঁছাল ৪১৯ হজযাত্রী Logo ডিএমপির মিরপুর মডেল থানা ও ডিবির যৌথ অভিযানে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায় ০৫ জন গ্রেফতার Logo রাশিয়ান জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ছাড় সংক্রান্ত সংবাদ বিষয়ে ব্যাখ্যা Logo ভিন্নতার মাঝে ঐক্য স্থাপনই আমাদের মূল নীতি, কোনো বৈষম্য থাকবে না: সংস্কৃতি মন্ত্রী Logo ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা

মধ্যনগরে দুই লাখ টাকার কাবিখা প্রকল্পে নিম্নমানের বাঁশের সাঁকো নির্মাণের অভিযোগ, এক সপ্তাহেই ঝুঁকিতে চলাচল।

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩১ বার পড়া হয়েছে
কাইয়ুম বাদশাহ ,মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন রংপুর–নলগড়া ভাঙা এলাকায় কাবিখা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রকল্পটির কাজ নিয়ে উঠেছে অনিয়ম ও নিম্নমানের অভিযোগ, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকো নির্মাণ ও রাস্তা মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া হয়। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কাজের মান সরকারি বরাদ্দ ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাঁকো নির্মাণে ব্যবহৃত বাঁশগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সাঁকোর বিভিন্ন অংশ ঢিলা হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাঁশ সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ফাঁক, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে করে জনগণের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২ লাখ টাকার কাজ যদি এক সপ্তাহেই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে কোথাও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সভাপতি দাবি করেন, কাজ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি নিজস্ব অর্থও ব্যয় করেছেন। তার ভাষ্য, “কাজের মান নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জানান, নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা মূল্যায়ন করুক। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত টেকসইভাবে সাঁকো পুনর্নির্মাণ করা হোক, যাতে জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
জনপ্রিয় সংবাদ

দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ গঠনে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা

মধ্যনগরে দুই লাখ টাকার কাবিখা প্রকল্পে নিম্নমানের বাঁশের সাঁকো নির্মাণের অভিযোগ, এক সপ্তাহেই ঝুঁকিতে চলাচল।

আপডেট সময় ১০:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
কাইয়ুম বাদশাহ ,মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন রংপুর–নলগড়া ভাঙা এলাকায় কাবিখা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রকল্পটির কাজ নিয়ে উঠেছে অনিয়ম ও নিম্নমানের অভিযোগ, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকো নির্মাণ ও রাস্তা মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া হয়। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কাজের মান সরকারি বরাদ্দ ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাঁকো নির্মাণে ব্যবহৃত বাঁশগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সাঁকোর বিভিন্ন অংশ ঢিলা হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাঁশ সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ফাঁক, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে করে জনগণের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২ লাখ টাকার কাজ যদি এক সপ্তাহেই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে কোথাও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সভাপতি দাবি করেন, কাজ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি নিজস্ব অর্থও ব্যয় করেছেন। তার ভাষ্য, “কাজের মান নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জানান, নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা মূল্যায়ন করুক। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত টেকসইভাবে সাঁকো পুনর্নির্মাণ করা হোক, যাতে জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।