ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রেরণ; পর্যটন, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের সুপারিশ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবানকে Bay of Bengal International Green Tourism Capital” ঘোষণার প্রস্তাবে স্মারকলিপি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫২ বার পড়া হয়েছে

“বিদেশে আর নয় টাকা পাচার, আর নয় বেগমপাড়ায় বাড়ি; দেশেই বিনিয়োগ, দেশেই উন্নয়ন” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান অঞ্চলকে “Bay of Bengal International Green Tourism Capital” হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গ্রীন পলিসি মুভমেন্টের আহ্বায়ক মোঃ মহিউদ্দিন (বন্ধু) প্রণীত এ সংক্রান্ত একটি বিস্তৃত স্মারকলিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অগ্রহায়ণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.৪২.২০০০.০০০.০১১.২১.০০০৯.২৪.৯৭, তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ অনুযায়ী প্রস্তাবনাটি এখন উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্মারকলিপিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্বাহী উপদেষ্টা এবং সেনাপ্রধান পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনে সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

কমিশনের অধীনে প্রস্তাবিত কমিটিসমূহের মধ্যে রয়েছে:
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়, ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট, পরিবেশ ও সবুজায়ন, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ, আইটি ও স্মার্ট সিটি উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) সংক্রান্ত কমিটি।

প্রস্তাবনায় আন্তর্জাতিক মানের একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, স্মার্ট সিটি উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া “স্বপ্নের বাড়ি, স্বপ্নের গ্রাম, স্বপ্নের গ্রীন সিটি” কর্মসূচির মাধ্যমে আধুনিক আবাসন ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত উন্নয়নের প্রধান দিকসমূহ:

আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, মিডিয়া সেন্টার ও শপিং কমপ্লেক্স স্থাপন

আধুনিক ট্যুরিজম জোন ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন

কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান–চট্টগ্রাম পর্যটন রেলপথ নির্মাণ

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ

৬-লেন সড়ক ও নদীপথে পর্যটন লঞ্চ চালু

শিক্ষা খাতে গুচ্ছভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা চালু, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, মহিলা গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে “এক উপজেলা এক পণ্য” ও “এক উপজেলা এক পর্যটন” কর্মসূচি গ্রহণ, ব্লু ইকোনমি উন্নয়ন এবং পাহাড়ি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রেরণ; পর্যটন, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের সুপারিশ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবানকে Bay of Bengal International Green Tourism Capital” ঘোষণার প্রস্তাবে স্মারকলিপি

আপডেট সময় ০৫:২৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

“বিদেশে আর নয় টাকা পাচার, আর নয় বেগমপাড়ায় বাড়ি; দেশেই বিনিয়োগ, দেশেই উন্নয়ন” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান অঞ্চলকে “Bay of Bengal International Green Tourism Capital” হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গ্রীন পলিসি মুভমেন্টের আহ্বায়ক মোঃ মহিউদ্দিন (বন্ধু) প্রণীত এ সংক্রান্ত একটি বিস্তৃত স্মারকলিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অগ্রহায়ণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.৪২.২০০০.০০০.০১১.২১.০০০৯.২৪.৯৭, তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ অনুযায়ী প্রস্তাবনাটি এখন উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্মারকলিপিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্বাহী উপদেষ্টা এবং সেনাপ্রধান পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনে সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

কমিশনের অধীনে প্রস্তাবিত কমিটিসমূহের মধ্যে রয়েছে:
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়, ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট, পরিবেশ ও সবুজায়ন, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ, আইটি ও স্মার্ট সিটি উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) সংক্রান্ত কমিটি।

প্রস্তাবনায় আন্তর্জাতিক মানের একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, স্মার্ট সিটি উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া “স্বপ্নের বাড়ি, স্বপ্নের গ্রাম, স্বপ্নের গ্রীন সিটি” কর্মসূচির মাধ্যমে আধুনিক আবাসন ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত উন্নয়নের প্রধান দিকসমূহ:

আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, মিডিয়া সেন্টার ও শপিং কমপ্লেক্স স্থাপন

আধুনিক ট্যুরিজম জোন ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন

কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান–চট্টগ্রাম পর্যটন রেলপথ নির্মাণ

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ

৬-লেন সড়ক ও নদীপথে পর্যটন লঞ্চ চালু

শিক্ষা খাতে গুচ্ছভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা চালু, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, মহিলা গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে “এক উপজেলা এক পণ্য” ও “এক উপজেলা এক পর্যটন” কর্মসূচি গ্রহণ, ব্লু ইকোনমি উন্নয়ন এবং পাহাড়ি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।