ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি Logo কুমিল্লায় ১৪৫৮ কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করলেন কৃষি মন্ত্রী Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এর  জানাযা সম্পন্ন Logo বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো বৈষম্য নেই: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ  Logo হজযাত্রীদের সেবায় গাফিলতি নয়—হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন Logo বাউফলে ছাত্রদল নেতা সৈকতের মৃত্যুতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির শোক Logo মুজিবনগর দিবস উদযাপনে নেই সরকারি কোন আয়োজন Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বাণিজ্যমন্ত্রীর Logo মোহাম্মদপুরে হত্যাচেষ্টা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২, আরও আসামি ধরতে অভিযান চলছে Logo হজ ফ্লাইটের আগে হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে ধর্মমন্ত্রী, সেবার মান নিশ্চিতের নির্দেশ

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বীর সেনানিদের বীরত্বগাঁথা-২৩

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৬১৯ বার পড়া হয়েছে
মেজর (পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল) মোজাম্মেল হোসেন, বীর প্রতীক, আর্টিলারি (তৎকালীন ইউনিট ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি)
মেজর মোজাম্মেল হোসেন, বীর প্রতীক, আর্টিলারি গত ২৩ ডিসেম্বর ১৯৭৯ তারিখে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি হতে ১ম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের সাথে কমিশন লাভ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি ইউনিটে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে গত ০৩ ডিসেম্বর ১৯৯০ তারিখে গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, সাধারণ এলাকা মেরুং পাড়ার পশ্চিমে সন্ত্রাসীদের আঞ্চলিক পরিচালক ও অস্ত্রসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী একটি বাড়িতে অবস্থান করছে। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ এ দলটি উক্ত এলাকায় সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
সংবাদ প্রাপ্তির পর জোন অধিনায়ক তাৎক্ষণিক অপারেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। মেজর মোজাম্মেল কে অপারেশন দলের অধিনায়ক মনোনীত করে মোট ৩ জন অফিসার সহ একটি এ টাইপ দল গঠন করেন। দলটিকে তিনটি ‘সি’ টাইপ দলে আন্তঃবিভক্ত করা হয় এবং একটির দায়িত্বে থাকেন মেজর মোজাম্মেল হোসেন। অপর ২টি ‘সি’ টাইপের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন আহমেদ ও লেঃ এজাজ। টহলের তিনটি উপদল প্রায় ২ ঘণ্টা পথ চলার পর টার্গেট এলাকার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। টার্গেট টি ছিল নালার পাড়ে পাহাড়ের ঢালুতে জংগলাকীর্ণ এলাকায় সুকৌশলে বিন্যাস্ত একটি ঘর। ঘরটি ঘেরাও সম্পূর্ণ হলে মেজর মোজাম্মেল অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মাত্র দুজন সৈনিক নিয়ে ঘরের বাইরে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদলের প্রহরীর প্রায় ৪/৫ গজের মধ্যে এসে পড়েন। তন্দ্রাজড়িত প্রহরী তড়িঘড়ি করে এসএমসি তুলে গুলি করার চেষ্টা করলে মেজর মোজাম্মেল প্রহরীকে গুলি করেন। তাৎক্ষনিক ভাবেই শুরু হয় দুজন সৈনিক ও মেজর মোজাম্মেল এর সাথে সন্ত্রাসীদের ৪/৫ মিনিটের অনবরত ফায়ার। ঘটনাস্থলে ৩জন সন্ত্রাসী মৃত্যুবরণ করে এবং ২জন আহত হয়।
পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর ১৯৯১ তারিখে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মেজর মোজাম্মেল হোসেন’কে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন।
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বীর সেনানিদের বীরত্বগাঁথা-২৩

আপডেট সময় ০৪:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
মেজর (পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল) মোজাম্মেল হোসেন, বীর প্রতীক, আর্টিলারি (তৎকালীন ইউনিট ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি)
মেজর মোজাম্মেল হোসেন, বীর প্রতীক, আর্টিলারি গত ২৩ ডিসেম্বর ১৯৭৯ তারিখে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি হতে ১ম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের সাথে কমিশন লাভ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি ইউনিটে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে গত ০৩ ডিসেম্বর ১৯৯০ তারিখে গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, সাধারণ এলাকা মেরুং পাড়ার পশ্চিমে সন্ত্রাসীদের আঞ্চলিক পরিচালক ও অস্ত্রসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী একটি বাড়িতে অবস্থান করছে। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ এ দলটি উক্ত এলাকায় সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
সংবাদ প্রাপ্তির পর জোন অধিনায়ক তাৎক্ষণিক অপারেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। মেজর মোজাম্মেল কে অপারেশন দলের অধিনায়ক মনোনীত করে মোট ৩ জন অফিসার সহ একটি এ টাইপ দল গঠন করেন। দলটিকে তিনটি ‘সি’ টাইপ দলে আন্তঃবিভক্ত করা হয় এবং একটির দায়িত্বে থাকেন মেজর মোজাম্মেল হোসেন। অপর ২টি ‘সি’ টাইপের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন আহমেদ ও লেঃ এজাজ। টহলের তিনটি উপদল প্রায় ২ ঘণ্টা পথ চলার পর টার্গেট এলাকার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। টার্গেট টি ছিল নালার পাড়ে পাহাড়ের ঢালুতে জংগলাকীর্ণ এলাকায় সুকৌশলে বিন্যাস্ত একটি ঘর। ঘরটি ঘেরাও সম্পূর্ণ হলে মেজর মোজাম্মেল অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মাত্র দুজন সৈনিক নিয়ে ঘরের বাইরে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদলের প্রহরীর প্রায় ৪/৫ গজের মধ্যে এসে পড়েন। তন্দ্রাজড়িত প্রহরী তড়িঘড়ি করে এসএমসি তুলে গুলি করার চেষ্টা করলে মেজর মোজাম্মেল প্রহরীকে গুলি করেন। তাৎক্ষনিক ভাবেই শুরু হয় দুজন সৈনিক ও মেজর মোজাম্মেল এর সাথে সন্ত্রাসীদের ৪/৫ মিনিটের অনবরত ফায়ার। ঘটনাস্থলে ৩জন সন্ত্রাসী মৃত্যুবরণ করে এবং ২জন আহত হয়।
পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর ১৯৯১ তারিখে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মেজর মোজাম্মেল হোসেন’কে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন।