ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মধ্যনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এর দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন। Logo প্রধানমন্ত্রীর ঈদ বোনাস পেলেন ডিএনসিসির ৩ হাজার ৩২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী Logo গাবতলি বাস টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করলেন আইজিপি ও ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার Logo বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ঘোষণা Logo বাংলাদেশ-ফ্রান্স গভীর ও গতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্নবীকরণ করেছে Logo পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে ডিএসসিসির ঈদ অনুদান হস্তান্তর করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক  Logo উত্তরখানে ঈদগাহ্ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক Logo মধ্যনগরের বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে অসহায় হতদরিদ্র লোকদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ। Logo খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে – আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী Logo ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন সেতু সচিব
নারীর প্রতি সামাজিক ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

সংঘের সঙ্গী সৎ হইলে স্বর্গে বাস, অসৎ হইলে সর্বনাশ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

সৈয়দা রাশিদা বারী

হুম। ফাইন। যত যাই হোক এটাই রাইট। সংঘের সঙ্গী সৎ হইলে স্বর্গে বাস, অসৎ হইলে সর্বনাশ। হ্যাঁ জাহাপনা তাই স্বর্গবাসী অধিকাংশ ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির ছবিই পোস্ট করা বাদ রয়েছে। রমজানের আলাদা ব্যস্ততায় সময় পাই নাই, এনার্জি পাই নাই, ইচ্ছা হয় নাই ইত্যাদি মিলিয়ে। তবে আপনি ভালো জানেন সবকিছু তাই ধন্যবাদ। আমিও জানি। জানলেও বিবেক দিয়ে বুঝেছি যে অশ্লীল তো নয় যখন। সবকিছু শিক্ষক এবং বইয়ের পাতা থেকে অর্জন উপলব্ধি করে নিতে হবে, আর তা না হলে মন্দ কিছু সেটাও কথা নয়। ভালো কোন বিষয়ও নয়। পথ চলতে কারো গায়ে পা লেগে গেলে অথবা বইপত্রে পা লাথি লাগলে, সরি বলা চুমু খাওয়া এটা কোন বইতে লেখা নাই। এটা নিয়ে কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসও হয় না। কুরআনের কোন পাতায়ও নির্দেশনা দেয়া নাই। তাই এটা করলে গুনাহ হবে সেটাও নয়। আল্লাহর ঘরে যেতে গেলেও ছবি জমা দেয়া লাগে। ছবি যদি এতই খারাপ জিনিস তাহলে এখানে জমা নিত না। তাছাড়া ছবি জমা নেওয়া এটা কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ নাই। তবে আপনি যা বলেছেন, দেশ সমাজ মানুষের উন্নয়ন উন্নতির জন্য, এই ধরনের সুন্দর উপদেশ এবং আদেশ নির্দেশ যেটাই হোক, এদেশের ধর্ষকদের জন্য প্রয়োগ করতে পারেন। যেটা আর কি চলন্ত রানিং উপনিবেশ থেকে থামানো খুবই জরুরী। থামালে তাহলে সত্যিই সবকিছু ভালো থাকবে। রোজা রমজানের দিনেও টুপি মাথায় দাড়ি মুখে জুব্বা গায়ে যেসব ব্যক্তিত্বদের দ্বারা এইগুলো ঘটছে, বিশেষ করে তাদেরকে দিতে পারেন। তাদেরকে ধর্ষণের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারেন। নিশ্চয়ই ওই বেশ ধরে, তারা রোজা না রেখে, এটা করছে! রমজানের অবমাননা তাদেরকে ছাড় দিবেন না মোটেও। শিশুর আবার কিসের পর্দা? পর্দা বলে কোন কথা নয়। ওটা তাদের স্বভাব দোষ। পর্দার দোষ দেওয়া এটা তাদের ঠুটোমো। চুপার জোর জুলুম। ওরা যেকোনো বয়সের নারী তথা শিশুকেও ছাড়ে না, ওদের কোন সুন্দরী চেহারা লাগেনা। যদি ওদের মানে ধর্ষকদের, ধর্ষক ধর্ষণমুক্ত করতে পারেন, নষ্টামি থেকে শলাতে পারেন, তাহলে আপনার উপদেশে, বহু কিছুর সৃজনশীলতা বেড়ে, ধন্য হবে আমাদের যাপিত জীবন তথা প্রসারিত হবে জান্নাতি দরবার ইসলামী কুল অনুকূল চেতনার বিশ্বাস এবং মুসলমানের নীতি আদর্শ। এর জন্য তো অন্য বংশের কাছে ইসলাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মুসলমান বংশের মুখ উজ্জল থাকে না। মুখ ছোট হয়। কলঙ্কিত শব্দ নাইবা বললাম। তাই আর কি পূর্ণতা পাবে স্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জাতি মানব কুল এবং ইসলাম ধর্ম। মন খারাপ করবেন না। আমি কষ্ট দেয়ার জন্য বললাম না। আমি কাউকে এবং কোন কিছুকে ইন্ডিকেট করে ছোট করার জন্যও বললাম না। আমি আসলেই পুরুষের বেসামাল খপ্পড় থেকে নারীর মুক্তি, নারীর নিরাপদ জীবনমান সমাজে প্রতিষ্ঠা হওয়া চাই। আমার চাই না, আমার কিচ্ছু চাই না, আমার তো জীবন শেষই হয়ে গেছে! আর আমার কন্যা সন্তান নাই। যে সেই কন্যার স্বার্থে বলবো। আমার তো যা ক্ষতির তা ক্ষতি সাধিত হয়েই গেছে! জীবনে সবই ফিরে পাওয়া যায় কিন্তু দুদিনের পৃথিবীতে, জীবন থেকে যা সময় যায়, তা আর কখনো ফিরে না! সময় নষ্ট হওয়া ক্ষতি কেউ কখনো পুষিয়ে দিতেও পারে না। টাকায় তো আর সব কিছু হয় না। আমি সব পুরুষকে বলছি না। আর আমাকে কোন পুরুষ ক্ষতিও করে নাই যে তার উপরে প্রতিক্রিয়া থাকবে। তবু পুরুষ জাতি বলেই বলতে হয়। চারিদিকের নারী জাতির হাহাকার সমস্যা ব্যর্থতা দেখে মুখ চুপ রাখাকেউ অন্যায় মনে করি। অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে একই দাঁত প্রান্তর যেহেতু অন্যায়। পুরুষ জাতি মনে করে, সমাজের সকল ভালো কিছু শুধু পুরুষের জন্য আল্লাহ বরাদ্দ দিয়েছেন। মাতা পিতার সম্পদ সম্পত্তি পুরুষের যেহেতু দুই ভাগ, সূরা নিসার বলোনা নির্ধারিত নির্দেশ। এই সুযোগটাই অবিবেচকের মত পুরুষ, সব সেক্টরে নিয়েছে। পুরুষের দুই ভাগ নারীর এক ভাগ, এই সুযোগ নিয়ে পুরুষ কি করে? পৃথিবীর ভালো ভালো সব কিছু ধুমছে হাতিয়ে নেয়। গোগ্রাসে লুফে নেয় অবিচারক হয়ে। সকল সিট একাই দখল করে। নারীকে যা দেয় সেটা নেহায়েত বাধ্য হয়ে। দেখবেন বাস গুলোর সার্ভিস পরীক্ষা করে, এই রোজা রমজানেও কি দুরবস্থা! সিটগুলো পুরুষ দিয়ে পূর্ণ করে, বাস থামায় এবং বলে নারীর সিট নাই! মনের মত পুরুষকে বাসে তুলে নিয়ে, নারীকে ঠেলা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে, বাস ছেড়ে দেয়!!! ভাইরে আল্লাহ কি বাসের ছিটও পুরুষকে সব এবং বেশি নিতে বলেছেন??? বিবেক কোথায় আছে পুরুষের??? আচ্ছা ঠিক আছে বাসের সিট, দুইভাগ নিয়ে নারীকে একভাগই দিক বাবা মায়ের সম্পদ নেয়ার মতো। সেটাও কি করতে পারে না?? দুইভাগ পুরুষ নিয়ে নারীর একভাগই রাখবে। মেট্রোরেলেও দেখবেন নারী যাত্রীর জন্য বগি কত কম দিয়েছে। একেবারে ঠাসাঠাসি হয়ে যায়। কেন আর একটা করে বগি বেশি দিলে তো নারী একটু রিলাক্সে চলতে পারে। পুরুষের কি অতই বেশি দিতে হয় নাকি? বাসগুলোতে নারী থাকলে পুরুষ বিবেক করে হিসাব মত সিট ছেড়ে দেবে। না থাকলে পুরুষরাই বসবেন সমস্যা তো নাই? কিন্তু একেবারেই নারীর উপরে অন্যায় করা, এটা কেমন? এখানে বাসে অন্যায় আরো আছে। ইঞ্জিনের সিট অস্বাভাবিক ওইগুলো নারীর জন্য রাখে! বাস এক্সিডেন্ট করলেও যেটা আগে ধ্বংস হবে। এবং হেলান দেওয়া যায় না চোখ বন্ধ করে ঘুমানো যায় না। বাড়িতেও পুরুষ সুখ করে। বাসের মধ্যে এসেও ঘুমায়। নারী বাড়িতেও কষ্ট করে। বাসের মধ্যে বসেও ….! কেন আরামদায়ক সিটগুলো থেকেও অন্তত তারা দুই ভাগ নিয়ে, নারীকে একভাগ দিয়ে, নারী যদি সেই ভাগ অনুপাতে বেশি ওঠে, তাহলে নারীও সিট পাবে না আর। নারীও দাঁড়িয়ে থাক কিন্তু ওই পর্যন্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরুষই দাঁড়াবে। এটাই কিন্তু ন্যায় কথা এবং আইন হওয়া উচিত। এটা বিবেকের বিষয়। বিবেকের আইন আদালতের থেকে তো আর আইনের আদালত বড় নয়। আইন আদালত মানুষের নিরাপত্তা দিতে এবং সুখের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। আইন আদালতের জন্য মানুষ সৃষ্টি হয়নি। এবং মানুষ শুধু পুরুষ নয়, মানুষ নারীও। পুরুষ কেন ভালো ভালো সকল সেক্টর একাই দখলদারিত্ব করতে চাই? করে। এযাবতকালের জাতীয় পুরস্কারগুলোও সনাক্ত করে দেখুন তো? একুশে স্বাধীনতা বাংলা একাডেমী প্রভৃতি। কেন পুরুষ এত বেশি নিয়ে রেখেছে? আধা আধি করতে সমস্যা কি!? মেধা মনন জ্ঞান ধ্যান বিদ্যাবুদ্ধি ধৈর্য যোগ্যতা পারদর্শিতা ত্যাগ প্রভৃতি অধ্যাবসায়ে পুরুষ কি নারীর থেকে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন এবং ক্ষমতার অধিকারী? কিভাবে সেটা সম্ভব? এখানেও এত জুলুম এত বৈষম্য কেন হয় পুরুষ কর্তৃক? বলছি আমার জন্য নয়। আমি চাইনা এসব কিছু। আমি নতুন প্রজন্ম নারীদের কথা ভেবেই যা কিছু বলি। যুগে যুগে পুরুষ একই রকম ভাবে আল্লাহর দোষ দিয়ে, ইসলাম দেখিয়ে শুধু নারীকে শোষণ করে এবং ঠকাই! অন্য কিছুর বেলায় তো এত কড়াকড়ি নিয়ম নির্ধারণ রাখে না?? নারীর মনের উপরে জোর জুলুম অত্যাচার চাপিয়ে তারা আনন্দ উপভোগ করে! নিষেধ বারণ নারীর সুযোগ-সুবিধার উপর এত খাটাই। ওদের ধর্ষণের উপর তো খাটাই না?! বলেছি তো আমি সবাইকে বলছি না। কিন্তু পুরুষ নামের দুই পায়া মানুষগুলো অন্যায় স্বাধীনতা শালীনতাই রূপ নেয়! অবশ্যই অধিকার এবং করুণা এক নয়! পুরুষ নারীকে করুণা করে ভালো থাকার ক্ষেত্রে ভালো রাখার ক্ষেত্রে ঠিক আছে! দয়া মায়া দেখায় ঠিক আছে! কিন্তু পুরুষ নিজেরা রাখে অধিকার! কর্তৃত্ব নেতৃত্ব!অধিকারের বল আর করুনার প্রয়োগ ব্যাপারটা উল্টিয়ে পুরুষের উপর মনজুর করা প্রয়োজন। অসম্ভব সহ্য করার নয় বলেই পুরুষ সেটা নিজেদের উপর প্রয়োগ করে না। পুরুষ শাসিত সমাজ যতকাল চলছে! নারীর পাওনা রয়েছে, নারী শাসিত সমাজ হয়ে সেটা পুষিয়ে নেওয়া এবং পুরুষের সেটা বুঝিয়ে দেওয়া। এক পক্ষীয় একক সুখে তারা বুঝতেই পারেনা নারীর কষ্ট। নারী যে রক্তে মাংসে গড়া মানুষ তাও স্বীকার করতে চায় না। নারীর কষ্টের কথাও চাইনা শুনতে। যুক্তি তর্কে বুঝাতে গেলেও, ভাবে বিধর্মী। বিধর্মী বলে গালি দেয়। শাস্তি দেয়। ইত্যাদি। যত ধর্মী উনারা তাই ধর্ষণ করে। শিশু ধর্ষণ যেন অন্যায় নয়। পুরুষের এটা যেন ন্যায় সঙ্গত ভালো কাজ। কেন হলো না নারী শাসিত সমাজ? পুরুষ শাসিত সমাজ তারা প্রতিষ্ঠা করে, যত অন্যায় নারীর উপর চাপিয়ে দিয়েছে পবিত্র এবং শ্রদ্ধেয় কোরআনের নির্দেশ বলে। সন্তান প্রজন্ম পৃথিবীতে আনতে, মহান আল্লাহ নারীকে বড় দায়িত্ব কষ্টের দায়িত্ব দিয়েছেন। পুরুষের দিয়েছেন সুখ। এর জন্য সমাজের অন্যান্য সব সুখ সব সুযোগ সুবিধা নারীর বেশি দেওয়া উচিত এবং প্রযোজ্য ছিল তাহলেও গড়ে এক হতো। পুরুষ সেটা না করে, আল্লাহর সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেরাও হাতিয়ে নিয়েছে সকল সুখ! নিজেদের হাতের দুনিয়ার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নারীকে একেবারেই দেয়নি!! একেবারেই বঞ্চিত করেছে!! বাধ্য রাখতে যাযা করার হাতিয়ে নেওয়ার কোথাও  কিছু বাদ দেই নাই। কানায় কানায় পূর্ণ করে নিয়েছে সুবিধাবাদী পুরুষ! কি ভয়ংকর পুরুষের এই রুপ চেহারা! আরো দেখবেন নারীর উন্নয়ন উন্নতিতে পুরুষের মুখ কালো হয়! শুধু দোযখ বেহেশত টেনে এনে ভয় দেখায়। তো পুরুষের ধর্ষণের থেকেও কি এটা খারাপ নাকি? তাদের দোযখ বেহেস্ত দেখিয়ে ভয় দেখাতে পারে না? হ্যাঁ নারীর কষ্টে পুরুষ করুণা দেখায়! অধিকার দেয় না করুণা দেয়! নারীর প্রতি পুরুষের উপর উপর এই ভালোবাসা দেখানোও দরকার নাই সৃজনশীল এবং সচেতন নারীরা মনে মনে সেটাই ভাবেন! তাই সব সময় পুরুষ বোকা নারীকে খুব পছন্দ করে! প্রশংসা করে ভালবাসে! ওদিকে সৃজনশীল এবং সচেতন নারীকে খারাপ জানে! মন্দ বলে! ধর্মদ্রোহী পুরুষদ্রোহী সমাজবিদ্বেষী তো বলেই ইত্যাদি ইত্যাদি! সৎ ইচ্ছা নিয়ে এটা গবেষণা করলে যে কেউ বুঝবেন। আপনিও বুঝবেন। এবার আনকমন বইমেলার এই রমজানের পণ হোক বিপরীত, যেটা সত্যি এবং মহৎ সত্যি। সঙ্গের সঙ্গী সৎ হইলে স্বর্গে বাস, অসৎ হইলে সর্বনাশ। সমাজে দেশে যে মানুষের আরকি খুবই অভাব। এই অভাব দূর হোক। মহান আল্লাহ এই রমজানে সকল মানুষের ভালো থাকার, ভালো রাখার তৌফিক বরাদ্দ করুন। আমীন।

৭.৩.২০২৬ ইং, দুপুর ১টা, শনিবার।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এর দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন।

নারীর প্রতি সামাজিক ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

সংঘের সঙ্গী সৎ হইলে স্বর্গে বাস, অসৎ হইলে সর্বনাশ

আপডেট সময় ১০:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

সৈয়দা রাশিদা বারী

হুম। ফাইন। যত যাই হোক এটাই রাইট। সংঘের সঙ্গী সৎ হইলে স্বর্গে বাস, অসৎ হইলে সর্বনাশ। হ্যাঁ জাহাপনা তাই স্বর্গবাসী অধিকাংশ ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির ছবিই পোস্ট করা বাদ রয়েছে। রমজানের আলাদা ব্যস্ততায় সময় পাই নাই, এনার্জি পাই নাই, ইচ্ছা হয় নাই ইত্যাদি মিলিয়ে। তবে আপনি ভালো জানেন সবকিছু তাই ধন্যবাদ। আমিও জানি। জানলেও বিবেক দিয়ে বুঝেছি যে অশ্লীল তো নয় যখন। সবকিছু শিক্ষক এবং বইয়ের পাতা থেকে অর্জন উপলব্ধি করে নিতে হবে, আর তা না হলে মন্দ কিছু সেটাও কথা নয়। ভালো কোন বিষয়ও নয়। পথ চলতে কারো গায়ে পা লেগে গেলে অথবা বইপত্রে পা লাথি লাগলে, সরি বলা চুমু খাওয়া এটা কোন বইতে লেখা নাই। এটা নিয়ে কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসও হয় না। কুরআনের কোন পাতায়ও নির্দেশনা দেয়া নাই। তাই এটা করলে গুনাহ হবে সেটাও নয়। আল্লাহর ঘরে যেতে গেলেও ছবি জমা দেয়া লাগে। ছবি যদি এতই খারাপ জিনিস তাহলে এখানে জমা নিত না। তাছাড়া ছবি জমা নেওয়া এটা কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ নাই। তবে আপনি যা বলেছেন, দেশ সমাজ মানুষের উন্নয়ন উন্নতির জন্য, এই ধরনের সুন্দর উপদেশ এবং আদেশ নির্দেশ যেটাই হোক, এদেশের ধর্ষকদের জন্য প্রয়োগ করতে পারেন। যেটা আর কি চলন্ত রানিং উপনিবেশ থেকে থামানো খুবই জরুরী। থামালে তাহলে সত্যিই সবকিছু ভালো থাকবে। রোজা রমজানের দিনেও টুপি মাথায় দাড়ি মুখে জুব্বা গায়ে যেসব ব্যক্তিত্বদের দ্বারা এইগুলো ঘটছে, বিশেষ করে তাদেরকে দিতে পারেন। তাদেরকে ধর্ষণের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারেন। নিশ্চয়ই ওই বেশ ধরে, তারা রোজা না রেখে, এটা করছে! রমজানের অবমাননা তাদেরকে ছাড় দিবেন না মোটেও। শিশুর আবার কিসের পর্দা? পর্দা বলে কোন কথা নয়। ওটা তাদের স্বভাব দোষ। পর্দার দোষ দেওয়া এটা তাদের ঠুটোমো। চুপার জোর জুলুম। ওরা যেকোনো বয়সের নারী তথা শিশুকেও ছাড়ে না, ওদের কোন সুন্দরী চেহারা লাগেনা। যদি ওদের মানে ধর্ষকদের, ধর্ষক ধর্ষণমুক্ত করতে পারেন, নষ্টামি থেকে শলাতে পারেন, তাহলে আপনার উপদেশে, বহু কিছুর সৃজনশীলতা বেড়ে, ধন্য হবে আমাদের যাপিত জীবন তথা প্রসারিত হবে জান্নাতি দরবার ইসলামী কুল অনুকূল চেতনার বিশ্বাস এবং মুসলমানের নীতি আদর্শ। এর জন্য তো অন্য বংশের কাছে ইসলাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মুসলমান বংশের মুখ উজ্জল থাকে না। মুখ ছোট হয়। কলঙ্কিত শব্দ নাইবা বললাম। তাই আর কি পূর্ণতা পাবে স্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জাতি মানব কুল এবং ইসলাম ধর্ম। মন খারাপ করবেন না। আমি কষ্ট দেয়ার জন্য বললাম না। আমি কাউকে এবং কোন কিছুকে ইন্ডিকেট করে ছোট করার জন্যও বললাম না। আমি আসলেই পুরুষের বেসামাল খপ্পড় থেকে নারীর মুক্তি, নারীর নিরাপদ জীবনমান সমাজে প্রতিষ্ঠা হওয়া চাই। আমার চাই না, আমার কিচ্ছু চাই না, আমার তো জীবন শেষই হয়ে গেছে! আর আমার কন্যা সন্তান নাই। যে সেই কন্যার স্বার্থে বলবো। আমার তো যা ক্ষতির তা ক্ষতি সাধিত হয়েই গেছে! জীবনে সবই ফিরে পাওয়া যায় কিন্তু দুদিনের পৃথিবীতে, জীবন থেকে যা সময় যায়, তা আর কখনো ফিরে না! সময় নষ্ট হওয়া ক্ষতি কেউ কখনো পুষিয়ে দিতেও পারে না। টাকায় তো আর সব কিছু হয় না। আমি সব পুরুষকে বলছি না। আর আমাকে কোন পুরুষ ক্ষতিও করে নাই যে তার উপরে প্রতিক্রিয়া থাকবে। তবু পুরুষ জাতি বলেই বলতে হয়। চারিদিকের নারী জাতির হাহাকার সমস্যা ব্যর্থতা দেখে মুখ চুপ রাখাকেউ অন্যায় মনে করি। অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে একই দাঁত প্রান্তর যেহেতু অন্যায়। পুরুষ জাতি মনে করে, সমাজের সকল ভালো কিছু শুধু পুরুষের জন্য আল্লাহ বরাদ্দ দিয়েছেন। মাতা পিতার সম্পদ সম্পত্তি পুরুষের যেহেতু দুই ভাগ, সূরা নিসার বলোনা নির্ধারিত নির্দেশ। এই সুযোগটাই অবিবেচকের মত পুরুষ, সব সেক্টরে নিয়েছে। পুরুষের দুই ভাগ নারীর এক ভাগ, এই সুযোগ নিয়ে পুরুষ কি করে? পৃথিবীর ভালো ভালো সব কিছু ধুমছে হাতিয়ে নেয়। গোগ্রাসে লুফে নেয় অবিচারক হয়ে। সকল সিট একাই দখল করে। নারীকে যা দেয় সেটা নেহায়েত বাধ্য হয়ে। দেখবেন বাস গুলোর সার্ভিস পরীক্ষা করে, এই রোজা রমজানেও কি দুরবস্থা! সিটগুলো পুরুষ দিয়ে পূর্ণ করে, বাস থামায় এবং বলে নারীর সিট নাই! মনের মত পুরুষকে বাসে তুলে নিয়ে, নারীকে ঠেলা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে, বাস ছেড়ে দেয়!!! ভাইরে আল্লাহ কি বাসের ছিটও পুরুষকে সব এবং বেশি নিতে বলেছেন??? বিবেক কোথায় আছে পুরুষের??? আচ্ছা ঠিক আছে বাসের সিট, দুইভাগ নিয়ে নারীকে একভাগই দিক বাবা মায়ের সম্পদ নেয়ার মতো। সেটাও কি করতে পারে না?? দুইভাগ পুরুষ নিয়ে নারীর একভাগই রাখবে। মেট্রোরেলেও দেখবেন নারী যাত্রীর জন্য বগি কত কম দিয়েছে। একেবারে ঠাসাঠাসি হয়ে যায়। কেন আর একটা করে বগি বেশি দিলে তো নারী একটু রিলাক্সে চলতে পারে। পুরুষের কি অতই বেশি দিতে হয় নাকি? বাসগুলোতে নারী থাকলে পুরুষ বিবেক করে হিসাব মত সিট ছেড়ে দেবে। না থাকলে পুরুষরাই বসবেন সমস্যা তো নাই? কিন্তু একেবারেই নারীর উপরে অন্যায় করা, এটা কেমন? এখানে বাসে অন্যায় আরো আছে। ইঞ্জিনের সিট অস্বাভাবিক ওইগুলো নারীর জন্য রাখে! বাস এক্সিডেন্ট করলেও যেটা আগে ধ্বংস হবে। এবং হেলান দেওয়া যায় না চোখ বন্ধ করে ঘুমানো যায় না। বাড়িতেও পুরুষ সুখ করে। বাসের মধ্যে এসেও ঘুমায়। নারী বাড়িতেও কষ্ট করে। বাসের মধ্যে বসেও ….! কেন আরামদায়ক সিটগুলো থেকেও অন্তত তারা দুই ভাগ নিয়ে, নারীকে একভাগ দিয়ে, নারী যদি সেই ভাগ অনুপাতে বেশি ওঠে, তাহলে নারীও সিট পাবে না আর। নারীও দাঁড়িয়ে থাক কিন্তু ওই পর্যন্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরুষই দাঁড়াবে। এটাই কিন্তু ন্যায় কথা এবং আইন হওয়া উচিত। এটা বিবেকের বিষয়। বিবেকের আইন আদালতের থেকে তো আর আইনের আদালত বড় নয়। আইন আদালত মানুষের নিরাপত্তা দিতে এবং সুখের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। আইন আদালতের জন্য মানুষ সৃষ্টি হয়নি। এবং মানুষ শুধু পুরুষ নয়, মানুষ নারীও। পুরুষ কেন ভালো ভালো সকল সেক্টর একাই দখলদারিত্ব করতে চাই? করে। এযাবতকালের জাতীয় পুরস্কারগুলোও সনাক্ত করে দেখুন তো? একুশে স্বাধীনতা বাংলা একাডেমী প্রভৃতি। কেন পুরুষ এত বেশি নিয়ে রেখেছে? আধা আধি করতে সমস্যা কি!? মেধা মনন জ্ঞান ধ্যান বিদ্যাবুদ্ধি ধৈর্য যোগ্যতা পারদর্শিতা ত্যাগ প্রভৃতি অধ্যাবসায়ে পুরুষ কি নারীর থেকে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন এবং ক্ষমতার অধিকারী? কিভাবে সেটা সম্ভব? এখানেও এত জুলুম এত বৈষম্য কেন হয় পুরুষ কর্তৃক? বলছি আমার জন্য নয়। আমি চাইনা এসব কিছু। আমি নতুন প্রজন্ম নারীদের কথা ভেবেই যা কিছু বলি। যুগে যুগে পুরুষ একই রকম ভাবে আল্লাহর দোষ দিয়ে, ইসলাম দেখিয়ে শুধু নারীকে শোষণ করে এবং ঠকাই! অন্য কিছুর বেলায় তো এত কড়াকড়ি নিয়ম নির্ধারণ রাখে না?? নারীর মনের উপরে জোর জুলুম অত্যাচার চাপিয়ে তারা আনন্দ উপভোগ করে! নিষেধ বারণ নারীর সুযোগ-সুবিধার উপর এত খাটাই। ওদের ধর্ষণের উপর তো খাটাই না?! বলেছি তো আমি সবাইকে বলছি না। কিন্তু পুরুষ নামের দুই পায়া মানুষগুলো অন্যায় স্বাধীনতা শালীনতাই রূপ নেয়! অবশ্যই অধিকার এবং করুণা এক নয়! পুরুষ নারীকে করুণা করে ভালো থাকার ক্ষেত্রে ভালো রাখার ক্ষেত্রে ঠিক আছে! দয়া মায়া দেখায় ঠিক আছে! কিন্তু পুরুষ নিজেরা রাখে অধিকার! কর্তৃত্ব নেতৃত্ব!অধিকারের বল আর করুনার প্রয়োগ ব্যাপারটা উল্টিয়ে পুরুষের উপর মনজুর করা প্রয়োজন। অসম্ভব সহ্য করার নয় বলেই পুরুষ সেটা নিজেদের উপর প্রয়োগ করে না। পুরুষ শাসিত সমাজ যতকাল চলছে! নারীর পাওনা রয়েছে, নারী শাসিত সমাজ হয়ে সেটা পুষিয়ে নেওয়া এবং পুরুষের সেটা বুঝিয়ে দেওয়া। এক পক্ষীয় একক সুখে তারা বুঝতেই পারেনা নারীর কষ্ট। নারী যে রক্তে মাংসে গড়া মানুষ তাও স্বীকার করতে চায় না। নারীর কষ্টের কথাও চাইনা শুনতে। যুক্তি তর্কে বুঝাতে গেলেও, ভাবে বিধর্মী। বিধর্মী বলে গালি দেয়। শাস্তি দেয়। ইত্যাদি। যত ধর্মী উনারা তাই ধর্ষণ করে। শিশু ধর্ষণ যেন অন্যায় নয়। পুরুষের এটা যেন ন্যায় সঙ্গত ভালো কাজ। কেন হলো না নারী শাসিত সমাজ? পুরুষ শাসিত সমাজ তারা প্রতিষ্ঠা করে, যত অন্যায় নারীর উপর চাপিয়ে দিয়েছে পবিত্র এবং শ্রদ্ধেয় কোরআনের নির্দেশ বলে। সন্তান প্রজন্ম পৃথিবীতে আনতে, মহান আল্লাহ নারীকে বড় দায়িত্ব কষ্টের দায়িত্ব দিয়েছেন। পুরুষের দিয়েছেন সুখ। এর জন্য সমাজের অন্যান্য সব সুখ সব সুযোগ সুবিধা নারীর বেশি দেওয়া উচিত এবং প্রযোজ্য ছিল তাহলেও গড়ে এক হতো। পুরুষ সেটা না করে, আল্লাহর সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেরাও হাতিয়ে নিয়েছে সকল সুখ! নিজেদের হাতের দুনিয়ার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নারীকে একেবারেই দেয়নি!! একেবারেই বঞ্চিত করেছে!! বাধ্য রাখতে যাযা করার হাতিয়ে নেওয়ার কোথাও  কিছু বাদ দেই নাই। কানায় কানায় পূর্ণ করে নিয়েছে সুবিধাবাদী পুরুষ! কি ভয়ংকর পুরুষের এই রুপ চেহারা! আরো দেখবেন নারীর উন্নয়ন উন্নতিতে পুরুষের মুখ কালো হয়! শুধু দোযখ বেহেশত টেনে এনে ভয় দেখায়। তো পুরুষের ধর্ষণের থেকেও কি এটা খারাপ নাকি? তাদের দোযখ বেহেস্ত দেখিয়ে ভয় দেখাতে পারে না? হ্যাঁ নারীর কষ্টে পুরুষ করুণা দেখায়! অধিকার দেয় না করুণা দেয়! নারীর প্রতি পুরুষের উপর উপর এই ভালোবাসা দেখানোও দরকার নাই সৃজনশীল এবং সচেতন নারীরা মনে মনে সেটাই ভাবেন! তাই সব সময় পুরুষ বোকা নারীকে খুব পছন্দ করে! প্রশংসা করে ভালবাসে! ওদিকে সৃজনশীল এবং সচেতন নারীকে খারাপ জানে! মন্দ বলে! ধর্মদ্রোহী পুরুষদ্রোহী সমাজবিদ্বেষী তো বলেই ইত্যাদি ইত্যাদি! সৎ ইচ্ছা নিয়ে এটা গবেষণা করলে যে কেউ বুঝবেন। আপনিও বুঝবেন। এবার আনকমন বইমেলার এই রমজানের পণ হোক বিপরীত, যেটা সত্যি এবং মহৎ সত্যি। সঙ্গের সঙ্গী সৎ হইলে স্বর্গে বাস, অসৎ হইলে সর্বনাশ। সমাজে দেশে যে মানুষের আরকি খুবই অভাব। এই অভাব দূর হোক। মহান আল্লাহ এই রমজানে সকল মানুষের ভালো থাকার, ভালো রাখার তৌফিক বরাদ্দ করুন। আমীন।

৭.৩.২০২৬ ইং, দুপুর ১টা, শনিবার।